প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান শান্তনু : ঝুমন দাসকে কি ‘পাকিস্তানি কানুন’ দেখানো হচ্ছে?

হাসান শান্তনু : কোনো রাষ্ট্রের প্রশাসন, আদালত বিশেষ ধর্ম প্রতিষ্ঠার ‘দায়িত্ব’ পালন করতে থাকলে সেখানে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিও ‘ধর্মীয় অনুভূতির রাজনীতির’ শিকার হন। পাকিস্তানি আদালতের ‘অনন্য নজির’ স্থাপন করেছে। ঘটনাটা সালমান রুশদির ‘স্যাটার্নিক ভার্সেস’ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর। ১৯৯৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অর্ধ উলঙ্গ এক পুরুষ, নাম আরশাদ জাভেদ। ইসলামকে ‘অবমাননা’ করায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় শোনে খুশিতে নাচতে থাকেন তিনি।

তার ‘অপরাধ’, রায়ের কয়েক মাস আগে ‘স্যাটার্নিক ভার্সেস’ বিরোধী মিছিল বের হয় ‘পবিত্র’ পাকিস্তানের পথে। মিছিলের সামনে এসে জাভেদ নাচতে থাকেন। দাবি করেনÑ ‘সালমান ঠিক লিখেছেন।’ এরপর তিনি গ্রেপ্তার। পরে চিকিৎসাও হয় তাঁর মানসিক হাসপাতালে। চিকিৎসক তাঁকে পাগল ঘোষণা করেন। তবে আদালত বলেন, পাগল হলে ‘ইসলাম ধর্ম অবমাননার’ সাজা পাবেন না, এ কথা পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনে নেই। ‘ইসলাম’ রক্ষার নামে নানা বর্বরতা চলতে থাকা পাকিস্তান এসব কারণেই পৃথিবীতে অন্যতম জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে নিন্দিত।

ফেসবুকে হেফাজতি মৌলভি মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাসের জামিন হচ্ছে না বারবার আবেদনের পরও। কথিত ওই স্ট্যাটাস কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, প্রতিমা ভাঙচুর, সম্পদ লুটপাট, তাদের শারীরিক নির্যাতনের মামলার সব আসামি জামিন পেয়েছেন। ‘হামলা, লুটপাটের চেয়ে নিরীহ এক সংখ্যালঘুর যৌক্তিক একটা স্ট্যাটাস বেশি ভয়ঙ্কর’Ñ এমন চিন্তা সভ্য কোনো সমাজের নয়। দৈনিক ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যায় প্রখ্যাত লেখক ড. হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাস প্রকাশিত হলে তখন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত অভিযোগ তুলে- ‘বইটি ইসলাম বিরোধি’।

অথচ ওই উপন্যাস লেখা হয় জামায়াত, শিবিরের সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্ষণ প্রসঙ্গে। জামায়াত-শিবির মানে ধর্ম নয়, তেমনই মামুনুল এক নামের এক ধর্মান্ধ মানেও ইসলাম নয়। ‘জামায়াত-শিবির মানে ইসলাম’ বলে চারদলের জোট সরকারের যে অবস্থান ছিলো, ঝুমন দাসের বেলায়ও প্রশাসনের একটা অংশ মনে করছেÑ ‘মামুনুল সমান সমান ইসলাম’। এর প্রতিফলনও ঘটছে, জামিন হচ্ছে না তাঁর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেছিলেন, ‘বিচার ব্যবস্থায় চারটি পক্ষ কাজ করে৷ পুলিশ, রাষ্ট্রপক্ষ, আদালত ও কারাকর্তৃপক্ষ৷ যেকোনো একপক্ষের অদক্ষতা, অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে৷ অপরাধী ছাড়া পেয়ে যেতে পারেন, আবার নিরপরাধ কেউ কারাগারে থাকতে পারেন’।
নাগরিক অভিজ্ঞতা বলছে, কোনো ঘটনায় মিথ্যা মামলার নানা সুযোগ আছে৷ আবার জামিন অযোগ্য মামলায়ও বিচারক সন্তুষ্ট হলে কাউকে জামিন দিতে পারেন৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, ‘আইনে ধর্ম অবমাননার কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় এর অপব্যবহার হচ্ছে। হয়রানি করা, অসৎ উদ্দেশ্যে আইনটি ব্যবহার হচ্ছে’। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত