প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজনৈতিক সংকট সমাধান না করে নীরবে, নিশ্চিতে ও স্বস্তিতে থাকতে পারবে না সরকার : জোনায়েদ সাকি

ভূঁইয়া আশিক রহমান : [২] আমাদের নতুন সময়কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, যেনতেন রকমের নির্বাচনে গেলে একাদশ নির্বাচনের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা আছে [৩] বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রান্তিক ও প্রায় নাই করে দিয়েছে সরকার [৪] দেশে লুটপাটের উন্নয়ন আছে, গণতন্ত্র নেই [৫] সংকট থেকে উত্তরণে দরকার নতুন একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তি [৬] আদালত, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগে সাংবিধানিক কমিশন গঠন করতে হবেÑ সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধি দ্বারা [৭] আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা দরকার।

[৮] বিগত দিনে সরকার সার্চ কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিলো। যতোই সার্চ কমিটি গঠন করে কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হোক না কেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত না আমরা একটা সাংবিধানিক সংস্কারে যাচ্ছি, ততোক্ষণ সরকার অনুগত নির্বাচন কমিশনই আমাদের পেতে হবে। এর একটা বড় উদাহরণ হলোÑ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন আগের রাতে হয়ে যাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন অবলীলায় সুষ্ঠু নির্বাচন বলে চালিয়ে দিয়েছিলো। বিরোধী দলের প্রার্থী ও প্রচারণায় ব্যাপক হামলা-মামলার পরও নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা করেনি।

[৯] রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ভোট ডাকাতির কাজে লাগানো হয়েছিলো নির্বাচন কমিশনের পৃষ্ঠপোষকতায়। শুধু তাই-ই নয়, এই কমিশন সরকারের প্রতি কতোটা অনুগত, সেটা বোঝা যাবে আমাদের দলের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে। উচ্চ আদালতের আদেশ সত্ত্বেও গণসংহতি আন্দোলনের নিবন্ধন ঝুলিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রমাণিত হয়, এ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

[১০] সংকট উত্তরণে সরকারকে পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। কারণ এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ফলে আমাদের দাবি হচ্ছেÑ সরকারকে পদত্যাগ করে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। অন্তর্তবর্তীকালীন সরকার কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে জনগণের স্থায়ী ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তা না হলে অনুগত নির্বাচন কমিশন দ্বারা সবসময়ই জনগণের ভোটের অধিকার হুমকির মুখে থাকবে। স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠানকে একটা নিরপেক্ষ জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য সাংবিধানিক সংস্কার খুব জরুরি।

[১১] একটা রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার গণতান্ত্রিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য। আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা দরকার । আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে আন্দোলনে যেতেই হবে। আমাদের প্রস্তাব হলো একদিকে সরকার পদত্যাগ করবে, অপরদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাঠামো কেমন হবেÑতা নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার।

[১২] আগামী তিনটি জাতীয় নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এজন্য কতোগুলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের ঐক্যমত হতে হবে। যে সংস্কারগুলো করলে ১৫ বছরের মধ্যে দেশের অনেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। যার মধ্যদিয়ে হয়তো আমরা ১৫ বছর পরে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই পরবর্তী নির্বাচন করতে পারবো। অর্থাৎ যারা সরকারে ছিলো, তারাই নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো তখন একটা আস্থা ও শক্তির জায়গা থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে। সেটা করতে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগকর্তা বদল করা দরকার।

[১৩] সর্বোচ্চ আদালত, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক যতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগে একটা পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারই যদি নিয়োগকর্তা থাকে, তাহলে অনুগত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না। সাংবিধানিক কমিশন গঠন করে নিয়োগ দিতে হবে। সাংবিধানিক কমিশন গঠন করতে হবে সরকারি-বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধি দ্বারা। বর্তমান সংসদের বিরোধী দল দিয়ে এই কাজ করা যাবে বলে মনে হয় না।

[১৪] এক ভোট বেশি পেলেই সমস্ত ক্ষমতা কারও হাতে চলে যাবেÑ ‘ওয়েস্ট মিনিস্টা’র পদ্ধতির জায়গাটা এখন আর আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উদাহরণ নয়। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থায় চলে গেছে। অর্থাৎ আপনি সরাসরি নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, আবার একটা দলের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতেও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা যাবে। এর মধ্যদিয়ে সর্বস্তরের জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটবে। পৃথিবীর বহু দেশ এখন সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় চলে গেছে।

[১৫] দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলেও ক্ষমতা নিরষ্কুষ বা একচেটিয়া করে ফেলতে পারবে না, অসম্ভব হয়ে উঠবে। একটা ঐক্যমত রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠলে, আমরা হয়তো গণতান্ত্রিক সংকট থেকে উত্তরণের পথে যেতে পারবো। এক্ষেত্রে সরকার যদি আগ্রহী না হয়, তাহলে সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও মানুষের কর্তব্য হচ্ছেÑ ঐক্যবদ্ধভাবে সকলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে জনগণের দাবি আদায় সম্ভব।

[১৬] আমরা গণমানুষের রাজনীতি করি। মওলানা ভাসানী গণমানুষের রাজনীতির যে ঐতিহ্য তৈরি করেছেন, আমরা তারই উত্তরাধিকারী হিসেবে গণমানুষের অধিকার ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সেই অর্থে আমরা জনমুখী একটা রাজনৈতিক দল। জনগণের স্বার্থে আমরা বাংলাদেশমুখী রাজনীতি চাই। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থের বাইরে আমাদের আলাদা কোনো স্বার্থ নেই। জনগণের স্বার্থে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রধান নির্ণায়ক। সকল নিপীড়িত মানুষের লড়াই আমাদের সংগ্রামে প্রতিফলিত করতে চাই।

[১৭] আমাদের কাছে এখন প্রধান বিষয় জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাতা করে নির্বাচনে যাওয়া। যেনতেন রকমের নির্বাচনে গেলে একাদশ নির্বাচনের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা আছে। নির্বাচনকে কার্যকর ও গণমানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে কতোগুলো সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন জরুরি, যা আমি আগেই বলেছি। এই পরিবর্তনের লক্ষে আমরা আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। সেটাই এখন আমাদের লক্ষ্য।

[১৮] বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রান্তিক ও প্রায় নাই করে দিয়েছে। এর পরিণতি খুব ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা আছে। মানুষের মধ্যে হতাশা জন্ম নিচ্ছে। এর ফলে নানান উগ্রতার জমিন তৈরি হচ্ছে। রাজনীতি বহির্ভূত তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে গণতন্ত্রের গতিমুখই এখন বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক। তা না হলে আমরা একটা বিপদের দিকে যাবো। গণতন্ত্রের গতিমুখে ফেরার সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে বর্তমান সরকার। কারণ তারা অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে আছে। বাংলাদেশ যদি গণতন্ত্রের গতিমুখে ফিরতে পারে, তাহলে আমরা একটা নতুন ধরনের জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করতে পারবো। বর্তমান ভূ-রাজনীতি মোকাবেলা করে আমাদের স্বার্থসংরক্ষণ করতে পারবো। দেশের উন্নতি ও নাগরিকের উন্নতি নিশ্চিত করা যাবে।

[১৯] দেশে এখন রাজনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা মহামারি চলে আসায় রাজনৈতিক তৎপরতা কিছুটা সীমিত আছে। এর অর্থ এই নয়, জনগণ এই অবরুদ্ধ অবস্থা মেনে নিয়েছে। জনগণ করোনার কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে একটা বিরতিতে আছে কিংবা সতর্কতার মধ্যে আছেÑকিন্তু রাজনৈতিক অবরুদ্ধ অবস্থা তারা কোনোভাবেই মেনে নেয়নি। সেই অবস্থা পরিবর্তনে তারা সংগ্রাম করবেন। শিগগিরই সেই সংগ্রামের সূচনা করবেন। দেশের চরম রাজনৈতিক সংকট বিরাজমান। এই রাজনৈতিক সংকট সমাধান না করে নিরবে, নিশ্চিতে ও স্বস্তিতে থাকতে পারবে না সরকার। জনগণ তার অধিকারের জন্য লড়াই করবে এবং সেই আন্দোলন গড়ে উঠবে। সেটা অপ্রতিরোধ্য জায়গায় চলে যাবে। যা সরকার বুঝতে পারছে না।

[২০] দেশে লুটপাটের উন্নয়ন আছে, গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র তো গণতন্ত্রই। গণতন্ত্রের আলাদা করে নাম দিতে হচ্ছে কেন। যখন গণতন্ত্রের আগে উন্নয়নের গণতন্ত্র বলতে হয়, তার মানে বোঝা যাচ্ছে যে এটা আলাদা জিনিস। দেশে ভোট নেই, বড় বড় প্রকল্পের নামে লুটপাট আছে। একটা সরকার ১২ বছর ক্ষমতায় আছে, হাজার হাজার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সরকারই তো প্রকল্প গ্রহণ করবে, নাকি অন্য কেউ? বিরোধী দল কিংবা সাধারণ নাগরিকের তো দায়িত্ব নয় একটা প্রকল্প গ্রহণ করা। একটা দেশের উন্নতির পরিকল্পনা প্রধানত আসবে রাষ্ট্রের দিক থেকে। রাষ্ট্র পরিচালকদের কাছ থেকে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করবে সরকারÑ এটা তো স্বাভাবিক। এ নিয়ে বড় বড় কথা বলার তো কিছু নেই।

[২১] যখন একটা সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকে, উন্নয়ন প্রকল্পও নিতে হয় ওইভাবে। অবাধে দুর্নীতির সুযোগ থাকে না। সুন্দরবন ধ্বংস করার মতো প্রকল্প নেওয়ার মতো বাস্তবতাও তখন থাকে না। আর্থিক উন্নয়ন নিশ্চিতের প্রাথমিক শর্ত কীÑএকটা ভালো শাসন ব্যবস্থা। ভালো শাসন ব্যবস্থার প্রথম কথা সরকারের জবাবদিহিতা আছে কিনা। সরকারের জবাবদিহিতার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে জনগণ ভোট দিয়ে সেই সরকার গঠন করতে পারছে কিনা। জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার যখন আপনি কেড়ে নিয়েছেন, মানুষ ভোট দিতে পারছে না, তখন প্রত্যেকটা জায়গায় উল্টো স্রোত বইবে। উল্টো স্রোত বইছে। এটা জনগণ মোটেও মেনে নিচ্ছে না। এখন যেভাবে একধরনের ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করে, হামলা-মামলা, খুন করে, গুম করে, ক্রসফায়ার করে ভাবছেন শান্তি বজায় রাখতে পারছেন দেশের। এই শান্তি বজায় দীর্ঘস্থায়ী হবে না। মানুষ এই অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়বেইÑ সেটা আজ বা কাল।

[২২] আমি একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছি। আমি তো আমার দলকে ক্ষমতায় দেখতে চাই। আমি আমার দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল গঠন করেছি। কারা সরকার গঠন করবে? জনগণ যাকে ভোট দেবে তারা সরকার গঠন করবে। দেশ পরিচালনা করবে। তাতে আমার পছন্দ হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। পছন্দ না হলে তার বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন করবো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবে। জনগণ আবারও ভোট দিয়ে হয় তাকে ক্ষমতা থেকে নামাবে, অথবা ক্ষমতায় রেখে দেবেন। কিন্তু জনগণই ক্ষমতার নির্ধারক হবে। এটা যতোক্ষণ পর্যন্ত না আমরা মেনে নিচ্ছি, ততোক্ষণ আমরা গণতন্ত্রের গÑএর মধ্যেও থাকবো না।

[২৩] রাতের অন্ধকারে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যখন ক্ষমতা দখল করা হয়, তখন সে যতো বড় দলই হোক না কেন, ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। দল থেকেও বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে থাকে। ক্রমেই সে এমন সমস্ত ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যেগুলো ব্যবহার করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। আমরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন দেখেছি এবং উত্তোত্তর সরকার অধিকতর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের স্বার্থে ব্যবহারকারী হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করেই রাষ্ট্রপরিচালনা করছে। এর ফলে ক্ষমতার নানান পকেট তৈরি হচ্ছে। এতে পকেটগুলোর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। যার কিছু লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি।

[২৪] রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপর প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব এবং নানান ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। এমনটি চলতে থাকলে রাষ্ট্র ভেতর থেকে দুর্বল হতে থাকে। রাষ্ট্র ভেতর থেকে দুর্বল হওয়া মানে দেশের সার্বভৌমত্ব অপরাপর রাষ্ট্রের নিরিখে আমাদের স্বার্থরক্ষা ভীষণরকম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। এর কী পরিণতি হবেÑ বিভিন্ন দেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে বুঝতে পারি। ফলে এখনো বলবোÑ রাজনৈতিক সংকট উত্তরণই সকলের জন্য ভালো সমাধান।

[২৫] দ্রুত রাজনৈতিক উত্তরণের দিকে যাওয়া দরকার। এর জন্য নতুন একটা জাতীয় সনদ। নতুন একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা যেমন একটা প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, এখনো হয়তো আমরা একটা দ্বিতীয় রিপাবলিকের যাত্রায় যেতে হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত