প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিররঞ্জন সরকার: সাংবাদিকদের কাছে ব্যাংক হিসাব চাইলেই সেটা ‘বাকস্বাধীনতা

চিররঞ্জন সরকার: সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের শীর্ষ চার সংগঠনের ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে সাংবাদিকদের ৬টি সংগঠন। তারা বিষয়টিকে বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ওপরে চাপ হিসেবে দেখছেন। কোনো কোনো সাংবাদিক নেতা একে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন। আন্দোলন কর্মসূচিও চালাচ্ছেন। সম্পদের হিসাব এবং ব্যাংক একাউন্টের বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার প্রতিবাদে সাংবাদিক-নেতারা যা যা বলছেন, যা করছেন, তাকে বাড়াবাড়ি বললেও কম বলা হয়। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যদি মনে করে তাহলে যেকোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব বা সম্পদের হিসাব চাইতে পারে। এতে উত্তেজিত-ক্ষুব্ধ হওয়ার কি আছে? সাংবাদিক বা সাংবাদিক-সংগঠনের নেতারা কী তবে পীর-পয়গম্বর, যে তাদের সম্পদের হিসাব চাওয়া যাবে না? সাংবাদিকদের কাছে ব্যাংক হিসাব চাইলেই সেটা ‘বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের ওপরে চাপ ও ষড়যন্ত্র’ হয়ে যায়? আপনাদের ব্যাংক একাউন্টে যদি কিছুই না থাকে, কোনো অনিয়ম, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত লেনদেন, কোনো কিছুই না থাকে, তাহলে তথ্য দিতে ভয় কী? বরং ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিয়ে আপনারা নিজেদের সততা ও মহত্ত্ব প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন।

আপনাদের ব্যাংক একাউন্টে কোনো অবৈধ লেনদেন বা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোনো অর্থ নেই౼ সেটা প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন। সেই সুযোগ সানন্দে গ্রহণ করা উচিত। সবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলে যে সাংবাদিক সমাজ, তারা নিজেরা কেন ‘অস্বচ্ছ থাকতে চান? সাংবাদিক নেতাদের কী এমন ‘সাংঘাতিক প্রতিক্রিয়া’ মানায়? এর আগে সরকারি কর্মকর্তারা যখন নিজেদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই পাবার প্রস্তাব করেছিলো, তখন এই ‘স্বেচ্ছাচারী তোঘলকি’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন সাংবাদিক সমাজ। আর আজ ১১ সাংবাদিক নেতার সম্পদের হিসাব চাওয়াতে তারা বেজায় ক্ষুব্ধ! কেন এই দ্বিচারিতা? আমাদের দেশে কারও মধ্যেই আত্মসমালোচনার বালাই নেই। ‘বড় বড় কথা বলায় ওস্তাদ’౼ সাংবাদিকদের মধ্যে আরও নেই। তা না হলে তারা সম্পদের হিসাব চাওয়ায় এমন তেতে উঠবেন কেন? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন౼ যা সাংবাদিকতা পেশাকে টুটি টিপে ধরেছে, সেটা বাতিলের জন্য যদি সাংবাদিক নেতারা সর্বাত্মক আন্দোলনে নামতেন, তাহলে তাদের শ্রদ্ধা করা যেত। সাংবাদিকদের অধিকার বা বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার ব্যাপার হলেও সমর্থন করা যেত। কিন্তু এসব ব্যাপারে তারা মরিয়া নন। বরং ‘এই বেশ ভালো আছি’ ধরনের একটা মনোভাব। কিন্তু নিজেদের ‘অস্বচ্ছতা’ বজায় রাখার জন্য প্রতিবাদ- আন্দোলনকে কোনো মতেই সমর্থন করা যায় না। সম্পদের হিসাব চাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করে বরং সাংবাদিক নেতারা আরও একবার নিজেদের জাত চেনালেন! ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ