প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ভালো নির্মাতার হাতে পরলে একজন বড় অভিনেত্রী হওয়ার পোটেনশিয়াল পরীমনি আছে

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: অবশেষে স্বপ্নজাল ছবিটি আমিও দেখেছি। এই প্রথম পরীমনির অভিনয় দেখলাম। এর আগে কেবল নাম শুনেছি কিন্তু তার অভিনয় কখনো দেখা হয়নি। ইন ফ্যাক্ট বোট ক্লাব ঘটনার পর তার কান্নাকাটি আমার কাছে শিশুসূলভ নেকামো মনে হয়েছিলো। স্বপ্নজালে যে খুব ভালো অভিনয় করেছে তা বলবো না তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের অনেক অভিনেত্রী থেকে বেশ ভালো। এই ছবির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে গুণী পরিচালক এবং গুণী সহ এবং পার্শ অভিনেতা থাকলে অভিনয় বেটার হতে বাধ্য। এছাড়া জানলাম পরীমনি কেবল অনাথ ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে জন্মদিন পালনই করেনি। কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কবিতাকুঞ্জ নির্মাণের পূর্বে অর্থ সংকটে পড়ে ফেইসবুকে সাহায্য চেয়েছিলেন। সেই আহবানে নায়িকা পরীমনি সারা দিয়ে কবিতাকুঞ্জের জন্য এক লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কবি নির্মলেন্দু গুণ পরীমনি অভিনীত স্বপ্নজাল ছবিটি বসুন্ধরা শপিং মলের সিনেপ্লেক্সে গিয়ে ছবিটির প্রিমিয়ার শো দেখেছিলেন। নির্মলেন্দু গুণ বলেন ‘পরীমনি আমার স্বপ্নজাল ‘কবিতাকুঞ্জ’- এর আজীবন এবং এক নম্বর সদস্য’।

শুধু তাই না বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে খ্যাতিমান অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ নামক একটি ছবিতেও পরীমনি অভিনয় করেছেন। তৌকির আহমেদের স্ফুলিঙ্গ সিনেমার মহরতে পরীমনির কয়েকমিনিটের একটি বক্তব্যও শুনলাম। শুনে মনে হলো এই মেয়েটি কথা ভালো বলে। সেন্স অফ হিউমারও বেশ ভালো। মনে হলো ভালো নির্মাতার হাতে পরলে একজন বড় অভিনেত্রী হওয়ার পোটেনশিয়াল ওর আছে। এছাড়া ১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি পরীমনির মুক্তি চেয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। এইসবই প্রমাণ করে পরীমনি তার নিজের গুণের মাধ্যমেই দেশের শিল্পাঙ্গনের মেধাবী মানুষদের সুদৃষ্টি পেয়েছেন। অবশ্য ফ্যান ফলোয়ারদের দৃষ্টিও অন্য অনেকের চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছেন। তবে বাংলাদেশে মেয়েদের ফ্যান ফলোয়ার হলো বিশ্বে সবচেয়ে বড় হিপোক্রিট ফ্যান ফলোয়ার। এরা ফলো করে তাকে দেখে পুলকিত অনুভব করার জন্য। কিন্তু অন্তরে থাকে ঘৃণা।

এইরকম একটা মেয়ে আজ জেলে। মামলা হয়েছে। মামলা মামলার মতো চলতে পারতো। সে জামিন পাওয়ার যোগ্য ছিলো। নদী দখল করে বোট ক্লাবের জন্ম। সেই বোট ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছিলেন পরীমনি। যার ফলে তাকে জেলে যেতে হয়। কিন্তু তার জামিন হয়েছে। নদী দখল করে মদ খাওয়ার জন্য যারা ক্লাব বানালো তাদের বিচারের কোনো খবর নেই। পরীমনির হৈচৈয়ের কারণে সেই মামলার আসামি থেকে শুরু করে ক্লাবের হর্তা কর্তা সবাই বিপাকে পরে। ক্ষমতার প্রভাবে খুব দ্রুত জেল থেকে বের হয়েও আসে। নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় অবস্থিত সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সেজান জুসের কারখানায় আগুন লেগে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়। কোম্পানির মালিক পক্ষের সকলেই এখন জামিনে মুক্ত। মুনিয়ার মৃত্যুতে অভিযোগ আছে এটি হত্যা এবং এই অভিযোগের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের ছেলে আনভীরের দিকে তীর। পুলিশ কোনো প্রকার ডিএনএ টেস্ট না করে আনভীরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়। সিকদার গ্রুপের দুই ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা হয়। তাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিদেশে চলে যেতে দেওয়া হয়। কিন্তু পরীমনির জামিন হয় না। পরীমনির অপরাধটা কী? পরীমনির বিরুদ্ধে আইনজীবীর অভিযোগ, ‘তিনি নায়িকার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দেশের অনেক শিল্পপতি, কোটিপতি ও সম্ভ্রান্ত ঘরের লোকদের ও তরুণ সমাজকে ডিজে পার্টির মাধ্যমে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’ ঙয ৎবধষষু? আমাদের শিল্পপতি, কোটিপতিদের সন্তানরা কি এতোই ভোলাভালা বলদ? লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত