শিরোনাম
◈ একটি গবেষণা রকেট যেভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলেছিল প্রায় ◈ এক হালি ডিমের দামেও মিলছে না একটি লেবু ◈ দুর্বল উলভসকে হারা‌তে পার‌লো না আর্সেনাল ◈ ইমরান খা‌নের অসুস্থতা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে তোপ সৌরভ গাঙ্গু‌লির, উদ্বেগে আজহারও ◈ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা মোকাবেলা করতে পারবে বিএনপি সরকার? ◈ ভারতের আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশ, ৭০ দেশের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ ◈ যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে হোটেলের বাসন মাজতে হলো হ‌কি খেলোয়াড়দের ◈ আজ বাংলামোটরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি ◈ রমজানে মেট্রোরেল চলবে নতুন সময়সূচিতে, ট্রেনে ইফতার করা নিয়ে যা বললো কর্তৃপক্ষ ◈ শেখ বশিরউদ্দীনকে বিমানের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিলো সরকার

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২১, ০৩:২৬ রাত
আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০২১, ০৩:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মুসা কলিম মুকুল: মোল্লাদের মন পাবার আশায় ধর্মনিরপেক্ষ আফগান প্রেসিডেন্ট নজিবুল্লাহ প্রচুর মাদ্রাসার বিস্তার ঘটিয়েছিলো

মুসা কলিম মুকুল: সমরাস্ত্রসংখ্যা আর সেনাসংখ্যার জোর দিয়ে শেষরক্ষা হয় না। অস্ত্রের পেছনে যে সৈনিক, সে কতোটা অটল সেটাই মুখ্য। জীবনকে মৃত্যুর মুখে অটলতা দেয় প্রেম। জীবনে প্রেমের উজান আসে জনসংস্কৃতির সিন্ধু হতে। দেশের মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশকে; আকাশ, বাতাস, মাটি, নদী, ফল, ফসলকে উদ্যাপন করবে মানুষে মানুষে সুরে সুর মিলিয়ে- সেই তো সংস্কৃতির জোয়ারি, জীবনের সৌন্দর্য। ব্যাংক-বীমা-ব্যারেজ-সড়ক-প্রাসাদ-এসি-ভোগ-বিলাস এসব নিয়ে কাড়াকাড়িই যখন রাষ্ট্রপ্রধানের মদদে আরাধ্য হয় জনজীবনে, জীবন হয় আত্মকেন্দ্রিক ও দাম্ভিক। তখন দেশের আকাশ, দেশের বাতাসের বাঁশি মানুষের মিলিত প্রাণে বাজে না আর। এসব রাষ্ট্রপ্রধানের নামে আকাশ কাঁপিয়ে পটকাবাজি ফোটানো যায় খুব, বন্দুকের সামনে জীবন বাজি রাখা যায় না।

মোল্লাদের মন পাবার আশায় ধর্মনিরপেক্ষ আফগান প্রেসিডেন্ট নজিবুল্লাহ প্রচুর মাদ্রাসার বিস্তার ঘটিয়েছিলো। এর মানে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা আনুপাতিক হারে সংকুচিত করে এনেছিল। এমন হলে মোল্লারা বাহবা তো দেবেই। নজিবুল্লাহকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য মোল্লাদের যে সাংস্কৃতিক কাজের প্রয়োজন, এইসব মাদ্রাসাই হয়ে উঠলো তার কেন্দ্র। মোল্লাদের সাংস্কৃতিক কাজ তাদেরকে শক্তিশালী করল। তারা আরো সাংস্কৃতিক বদল দাবি করতে পারলো। নিউটন, হাইয়ান, ডারউইন, মর্গান, মার্ক্স, রবীন্দ্রনাথ, রুমী, সাদী, চিশতি, জ্বিলানীর জায়গা নিতে থাকলো সালাফিজম, ওহাবিজম, মওদুদীজম। সুফি-বাউলের চুলদাড়ি কাটা হলো, গর্দানও। একতারা ভাঙা হলো। ওহাবিজমের ওয়াজই রইল বাকি প্রধান সাংস্কৃতিক কাজ। রাষ্ট্রীয় সেনা আর পুলিশদেরও কানে ঢোকাবার জিনিস টিকে রইল কেবল ওই ওহাবিজম। মোল্লাদের আচমকা অভ্যুত্থানের দিনে পটকা ফোটানো চাটুকার কোন কাজে আসে না।

ঘানি সরকার দুর্নীতিবাজ- সকলেই জানে। পুলিশের চাকরিতে, মিলিটারির চাকরিতে নিয়োগ পেতে যদি ফসলের জমি বেঁচে ঘুষ দেওয়া লাগে, সে পুলিশ, সে মিলিটারি দেশের হয়ে লড়ে না কোনোদিন। তারা বন্দুক ফোটায় দুর্নীতির ভাগের জন্য, বন্দুক না ফোটায়ও একই উদ্দেশে। ঘানির উচিত ছিল, সংস্কৃতির শক্তির বিকাশ ঘটানো, ইশকুলগুলো অর্থবহ করা, মতপ্রকাশে উৎসাহ দেয়া, কার্টুনিস্ট ও কবিকে প্রণোদনা দেওয়া, দেশীয় ক্রীড়ার বিস্তার ঘটানো, নদী ও মানুষে মিলিয়ে দেওয়া। দক্ষিণ কোরিয়া তাঁর সামনে উদাহরণ হয়েছিলো। তাহলে জনগণই তাকে রক্ষা করত। অথচ তিনি চুরিদারি আর ওহাবি ওয়াজ-মেহফিল কায়েম করলেন দেশে। ন্যায়বিচারের পথে হাইকোর্ট বাধা হয়ে দাঁড়ালে আল্লাহর দরবার আপনি খুলে যায়। মানুষের পরিবর্তন দরকার ছিল। পুলিশ, মিলিটারির মনও উঠে গিয়েছিল, মন যোগানোর তো শেষ থাকে। বিপন্ন আফগান জনগণের সামনে তালেবানই ছিলো একমাত্র আশু বিকল্প। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়