প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আমন রোপণে ব্যস্ত বোরহানউদ্দিনের কৃষকরা

মনিরুজ্জামান: [২] আমন রোপণে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের চাষীরা। আউশ মৌসুমে ধানের তুলনামূলক বেশি দাম পেয়েছেন এখানকার চাষীরা। করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এক ইনিঞ্চ জমিও ফাঁকা রাখা যাবে না। পর্যাপ্ত সার ও ওষুধ মজুত থাকায় কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে ঝুকছে আমন আবাদে। এমন বক্তব্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকের।

[৩] বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে উপশী এবং ২ হাজার ৯’শ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে তাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ ভাগ অর্জিত হয়েছে।

[৪] সরেজমিনে বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ব্লকের কৃষক মালেক, এছহাক আলী ও রেশাদ আলী জানান তারা যথাক্রমে ৩,২,১ একর জমি আমন চাষের আওতায় আনেন।যার প্রায় ৮০ ভাগ রোপণ করা হয়েছে। জালা কিংবা সারের কোন সমস্যা নাই বলেন জানান তারা। এছাড়া ব্রি ধান ৫২, ৭৬ বিনা ধান-১৭, ২০ এবং স্থানীয় কার্তিক সাইল, মধুমালতি, সাদা মোটা, সাদা চিকন, রাজাসাইল ধানের চাষ হবে বলে জানান তারা

[৫] কুতুবা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের চাষী অহিদ সর্দ্দার জানান, তিনি ৩ একর, মোতাহার আড়াই একর ও জলিল দেড় একর জমিতে চাষ করেন। সার, ওষুধের সমস্যা হয় না। তাছাড়া কোন সমস্যার পড়লে কৃষি অফিসার তাকে সহযোগিতা করেন। বড় মানিকা বাটামারা গ্রামের কৃষাণি সুমাইয়া বেগম বলেন, ১ জমিতে তিনি এবার আমন আবাদ শুরু করছেন। একই এলাকার রবি আলম বলেন, ১০কড়া জমিতে তিনি আউশ ধান করছিলেন।

[৬] সাচড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বর্গাচাষী হরজন আলী (৫৫) জানান, ৪ একর জমিতে তিনি বিআর- ২২ জাতের ধান চাষের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুসারে বীজতলা প্রস্তুত করেন। আমন রোপনের কাজ পুরোদমে শুরু করেছেন তিনি। টবগী ইউনিয়নের নুর হোসেন হাওলাদার, কাচিয়া ইউনিয়নের উত্তম কুমার দাস, পক্ষিয়া ইউনিয়নের নাছির, হাবিবুল্যাহ জানান, তারা আউশের চেয়ে আমন চাষ বেশি করেছেন। চলতি বছর ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় তারা আমন চাষে আগ্রহী হন। এছাড়া ব্রি-৫২ জাতের ধানটি জলসহায়ক এবং বেশি ফলন দেয় বিধায় তারা আমন চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন।

[৭] সাচড়া ৬ নং ওয়ার্ডের বাথান বাড়ির কৃষক শহিদুল মীর, জানান ১০ একর জমির মধ্যে জোয়ারের আগে ২ একর রোপন করি। পানিতে তলিয়ে থাকার কারনে রোপনকৃত ধানের অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। এখন ৪৩০০ টাকার জালা কিনে চারা সমস্ত জমিতে আমন রোপন করছেন। এমনই এক চাষী বাথান বাড়ির গ্রামের শাফিজল হক। তিনি জানায়, প্রতি একর জমিতে ধান রোপনের জন্য জমি তৈরি, চাষ, সার, কিটনাশক, শ্রমিক, জমি থেকে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত পরিচর্যা, আগাছা দমন, ধান কাটা ও মাড়াই সহ প্রায় ১৯ হাজার টাকা খরচ হবে। একই গ্রামের ইউসুফ কাজি জানান, চলতি মৌসুমে ৪ একর জমিতে আমনের চারা রোপন করবে ৷ একর প্রতি ৩৫-৪০ মন করে ভালো ফলন হলে ও দাম ভালো পেলে লাভের মুখ দেখবে ৷

[৮] উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আলম, বিশ্বজিৎ দে, খায়রুল আলম মুন্সি জানান, তাদের ব্লবকগুলো আমন রোপন শেষ হয়েছে।ব্রি-৫২ ধানটি জলসহিষ্ঞু ও ফলন ভালো বিধায় তারা কৃষকদেরকে এটা চাষে পরামর্শ দিয়েছেন।

[৯] বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারক জানান, আমনের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক প্রযুক্তি লাইন, লেগো, পার্চিং ঠিক রেখে কাজ করছে কৃষকরা। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তার মাঠ পর্যায়ে সব সময় মনিটরিং করছে।তাই কৃষকরা খুবই উজ্জীবিত। টার্গেট পূরণ হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত