প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাবুল বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ

নিউজ ডেস্ক: তালেবানের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় কাবুল বিমানবন্দরে হুড়োহুড়িতে অন্তত পাঁচ জন মারা গেছে।

নতুন করে তালেবান শাসনের প্রথম দিনে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে অন্যান্য শহরগুলোও। রবিবার নিজেদের জয়ী দাবি করে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দেয় তালেবান। এবার সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি। চাইছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জঙ্গিগোষ্ঠীটির উপনেতা মোল্লা বারাদার আখুন্দ হতে পারেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট। ডিবিসি

তালেবান উপনেতা মোল্লা বারাদার আখুন্দ বলেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ যুদ্ধ শেষ হয়েছে। আমরা যা চেয়েছে তা পেয়েছি। জনগণদের ওপর বন্দুক চালাতে আমাদের ভূখন্ড ব্যবহার করতে দেব না।’

সাধারণ নাগরিকদের কোনও ক্ষতি করবে না বলে আশ্বস্ত করলেও তালেবানের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে দেশটির হাজারো মানুষ। দেশ ছাড়তে কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিমানে ওঠার সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়ে মার্কিন সেনারা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিমানের চাকা ধরে ঝুলতে ঝুলতে যাত্রা করছেন কেউ কেউ। উড়ন্ত একটি বিমানের চাকা থেকে পড়ে ৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতিতে কাবুল বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো আফগানিস্তানে অবস্থানকারী নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে তোড়জোর শুরু করেছে। কাবুলে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও যেসব আফগান দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক, তাদের বিনা বাধায় দেশ ছাড়তে দিতে তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ ৬৫টি দেশ। এরই মধ্যে নামানো হয়েছে কাবুলের দূতাবাসের মার্কিন পতাকা।

এদিকে সোমবার আফগানিস্তান ইস্যুতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, সহিংসতা নিরসনে উদ্যোগী না হলে এ বছর সর্বোচ্চ বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে আফগানিস্তানে।

তালেবানের উত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ চেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেও, তালেবানের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া উচিৎ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ। এটা স্পষ্ট যে কাবুলে খুব দ্রুতই একটা নতুন সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। আমরা চাইনা কেউ তালেবানকে দ্বিপাক্ষিকভাবে স্বীকৃতি দিক।’

অন্যদিকে, তালেবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারের আশা প্রকাশ করেছে চীন।

এর আগে, রবিবার কাবুলে প্রেসিডেন্ট ভবন দখলে নেয় তালেবান। তবে, তার আগেই দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি। প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে তালেবানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত