প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৫ চিনিকলের ৬টিই বন্ধ

নিউজ ডেস্ক: আধুনিকায়নের জন্য গেল নভেম্বর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে সরকারের ছয় চিনিকল। উৎপাদনে থাকা বাকি ৯টি চিনিকলও চলছে ঢিমেতালে। আখস্বল্পতায় এসব কারখানা এই মৌসুমে বন্ধ ছিল সাত থেকে আট মাস। বর্তমানে বাজারে সরকারি চিনির সরবরাহ নেই বললেই চলে। চিনির বাজার এখন বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। কালের কণ্ঠ

তবে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু জানিয়েছেন, চালু থাকা সরকারি ৯টি চিনিকলে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এসব কারখানার আশপাশের জমিতে আখের চাষ বাড়ানো এবং কারখানা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কারখানা থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার টনের মতো সরকারি চিনি পাওয়া গেলেও আগামী বছর এই ৯টি চিনিকল থেকেই এক লাখ টনের বেশি চিনি উৎপাদন সম্ভব হবে। আপৎকালীন সময়ের জন্য এ চিনি মজুদ রেখে চিনির বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, চলতি মৌসুমের ৩০ হাজার টন সরকারি চিনি সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে রেশন হিসেবে সরবরাহ করা হবে। তাই এ চিনি বাজারে ছাড়া সম্ভব হবে না। বর্তমানে বাজারে সরকারি চিনি নেই বললেই চলে। এতে বাজারে দরের রকমফের নিয়ে সরকারি চিনির প্রভাব নেই বলে জানান চেয়ারম্যান।

শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, লোকসান এড়াতে সরকারি চিনিকলে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প হিসেবেও এসব কারখানা গড়ে তোলা হবে। এসব প্রস্তুতি শেষ করতে দুই বছর লাগতে পারে। এরপর এসব কারখানা থেকে উৎপাদিত চিনি দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদার সবটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।

বছরের অন্য সময়ের চেয়ে রমজানে চিনির চাহিদা দ্বিগুণ বাড়ে। বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে ওই সময় সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেট ভারী করতে চিনির দাম বাড়িয়ে দেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার রমজান মাস উপলক্ষে সরকারি কারখানার চিনি মজুদ রাখে। গত রমজানে সরকারি কারখানার ৫০ হাজার টন চিনি মজুদ ছিল। গত জুন-জুলাই পর্যন্ত ধীরে ধীরে এসব চিনি বাজারে ছাড়া হয়। তবে চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরকারি কারখানায় চিনির মজুদ নেই।

অন্যদিকে গেল নভেম্বরে বিএসএফআইসি থেকে সরকারি ছয় চিনিকলে (কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, শ্যামপুর, রংপুর ও সেতাবগঞ্জ) হঠাৎ আখ মাড়াই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৬ ডিসেম্বর শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয়ের এক সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বন্ধ ছয় চিনিকলের ক্যাচমেন্ট এলাকায় উৎপাদিত আখ চালু ৯ সরকারি চিনিকলে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সভা থেকে আখ কিনতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। তবে ছয় চিনিকল বন্ধের প্রতিবাদে আখ চাষিরা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অনেকে মাঠেই আখ পুড়িয়ে ফেলেন বা আখ মাঠে ফেলে রাখেন। পরবর্তী সময়ে কিছু আখ ৯ চিনিকলে বিক্রি করা হলেও চাহিদার চেয়ে তা ছিল অনেক কম। ৯ চিনিকলের নিজেদের উৎপাদিত আখ এবং বন্ধ চিনিকল থেকে সংগৃহীত আখে গড়ে উৎপাদনে থাকা ৯টি চিনিকল চার থেকে পাঁচ মাস চালু ছিল। এতে এই মৌসুমের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব চিনিকল থেকে গড়ে ৩০ হাজার টনও চিনি মিলবে না।

বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বাদশা বলেন, এবার সরকারি কলের চিনি আগের বছরের মতো মজুদ নেই। সরকারি কলের চিনি মজুদ না থাকলে বাজার বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় শঙ্কা থাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত