প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জাল ভিসা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এক প্রতারক চক্র

সুজন কৈরী : [২] জাল ভিসা তৈরি করে লোকজনদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর নাম করে প্রতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাইমুন ইসলাম (২৬) ও আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)।

[৩] শনিবার রাজধানীর বনশ্রী এবং শাজাহানপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্বের একটি টিম। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে জাল ভিসা তৈরিতে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, সাতটি অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা গ্রান্ট নোটিশ, ফ্রি চিকিৎসার জন্য পাঁচটি হেলথ মেডিকেয়ার কার্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার বিমানের ছয়টি টিকিট জব্দ করা হয়েছে।

[৪] সিআইডি বলছে, এই চক্রের মূলহোতা অস্টেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। তিনি মাঝে মধ্যে দেশে এসে টার্গেট কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে গড়ে তুলতেন সখ্যতা। এরপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে পারিবারিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের জেরে বাংলাদেশিদের কম খরচে পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এভাবে ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন রোজী। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসে সবকিছুর কলকাঠি নাড়লেও দেশে তার একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। যারা টাকা-পয়সাসহ রোজীর কথামতো যাবতীয় কর্মকাণ্ড করেন।

[৫] এই প্রতারক চক্রটির কবলে পড়েন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭)। তিনি সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া যেতে উম্মে ফাতেমা রোজীর কাছে ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হন। এরপর তিনি রোজীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে রোজীর সহযোগী চক্রের ওই দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর চক্রের মূলহোতা রোজীকে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

[৬] রোববার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান রিলেটিভ স্পনসর মাইগ্রেশন (৮৫৫) পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট জাল ভিসা তৈরি করে বাংলাদেশি নিরীহ মানুষকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝে মধ্যে দেশে এসে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন। দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ টাকা লাগার কথা জানান রোজী।

[৭] রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে ভুয়া পরিচয় দেন। এছাড়া তার নিজ অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার রয়েছে বলে জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট আইনজীবীর ইমেইলে পাঠান। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের পাঠান রোজী। ফলে ভুক্তভোগীরা তাকে বিশ্বাস করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান। এভাবে ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে একাধিক বাংলাদেশি তার কাছে প্রতারিত হয়েছেন।

[৮] সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রের ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম। এরপর দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা রোজীর অ্যাকাউন্টে দেন।

[৯] সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, রোজীর অন্যতম সহযোগী গ্রেপ্তার সাইমুন ও আশফাকুজ্জামান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান এ্যাম্বাসির নিযুক্ত ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধি বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসির লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সকল প্রকার কাগজ পত্র তৈরি করে রোজীর ইমেইলে পাঠান। পরে তিনি তৈরি করা অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসির জাল ডকুমেন্ট আইনজীবীর ইমেইলে পাঠিয়ে বলেন, ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডে জমা দিতে। ভুক্তভোগী ওই অফিসে কাগজপত্র জমা দিতে গেলে ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানায় সকল কাগজপত্র জাল বলে জানায়। এভাবে প্রতারণা করে রোজী প্রায় একাধিক মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি, তাকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত