প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালিদ: ছাতা আবিষ্কার

ঝরঝর বাদলা দিনে পথ চলতে ছাতার মতো উপকারী বন্ধু আর নেই। একসময় ছাতা ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। সে সময় সাধারণ মানুষরা ছাতা ব্যবহার করত না, শুধু শাসক ও অভিজাত শ্রেণীর মানুষরা ছাতা ব্যবহার করত।

ছাতা আবিষ্কার হয়েছে আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে। ঠিক কোথায় এবং কারা প্রথম ছাতা আবিষ্কার করেছিল এ নিয়ে বিতর্ক অনেক। কেউ বলে মিসরীয়রা প্রথম ছাতা আবিষ্কার করে আবার কেউ বলে চাইনিজরা। তবে প্রাচীন মিসর, গ্রিস এবং চীন দেশের চিত্রকর্মে ছাতার নিদর্শন পাওয়া যায়। ছাতা প্রথমে ব্যবহৃত হতো সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং মহিলারাই ছিল মূলত ছাতা ব্যবহারকারী। তবে বৃষ্টি প্রতিরোধ করার জন্য প্রথম ছাতার ব্যবহার শুরু করে চাইনিজরা। ছাতা আবিষ্কারের কাহিনী অনেক পুরনো হলেও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ছাতার আকৃতি ছিল অনেক বড় এবং ওজনও ছিল বেশি। যেহেতু ছাতার রডগুলো ছিল কাঠের বা তিমি মাছের কাঁটার এবং হাতল ছিল প্রায় দেড় মিটার লম্বা তাই ছাতার ওজন ছিল প্রায় ৪-৫ কেজি।

আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে ছাতা আবিষ্কার হলেও ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে এসে ছাতা কিছুটা জনপ্রিয়তা লাভ করে উত্তর ইউরোপের বৃষ্টিপ্রধান এলাকায়, বিশেষ করে লন্ডনে। তবে এই সময় শুধু মহিলারাই ছাতা ব্যবহার করত। পুরুষদের মাঝে ছাতার কোনো ব্যবহার ছিল না।
পারস্য পর্যটক এবং লেখক জোনাস হ্যানওয়ে ছাতাকে জনপ্রিয় করতে ইংল্যান্ডের রাস্তায় একটানা ৩০ বছর ছাতাকে সঙ্গী করেন। মূলত তিনিই ইংল্যান্ডে পুরুষদের মাঝে ছাতার ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলেন। যে কারণে ইংরেজদের মাঝে ছাতার আরেক নাম ‘হ্যানওয়ে’। হ্যানওয়ের প্রচেষ্টাতেই একটা সময় নারী-পুরুষ সবাই ছাতাকে নিত্যসঙ্গী করেন।

বিশ্বের প্রথম ছাতার দোকান ‘জেমস স্মিত অ্যান্ড সন্স’ এটা চালু হয় ১৮৩০ সালে এবং এই দোকান লন্ডনের ৫৩ নিউ অক্সফোর্ড স্ট্রিটে আজো চালু আছে। ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্স স্টিলের চিকন রড দিয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার জন্য ছাতা তৈরি করেন। ইংল্যান্ড বিশেষ করে লন্ডনে প্রচুর বৃষ্টি হয় সেজন্য সেখানে ব্যাপকভাবে ছাতার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যে কারণে লন্ডন ছাতার শহর হিসেবে পরিচিত। একসময় বিশ্বের অনেক দেশ ব্রিটিশদের কলোনি ছিল। আর সেই কারণে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে অনেক কম খরচে ছাতা তৈরি করতে পারত। সেই সময় তারা সোনা, রুপা, চামড়া, বিভিন্ন প্রাণীর শিং, বেত ও হাতির দাঁত দিয়ে ছাতার হাতল তৈরি করত।

১৭১৫ সালে মারিয়াস নামক এক পারস্য নাগরিক পকেট ছাতা আবিষ্কার করার কৃতিত্ব দাবি করেন। এরপর উনিশ শতকের দিকে ছাতাকে বিভিন্ন ডিজাইনের এবং সহজে বহনযোগ্য করা হয়। ১৮৫২ সালে গেজ বা গেড নামে এক প্যারিস নাগরিক স্বয়ংক্রিয় সুইসের সাহায্যে ছাতা খোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯২০ সালে জার্মানির বার্লিন শহরের হ্যানস হাপট নামের এক ব্যক্তি ছাতা তৈরিতে অভিনব পরিবর্তন আনেন। তিনি ছোট সাইজের সহজে পকেটে বহনযোগ্য ছাতা তৈরি করেন। ১৯৩৬ সালে লর্ড ও লেডি নামের এই ছাতা জার্মান জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল। ১৯৫০ সালের দিকে জার্মানির এই নিরিপস্ কোম্পানির ছাতার ডিজাইন ও আকার ভ্রমণকারীদের মাঝে খুব সমাদৃত হয়েছিল। ১৯৬০ সালে পলেস্টার কাপড়ের ছাতা পৃথিবীজুড়ে ব্যাপক হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। উপহার হিসেবেও ছাতা এই সময় খুবই সমাদৃত হয়েছিল।

বিংশ শতকের শেষের দিকে ছাতার আর এক ধরনের পরিবর্তন আসে। একসময় ছাতার রং কালো থাকলেও এখন বাহারি রঙের ছাতা তৈরি করা হচ্ছে। অ্যালুমিনিয়াম, ফাইবার গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহার করে অনেক আকর্ষণীয় ডিজাইনের ছাতা এসেছে বাজারে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধের আলাদা সুইচ চমক এনেছে জনগণের মাঝে। ছাতার কাপড়, রং, সাইজ ও ডিজাইনে এসেছে অনেক ধরনের পরিবর্তন। অষ্টাদশ শতকে বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে রোদ কিংবা বৃষ্টি সবসময়ই ছাতা ব্যবহৃত হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত