প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একজন মুসলিম নারী

রাশিদ রিয়াজ : আপনি যদি একজন মানুষকে শিক্ষিত করেন, আপনি একজন ব্যক্তিকে শিক্ষিত করেন । কিন্তু আপনি যদি একজন নারীকে শিক্ষিত করেন, তাহলে আপনি একটি জাতিকে শিক্ষিত করেন। মরক্কো শহরের এক নারীর দূরদর্শিতা এবং বিনিয়োগে বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। মরক্কোতে প্রতিষ্ঠিত আল-কারাবিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতিমা-আল-ফিহরি যিনি উম্মে আল বানিয়ান নামেও পরিচিত তিনি তিউনিশিয়া থেকে তার পরিবারের সঙ্গে মরক্কোতে আসেন। বাবার মৃত্যুতে তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রচুর অর্থসম্পদের অধিকারি হন। তিনি তা দিয়ে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার কাজ শুরু করেন। ৮৫৯ সালে মসজিদ তৈরির কাজ শেষ হবার পর এর সম্প্রসারণ অংশই পরিপূর্ণতা লাভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করেন আল-কারাবিয়ান। ⠀

তার এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ইউনেস্কো ও গিনেস ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড অনুসারে বিশ্বের প্রথম ডিগ্রি মঞ্জুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। ১০ শতাব্দী থেকে আল-কারাবিয়ানের বিখ্যাত মসজিদটি প্রথম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং উত্তর আফ্রিকার বৃহত্তম আরব বিশ্ববিদ্যালয়। এটি অনেক শিক্ষার্থী এবং বিখ্যাত বিজ্ঞানীকে আকর্ষণ করে। ⠀

ফাতিমা আল-কাবাজ, তার প্রথম ছাত্রছাত্রীদের একজন, পরে মরক্কোর সুপ্রিম কাউন্সিলের ধর্মীয় জ্ঞানের একমাত্র নারী সদস্য নিযুক্ত হন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্নাতকদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন কবি, ফাকোহ (মুসলিম জুরিস্ট), জ্যোতিষী এবং সারা অঞ্চলের গণিতবিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আব্দুরহমান ইবনে খালদুন, ডাক্তার এবং দার্শনিক আবু ওয়ালিদ ইবনে রুশদ, আন্দালুসিয়ান ডাক্তার মুসা ইবনে মাইমনৌ এবং অরিলাকের জার্মার্ট, যিনি পরবর্তীতে পোপ হন। এখনো চালু আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে পৃথিবীর প্রাচীন গ্রন্থাগারগুলোর একটি। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের ১৪ তম পাঠ্য মুকাদ্দিমাহ সহ গ্রন্থাগারে ৪০০০ টিরও বেশি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। আল-ফিহরি নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। ২০১৭ সালে তিউনিসিয়াতে তার সম্মানে পুরস্কার তৈরি করা হয়। এ উদ্যোগ যা নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দায়িত্বের প্রবেশাধিকারকে উৎসাহিত করে। আরও, একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বৃত্তি দেওয়া হয়েছে ফাতিমা আল-ফিহরির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানিয়ে। ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ