প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রশির টানে খেয়া চলে দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীতে

নুর উদ্দিন : [২] সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীতে সেতু না থাকায় ৫০ হাজার মানুষের ভোগান্তি। সভ্যতার অগ্রগতির এই সময়েও পুরোনো দিনের যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে ৫০ বছরেরও অধিক সময় ধরে সীমান্তবর্তী এলাকার টেংরাটিলা-আলীপুর এলাকার মানুষেজন।

[৩]উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের একপাড়ে আলীপুর বাজার, অপরপাড়ে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডসহ টেংরাটিলা বাজার। মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে সীমান্তের ওপার (ভারতের মেঘালয় থেকে) থেকে নেমে আসা পাহাড়ী নদী। বর্ষায় পাহাড়ী ঢল নামলে প্রবল স্রোতের কারণে খেয়া নৌকা বন্ধ থাকে। খেয়া নৌকা চালানোর জন্য খাসিয়ামারা নদীর দুইপাড়ে রশি টানানো হয়েছে। পাহাড়ী নদীতে স্রোত থাকলে রশি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকে না। ইঞ্জিন চালিত নৌকা হলে খরচ বেশি যাবে, স্রোতের উজানে ইঞ্জিন চালিত নৌকাও চালানো কষ্ট হয়, হাতে বাওয়া নৌকা হলে স্রোতে ভেসে যাবে নৌকা। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকালী এলাকাবাসী দ্রুত এই নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

[৪] দোয়ারা উপজেলার সুরমা ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের টেংরাটিলা, আলীপুর, নন্দীগ্রাম, সুলতানপুর, আজবপুর, গিরিসনগর, পশ্চিম টিলাগাঁও, নূরপুর, সোনাপুর, বড়কাটা, বৈঠাখাই, হাছনবাহার, এরুয়াখাইসহ এলাকার অন্তত ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীদের খাসিয়মারা নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিকল্প চলাচলের কোনো সুযোগ না থাকায় রোগী ও বয়স্কদের নিয়েও খাসিয়ামারা নদী ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন মানুষজন।

[৫] খেয়া নৌকার মাঝি মুজিবুর রহমান জানান, ১০ বছর ধরে খাসিয়ামারা নদীতে খেয়া নৌকা চালিয়ে আসছি। প্রবল স্রোতে রশি ছিঁড়ে নৌকা নিয়ে যায় অনেক দুরে। নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটেছে।

[৬] আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসহাক মিয়া বলেন, জীবন বাজি রেখে খাসিয়ামারা পারাপার হতে হয়। সেতু নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের অবসান হবে না।

[৭] সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মৎস্য খামারি আব্দুর রহিম বলেন, সেতু না থাকায় মাছ বিক্রি করতেও সমস্যা হয়, পিকআপ বা ট্রাক খামারের কাছাকাছি না আসায় খামারে চাষ করা মাছের উপযুক্ত মূল্য পাওয়া যায় না।

[৮] স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, খাসিয়ামারা নদীর আলীপুর এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের। ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এই সেতুর জন্য ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। দরপত্রের মূল্যায়ন চলছে। এই কাজ শেষ হলেই পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করে দ্রুতই এখানে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ