প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাজারের বহুল বিক্রিত ওষুধগুলো টার্গেট করে নকল করতেন তারা

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্যান্সার ও করোনা মহামারিতে বহুল ব্যবহৃত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ওষুধ এবং তা তৈরির সরঞ্জামসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তরিকুল ইসলাম, সৈয়দ আল মামুন, সাইদুল ইসলাম, মনোয়ার, আবদুল লতিফ, নাজমুল ঢালী ও সাগর আহমেদ মিলন।

[৩] বুধবার রাজধানীর রাজধানীর কাজলা, আরামবাগ ও মিটফোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একমি কোম্পানির মোনাস-৭০০ বাক্স, স্কয়ার কোম্পানির সেকলো-৫০ বাক্স, জেনিথ কোম্পানির ন্যাপ্রোক্সেন প্লাস-৭৪৮ বাক্সসহ অন্যান্য কোম্পানির বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ, তা তৈরির মেশিন, ডায়াস ও ওষুধের খালি বাক্স উদ্ধার করা হয়।

[৪] গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, চক্রটি বিভিন্ন নামি-দামি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বাজারের বহুল বিক্রিত ওষুধগুলো টার্গেট করতো। এসব ওষুধ হুবহু নকল করে তৈরি করতো। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতো। এমনভাবে প্যাকেটজাত করতো যে ক্রেতাদের এসব নকল ওষুধ কোনোভাবেই চেনার উপায় থাকতো না। এসব নকল ওষুধের কারণে একদিকে যেমন রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরেছেন তেমনি আসল ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন।

[৫] শুক্রবার বেলা ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার তরিকুল ও সৈয়দ আল মামুন কারখানা স্থাপন করে জীবন রক্ষাকারী এ সকল নকল ওষুধ তৈরি করতেন। সাইদুল ইসলাম এ নকল ওষুধ তৈরির প্রধান কারিগর। মনোয়ার এ্যালো ফয়েল ও আবদুল লতিফ ওষুধের পাতায় ছাপ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসহ সিলিন্ডার সরবরাহ করতো। গ্রেপ্তার নাজমুল ঢালী ওষুধের বাক্সে ছাপ দেওয়ার পর তৈরি করা এ সকল নকল ওষুধ গ্রেপ্তার সাগর আহমেদ মিলনের নেতৃত্বে মিটফোর্ডের কয়েকটি গ্রুপের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো।

[৬] তিনি বলেন, চক্রটি দেশে নকল ওষুধ ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলকে টার্গেট করে বহুল বিক্রিত ওষুধগুলো নকল করে তারা বাজারজাত করছিল। আমরা আট ধরনের নকল ওষুধ উদ্ধার করেছি। যেসব ওষুধ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, সেগুলোই নকল করে বাজারজাত করছিলো চক্রটি। আসল ওষুধের প্রকৃত দামের তুলনায় অনেক কম দামে নকল ওষুধগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছিলো। এগুলো মাদকের থেকেও ভয়ঙ্কর। মানুষ অসুস্থ হয়ে ওষুধ খায়। আর নকল ওষুধ খেয়ে মানুষ সুস্থ না আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। চক্রটি যেভাবে ওষুধ নকল করে তা সাধারণ ক্রেতারা বুঝতে পারে না। শুধুমাত্র যারা ম্যানুফেকচার করে তারাই বুঝতে পারে। সেজন্য ওষুধ প্রশাসনসহ আরও যারা আছেন, তাদের সক্রিয় হয়ে এসব নকল ওষুধ প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

[৭] ডিবি প্রধান বলেন, এসব ওষুধের ইনগ্রিডিয়েন্টসে মূলত প্রয়োজনীয় কোনও সক্রিয় উপাদান থাকে না। এছাড়া মেইন স্টার্চ নিম্ন গ্রেডের ব্যবহৃত হয়। এমনকি স্টেরয়েড ও ডাই ব্যবহৃত হতে পারে। নন ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রেডের এসব কেমিক্যাল সেবনের ফলে মানুষের কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্রের মারাত্নক ক্ষতি হতে পারে। এ সকল নকল ওষুধ সাধারণ মানুষের জন্য মরণ ফাঁদ।

[৭] তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাজারে ১৪৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। ভেজাল এবং নকল ওষুধ এই সুনাম এবং আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মফস্বলের ওষুধ ফার্মেসিগুলোকে টার্গেট করে একটি অসাধু সংঘবদ্ধ চক্র সারাদেশে ভেজাল ও নকল ওষুধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ধরণের ওষুধ মাদকের চেয়েও ভয়াবহ।

[৮] অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, ঢাকা ছাড়াও কুমিল্লা ও বগুড়ায় চক্রটির ওষুধ তৈরি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি জায়গায় তাদের কারখানা রয়েছে, সেগুলো তদন্তের স্বার্থে আমরা এখন বলবো না।

[৯] ইউনানি ওষুধ নকলের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারকরা অনেক ওষুধ তৈরি করে। বেসিক, হাকিম ও রাজ্জাক ইউনানির বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিষয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

[১০] নকল ওষুধের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয় চৌধুরী বলেন, নকল ওষুধ ব্যবহারে হার্ট, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মৃত্যুও হতে পারে। তাছাড়া গর্ভবতী নারী ও তার সন্তানের মারাত্মক ক্ষতিসহ মানব দেহে নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। নকল অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরে দেখা যায়, আসল অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও এর কার্যকারিতা থাকে না। ফলে ওই রোগীর চিকিৎসা করতে অনেক বেগ পেতে হয়।

[১১] ডিবি প্রধান বলেন, যদি কেউ আমাদের নকল ওষুধ কারখানার বিষয়ে অবগত করেন তাহলে আমরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত