প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ হাসিনা সম্মোহনী নেতা

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন:শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক পেয়েছে, আরও অনেক বেশি পেতে চায়। তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন। ৬ বছর ছিলেন নির্বাসনে। তাঁর বাংলাদেশে ফিরে আসার মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার সূচনা হয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের গন্তব্যে আমরা এখনো পৌঁছাইনি। তবে ক্রটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও আমরা সে পথেই আছি। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে বিশে^র বিস্ময় এখন বাংলাদেশ। কারণ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয়ী বিশে^র বিমুগ্ধ বিস্ময় কেড়েছিলাম। এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আরেকবার প্রমাণ করলো বাংলাদেশ বিশে^র বিস্ময়। বাংলাদেশের এই পরিবর্তনটি হয়েছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বে থাকার কারণে। তবে তাঁর নেতৃত্বে সামনে এখনো বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে অনেকটাই সরে যাওয়া অনাকাক্সিক্ষত। আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যেন শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে অনেক, ফলে আমরা বিশে^র দৃষ্টি কেড়েছি। কিন্তু এখনো সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়নি হয়নি। সমতাভিত্তিক উন্নয়ন অর্জন শেখ হাসিনার সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ বটে। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশের প্রথম সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাধীনতার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিলো তিনটি বিষয়। [১] সাম্য [২] মানবিক মর্যাদা [৩] সামাজিক ন্যায়বিচার। এসব বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় বাহাত্তরের সংবিধান রচিত হয়েছিলো। এখনো সেই সমতা আমরা অর্জন করতে পারিনি। এসব লক্ষ্য অর্জনে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে আরও শ্রম দিতে হবে। সময় দিতে হবে।

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আছেন প্রায় চার দশক ধরে। একইসঙ্গে তিনি গত বারো বছর যাবৎ বাংলাদেশকেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনা করেছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা একজন সম্মোহনী নেতা। তবে তাঁর সম্মোহন অনেকটা আহরিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে যে সম্মোহন ক্ষমতা ছিলো, সেটাই তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। সে কারণেই তাঁর নেতৃত্বের ভিত অনেক শক্ত। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন নিজের সম্মোহনি কিছু বৈশিষ্ট্য।

বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি সাহসী। উপরন্তু উদ্ভাবনী একজন মানুষ। তবে একটা জায়গায় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর মধ্যে কিছুটা চিন্তাগত পার্থক্য আছে। বঙ্গবন্ধু নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপোস করেননি। কিন্তু শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কারণে মাঝেমধ্যে কিছুটা আপোস করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরে এসে রাজনৈতিক স্বার্থে আপোস করতেও আমরা দেখেছি। তবে সামগ্রিকভাবে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর কাছে আমরা অনেক ঋণী।

কারণ তিনি বঙ্গবন্ধুহত্যার বিচার করেছেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ^াস করিÑ বিচারটি আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। কারণ খুনিদের শুধু বিচার হয়েছে, ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হয়নি। আমি মনে করছিÑ একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিশন গঠন করে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। আমরা চাই অনতিবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দলের সরকার এই কাজটি করবেও না।

আমরা চাইও না এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশেবিরোধী কোনো দল বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুক। তবে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাবো তাঁর সাহসের জন্য। সাহসটা হচ্ছে তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। বিশ^ব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দেয়, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন দেশের জনগণের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করার। পদ্মা সেতু জনগণের টাকায় নির্মাণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের টাকা নয়। তবে পদ্মা সেতু নির্মাণের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের। এটা বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করেন। কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাবো বাংলাদেশের মানুষকে। তবে সাহসী সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।

মেট্রোরেল প্রকল্প চালু করা হয়েছে। মেট্রোরেল নির্মাণে যে বিশাল অংকের টাকা ব্যয় করা হয়েছে, সেই টাকাও জনগণের। এ ব্যাপারে অনেক সতর্ক হওয়া দরকার ছিলো। কেননা ঢাকা শহরের যানজট মেট্রোরেলে কমবে না, এটা প্রায় নিশ্চত। সেটার যৌক্তিক কারণও আছে। তবে গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষদের ঘর বানিয়ে দেওয়া ছিলো শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন। এটাও জনগণের টাকায়। জনগণের টাকা যে জনগণের কাছে ফেরত যাচ্ছে, এতে আমি আনন্দিত। তবে মহতী এই প্রকল্পে যে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছেÑ সেই কিছুটা দুর্নীতিও কেন হবে? আমরা সংবাদ মাধ্যমে জেনেছিÑ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষেরা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও ঘুষ পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছে ঘর পেতে। ঘর ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে যারা দোষী ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা জানতে চাই। কারণ গণতন্ত্র মানে সবকিছু প্রকাশ হওয়া, গণতন্ত্রে গোপনীয়তা কিছু নয়।

শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা তাঁর কাছে পেয়েছি অনেক, আরও পেতে চাই। কারণ তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন তাঁর হাত ধরেই ঘটুক। তিনি সুস্থ থাকুন। দেশকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিক। নজরকাড়া সাফল্য অব্যাহত থাকুক বাংলাদেশেরÑআমরা খুব করে চাই। আরও অনেক দিন। আরও বেশি। শুভ জন্মদিনÑপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুভকামনা সবসময়। লেখক : ইতিহাসবিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত