প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বিশ্ব মানের ইনস্টিটিউট না হওয়া

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো আজ ৫০ বছর হয়ে গেলো অথচ দেশে একটি বিশ্ব মানের ইনস্টিটিউট তৈরী হয়নি। এই না হওয়াটাই বর্তমান বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যর্থতা। একটি দেশকে উন্নত করতে পারে কেবল উন্নত মননের মানুষ। তাই সেই মানুষ তৈরির কারখানা নির্মাণ করতে হয় সবার আগে। একই সাথে বুঝতে হবে যে দেশ উন্নয়নের প্রথম ধাপ প্রযুক্তি না বরং বিজ্ঞান কারণ প্রযুক্তির রসদ আসে তত্বীয় বিজ্ঞান থেকে। তত্বীয় বিজ্ঞানহীন প্রযুক্তি কেবল টেকনিশান বানাতে পারে। তত্বীয় বিজ্ঞান বলা যায় মস্তিষ্কের জিমনাসিয়াম। তত্বীয় বিজ্ঞান করতে খরচ কম লাভ বেশি। এইজন্যই পৃথিবীর যেইসব দেশ উন্নত হয়েছে তারা কি করে এবং উন্নত হয়েছে সেই যাত্রাটা একটু পরখ করলেই বোঝা যাবে তাদের প্রত্যেকেই প্রথমে কিছু ইনস্টিটিউট করে তাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। আর আমরা কি করছি? আমরা প্রথমেই প্রযুক্তিতে মনোযোগ দিয়েছি যা আত্মঘাতী। বিজ্ঞান ছাড়া প্রযুক্তি কেবল টেকনিসিয়ান বানায় বিজ্ঞানী বানায় না।

একটা ইনস্টিটিউট কেন প্রয়োজন? বর্তমান বাংলাদেশে শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং আছে প্রায় হাজারের উপরে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ যেখানে অনার্স এবং মাস্টার্স পড়ানো হয়। এতগুলো প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক যোগান দেওয়ার মত প্রতিষ্ঠান কি আমরা তৈরী করেছি? সহজ উত্তর হলো “না”। বরং এইসব প্রতিষ্ঠানে মান সম্পন্ন শিক্ষক গবেষক যোগান দেওয়ার জন্য দরকার ছিল একটি নয় বরং ডজন খানেক আন্তর্জাতিক মানের ইনস্টিটিউট যা হতে পারতো শিক্ষক এবং গবেষক তৈরির কারখানা। এই ইনস্টিটিউটে থাকবে শক্তিশালী মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম। সেখানে শিক্ষক, পিএইচডি সুপারভাইজার হবেন দেশি বিদেশী বিশ্বমানের গবেষক। থাকবেন দেশি বিদেশী এক ঝাঁক তরুণ পোস্ট-ডক। এছাড়া বাংলাদেশী স্কলার যারা বিদেশে গবেষণায় ভালো করছে তাদের কেউ যদি ফিরে আসতে চায় তাদের জন্য একটা জায়গা তৈরী করা যেন দেশে এসেও বিশ্বমানের কাজ চালিয়ে যেতে পারে। যেন দেশে এসে তাদের মেধার অপচয় না হয়। এছাড়া দেশ বিদেশের স্কলাররা ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসাবে এসেও গবেষনা করতে এসে পিএইচডি প্রোগ্রামে সংযুক্ত হতে পারে। এই ইনস্টিটিউট থেকে গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পজিটিভলি পরিচিতিতেও সাহায্য করবে যা পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করবে। একটি শহরে যখন বিশ্বমানের শিক্ষক গবেষক থাকবে তার ইমপ্যাক্ট ভালো সমাজ বিনির্মানেও কাজে দিবে।

দুঃখের বিষয় হলো গতকালও দেখেছি একনেকে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হয়েছে। ৭০০ একর বনভূমির বরাদ্দ হয়ে যায় লোক প্রশাসন একাডেমী তৈরীর নামে। অথচ গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরীতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ দেখি না। এই প্রেক্ষাপটে আমরা কয়েকজন তত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক গবেষক একটা ইনস্টিটিউট ফর ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ জাতীয় একটা কিছু করার জন্য একত্রিত হয়েছি। তারপর দেখলাম কেবল বাংলাদেশ না বাংলাদেশের বাহিরে বিদেশেও আমাদের শুভাকাংখী আছে। তারাও রীতিমত উৎসাহ দিতে লাগলো। তাই এবার আমরা বড় আকারে একত্রিত হলাম। সবাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে একটা ইনস্টিটিউট করতে যা লাগে, যত কষ্টই হউক তা করতে হবে। একটা সময় পর্যন্ত মানুষ নিজেকে তৈরির জন্য, নিজের জন্য কাজ করে। তারপর একটা সময় আসে মানুষ তখন সমাজ, দেশ এবং বিশ্বের মানুষের জন্য কাজ করে। কে বা কারা সমাজ বা দেশে জন্য আর কারা বিশ্বের জন্য কাজ করবে সেটা নির্ভর করে ব্যক্তির উপর।

আশা করি আমাদের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়াবেন দেশের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক। এই পর্যায়ে বিশেষ করে আমরা সমাজের বিত্তশালী দানবীরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তাছাড়া দেশের দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সহযোগিতা কামনা করছি যাদের মাধ্যমে আমরা আরো বৃহত্তর জনগুষ্টি এবং সরকারের কাছে একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরতে পারি।

সর্বাধিক পঠিত