প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মসজিদ মন্দির গির্জা প্যাগোডা উন্নয়ন প্রকল্প পরামর্শক খাতে ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক: মসজিদ, মন্দির ও গির্জা নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে এলজিইডি। কাজগুলোর জন্য ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’-এ এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু এতে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এ খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি যৌক্তিকতা তুলে ধরে ব্যাখ্যা দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির পরিকল্পনা, ডিজাইন ও গবেষণা ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, প্রকল্পটির আওতায় সারা দেশে ১৭ হাজারের বেশি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো হবে। এক্ষেত্রে একজন প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যদি অভিজ্ঞ, দক্ষ ও বিশ্বস্ত আর্কিটেক্ট বা ডিজাইনার দেওয়া যায় তাহলে কাজগুলো সুন্দর হবে। এছাড়া প্রকল্পটি ৫ বছর ধরে চলবে। এক্ষেত্রে একজন বা দুজনের বেতন হিসাবে ৩ কোটি টাকা খুব বেশি নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা অবশ্যই পরিপালন করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হবে। পিইসি সভায় জানানো হয়, চলমান উন্নয়নকে টেকসই করতে মানবসম্পদ অর্থাৎ জনগণের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন অপরিহার্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় সরকারি খাসজমি বা দান করা জমিতে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন বা পুনর্নির্মাণ করা হবে। এক্ষেত্রে সারা দেশে ১৭ হাজার ৩২১টি মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, ঈদগাহ, কবরস্থান ও শ্মশানঘাট উন্নয়ন, সংস্কার বা সম্প্রসারণ করা হবে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান মতিউর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ছোট ছোট স্কিম বাস্তবায়ন করা হবে। যেমন : মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ বা মেরামত ইত্যাদি। এলজিইডির দক্ষ প্রকৌশলীরা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করবেন। তাই পরামর্শক সেবা খাতে এত বেশি বরাদ্দের যৌক্তিকতা নেই। এ সময় এলজিইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পটি ছোট ছোট স্কিমে বাস্তবায়ন হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থাপনা নান্দনিকতা রক্ষা ও ডিজাইনের জটিলতার কারণে পরামর্শক সেবার প্রয়োজন হবে। কাজেই এ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পরামর্শক সেবা খাতে বরাদ্দ যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে পরামর্শকের ক্যাটাগরি, কার্যপরিধি, জনমাস প্রভৃতি ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখ করতে বলা হয়। সভায় বলা হয়, বিভিন্ন আইটেমের ব্যয় পর্যালোচনার মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রচার বা বিজ্ঞাপন, অফিস ভবন ভাড়া, প্রশিক্ষণ, সার্ভে, সম্মানি, মেরামত, কম্পিউটার ক্রয় ও কন্টিনজেন্সি খাতে ব্যয় কমানো যেতে পারে। এ বিষয়ে সবাই একমত হন। পরিকল্পনা কমিশনের উপপ্রধান (পল্লি প্রতিষ্ঠান) বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত স্কিমগুলোর সঙ্গে চলমান কোনো স্কিমের দ্বৈততা আছে কি না, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনেক সময় সংস্থাপ্রধান দ্বৈততা নেই বলে প্রত্যয়নপত্র দিলেও বাস্তবে ভিন্নচিত্র দেখা যায়। সূত্র: যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত