প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাঁচতে চায় কুমিল্লার ১১টি বেদে পরিবার

রুবেল মজুমদার : কুমিল্লায় আর্দশ সদর উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের গোমতি চরে অস্থায়ী বসবাস তাদের। সেখানে বেদে ছাড়াও ছিন্নমূল অনেক মানুষ বসবাস করেন।বেদে পরিবারে প্রায় শতাধিক সদস্য এ মাসে এসেছেন গোমতী পাড়ে।বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার থেকে আলম সর্দারেরনেতৃত্বে ভালো আয়ের আশা এসে বিপাকে পড়েন তারা,কাজে অভাবে তাদের দিন কাটছে খুবই কষ্টে। তাদের অবস্থা এখন প্রায় সঙ্কটময়।

এ পল্লী নারীদের বেশিরভাগ সাধারণত শিঙা লাগানো, দাঁতের পোকা ফেলাসহ বিভিন্ন ঝাড়ফুঁকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ ছাড়া তাদের কেউ কেউ চুড়ি, ফিতা বিক্রি করে থাকে। আর বেদে পুরুষরা সাপের খেলা দেখায় এবং কড়ি বিক্রি করে। কিন্তু আধুনিক এ যুগে মানুষ তাদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা খুব কম নেয়। ফলে বেদেদের আয় কমে গেছে,অন্য পেশা খুঁজছেন তারা ।

বুধবার (২২ সেক্টেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গোমতী পাড়ে কাঠফাটা রোদের তাপে কয়েকজন শিশুর বসে আছেন। ফাহিম,তানজিনা নিপা তুষারা বসে গল্প করছেন নূরজাহান নামের এক বৃদ্ধ মহিলা সাথে। নূরজাহান তাবিজ-কবজ বিক্রি, জাদুটোনা, সাপ খেলা শিখছেন তাদের ,অন্য পাশে গোমতী পাড়ে মামুন ও তিতাম মিয়া মাছ শিকারে জন্য জাল নিয় বসে আছেন।

কাঠফাটা রোদ আর তীব্র ভ্যাপসা গরমে বেদে পল্লীতে বসে আছেন সুমন খাঁ। দুপুর বেলায় কাঠফাটা রোদের তাপে প্রাণটা দেহ থেকে বের হয়ে নিয়ে বের হয়ে পড়েন তার স্ত্রী মরিয়া,দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যায় হলো,এখনো আসার খবর নেই।ঘরে রান্না হয়নি,বাইরে দোকান থেকে তার দুই শিশু ফাহিম রাবেয়া জন্য রুটি -কলা নিয়ে আসছেন সেই ,কিন্তু বাচ্ছাদের ভাতের জন্য কান্নাকাটি করছেন বলে তিনি জানায়।

সানজিদা নামে এক বেদে নারী বলেন, ‘কোনো বাসাবাড়িতে কামকাজ করতে আমাগো রাহে না মানুষ। তাই পেটের দায়ে বাধ্য হইয়া আপনাগো মতন সাহেবগো কাছে আইসা হাত পাতি। হাতে-পায়ে ধইরা যা পাই তা দিয়া পোলাপাইনের জন্য সদাই নিয়া ডেরায় ফিরি। কোনো কোনো দিন ফিরতে অনেক দেরি হয়। কারও কাছ থেকে আইজ পর্যন্ত আমরা কোনো সহযোগিতা পাই নাই। আমাদের কেউ খবরও নেয় না।’

কথা হয় গোমতীর পাড়ের বেদে পল্লী সর্দার আলম মিয়া সাথে,তিনি বলেন কয়েকদিন আগে গোমতী পাড়ে আসলাম,কয়েকজন ছাড়া এখনো অনেকের কাজের সন্ধান হয়নি, নগরীর বিভিন্ন স্থানের কাজের জন্য ঘুরছি,ঠিক মতো দ্-ুবেলা খেতে পারচ্ছি না।আপনাদের (গনমাধ্যম) মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে একটু সহযোগিতা চায়,আমরা বাঁচতে চায়।
কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহাদাত হোসেন বলেন,বিষয়টি আমার আপনার কাছ থেকে জেনেছি।বিস্তারিত জেনে প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহন করবো আমরা,

 

সর্বশেষ