প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইকবাল আনোয়ার: আপাস এক চরিত্র: সমাজের ঐক্যে বিশ্বাসী ও কুসংস্কার বিনাশ তাঁর ব্রত

ইকবাল আনোয়ার: আপাস এক চরিত্র। বয়স পয়ষষ্টি ছেষট্টি হবে হয়তো। আমাদের পাড়ার সক্রেটিস। সংক্ষেপে আপাস। তিনি আমার পরিচিত। ফেসবুক ব্যবহার করেন না। আমার সঙ্গে তার যে আলাপ হয়, আমি এখানে তা, দায়িত্ব হিসাবে ব্যক্ত করি। মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে তার যে দ্বিমত হয়, তা ও তোলে ধরি। আপাস অনেক সময় নিজেও প্যারাডক্সিক্যাল। আমার সঙ্গে যারা আছেন, দীর্ঘদিন, তারা তাকে চেনেন। তাদেরই একজন তার এ সংক্ষিপ্ত নামটি দিয়েছেন। যারা নতুন যুক্ত হয়েছেন, তাদের অনেকের উৎসুক্যকে সম্মান জানিয়ে তার পরিচয় – রূপরেখা টানছি। আপনারা তার প্রতি বিরক্ত হয়েছেন। এর কারণ আছে। কেনো না, আপাস বিজ্ঞ না হয়েও বিজ্ঞের মতো কথা বলে। পূবেই বলেছি তিনি নিজেও প্যারাডক্সিক্যাল। সবাই জানে, এমন কথা বলে বিরক্তি ঘটান আপাস। তার মধ্যে অনেকে পাগলামো দেখেছেন, ধী শক্তি সম্পন্ন এক দার্শনিককেও দেখেছেন নাকি অনেকে, চরম বোকামীও দেখেছেন।

না, আপাস কোনো দার্শনিক না। দার্শনিক অনেক বড় কথা। আপাস নিজের সমন্ধে মনে করেন- তিনি একজন জ্ঞান পিপাসু। তিনি জানতে চান। এর বাইরে কিছু নন। তাই অনেক সময় নিজের মতের বিপরীত কথা বলেও বিজ্ঞ জনের মতামতের জন্য, বলে বসে থাকেন, কি উক্তর আসে তা জানতে, তিনি এভাবে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। যারা বিভিন্ন সময়, তার কথার প্রতি উত্তর দিয়ে সাড়া দিয়েছেন, তাদের সকলের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার একটা কষ্ট হচ্ছে, মানুষ অনেক সময়, ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ গোছের বিশ্বাসে ভোগে। সব কথা বলা মুশকিল। সরাসরি বলা আইনের দ্বারা সিদ্ধ নয়। অথচ তার মন বলতে আনচান করে। তখন তিনি নানা মাধ্যমে, গল্পে বা রূপক আকারে বলেন। কিন্তু এতে অনেক সময় উল্টা সমঝিলে হয়ে যায়। আপাস মানব সমাজের ঐক্যে বিশ্বাসী ও কুসংস্কার বিনাশ করা তার ব্রত। মানুষ ভোগে কিন্তু বলে না, এমন কিছুও তিনি তোলে ধরতে চান। অনেক সময় বেপরোয়া ভারেও কথা বলে ফেলেন। আপাস অতি সামান্য একজন সরল মানুষ। তিনি, তার কোনো কথায় কেউ বিরক্ত হলে, এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটি তার ইচ্ছাকৃত নয়।

আপাস নিজের মত নিয়ে গোঁ ধরেন না। ভুল স্বীকার করতে তার কোনো কার্পন্য নেই। এই হলো আপাস। রাষ্ট্রের বিষয়ে কথা বলা কঠিন এক কারণে। সমাজের বিষয়ে আরেক কারণে। তবে সংসারে কথা বলা যায় না সংহতির কারণে। বুড়ো হলে কেবল তাকিয়ে থাকতে হয়। বড় কষ্ট এটা। শারীরিক ব্যথার চেয়েও বেশি। উপমা দিয়েও বলা যায় না। অনেকের কাছে নিচু হতে হয়। লিখে যাওয়া কঠিন। সেই যে সংহতি। সংহতিতে কেমন আঘাত পরে, তা বললে তো কথা বলা হয়েই গেলো। আপাস ধীরে ধীরে কথা বলা কমাবে। তার সবচে বড় দুর্বলতা হলো, সে সাহসী নয়। মনের কথা প্রকাশ্যে বলতে তার ভয়। আবার না বলে থাকতে গেলে তার পেট ফেটে যাবার উপক্রম হয়। আপাস আসার সঙ্গে বসে অনেক কথা বলে, যা প্রচার করা তার বারণ। আমারও তাতে ভয়। কাছেই দুই ভীতুর পাঠশালা এটি। তার সঙ্গে ইদানীং এক বুঝের পাগলও মাঝে মধ্যে অবির্ভূত হয়। লেখক : চিকিৎসক

সর্বশেষ