প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোভিড ভ্যাকসিনের চাহিদা পূরণ, ভারতীয় ‘ফার্মা টাইকুন’দের পোয়াবারো

রাশিদ রিয়াজ : ভারতে কোভিড ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর আগামী কয়েকমাসে দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের অধিকাংশের টিকা প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে টিকা প্রয়োজন ২ বিলিয়ন বা ২শ কোটি ডোজ। ভারতের ফার্মা টাইকুনদের এ চাহিদা পূরণে বিশাল বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। বিশ্বে কম খরচে টিকা উৎপাদনের জন্যে ভারতের বিশেষ সুনাম রয়েছে। বছরে ২৪ বিলিয়ন ডলারের টিকা রফতানি করে দেশটি। ভ্যাকসিন পাওয়ার হাউস হিসেবে দেশটির পরিচিতি রয়েছে বিশ্বে। সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সাইরাস পুনাওয়ালা টিকা রফতানি করেই বিলিওনার হয়েছেন। ফোর্বস

এতকিছুর পরও ভারতে কোভিড টিকার ঘাটতি রয়েছে। ধীরগতির টিকাদানে টিকার জন্যে হাহাকার চলছে। এখন পর্যন্ত ভারতের জনসংখ্যার এক দশমাংশ দুই ডোজ টিকা দিতে পেরেছে। প্রতি তিনজনের একজন এক ডোজ টিকা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ভারতে এ পর্যন্ত ৫টি কোভিড টিকা ব্যবহারের জন্যে অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি আরো ১৩টির বিভিন্ন পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। মহামারির শুরুতে পুনাওয়ালার পুত্র আদর নতুন একটি টিকা ফ্যাক্টরি নির্মাণের জন্যে ৮’শ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেরাম প্রতিমাসে ১১০ মিলিয়ন ডোজ টিকা তৈরি করছে। এগুলোর বেশিরভাগ কোভিশিল্ড। ৪শ থেকে ৬শ রুপির মূল্যের মধ্যে এসব টিকা তৈরি হচ্ছে এ্যাস্ট্রা-জেনেকার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী। কোভিশিল্ড তৈরি করে সেরাম মাসে আয় করছে ৬শ মিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে সেরাম অন্যান্য কোডিভ টিকা যেমন নোভোভ্যাক্স, কোভিভ্যাক, স্পুটনিক টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের নাগরিকরা এর পাশাপাশি কোভ্যাক্সিন টিকা দিতে পারছেন। হায়দ্রাবাদের উদ্যোক্তা কৃষ্ণা এলার ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল এ টিকা তৈরি করছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের সহায়তায় এ টিকা তৈরি হচ্ছে। মাসে ২৫ মিলিয়ন টিকা তৈরি করছে এ কোম্পানিটি। এ কোম্পানিটি নাকে ব্যবহারের জন্যে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এ ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।

হায়দ্রাবাদে বায়োলজিক্যাল ই কোম্পানি জনসন এন্ড জনসন টিকা তৈরির লাইসেন্স পেয়েছে। কোরবিভ্যাক্স নামে আরেক টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিটি। তিন পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। কানাডার বায়োটেক ফার্ম প্রোভিডেন্সের সঙ্গে এ কোম্পানি ৩০ মিলিয়ন টিকা সরবরাহে আরেকটি চুক্তি করেছে। এ চুক্তির আরেক ধাপে আগামী বছরের মধ্যে ৬শ মিলিয়ন ডোজ টিকা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে বছরে এ সংখ্যা এক বিলিয়নে উন্নীত করা হবে। ভারতের বেশ কয়েকজন জেনারিক উদ্যোক্ত দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরির সুযোগ নিতে সমর্থ হন। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ফার্মা বিলিয়নিয়ার পঙ্কজ প্যাটেলের কোম্পানি জাইডুস ক্যাডিলা, এর সদর দফতর পশ্চিম ভারতের আহমেদাবাদ শহরে। কোম্পানিটি জাইকোভ-ডি নামে কোভিড টিকা তৈরির পর তিন ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ব্যবহার করা যাবে। পুনের এমকিউর ফার্মাসিউটিক্যালসের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যাল যুক্তরাষ্ট্রের এইচডিটি বায়োটেক কপোরেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এমআরএনএ ভ্যাকসিন এইচজিসিজিরোওয়াননাইননামে একটি টিকা তৈরি করছে। এমকিউর ভারতের স্টক মার্কেটে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিদেশি টিকা আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর ভারতের রেড্ডিস ল্যাবরেটরি রাশিয়ার সঙ্গে স্পুটনিক টিকা আমদানির জন্যে এক চুক্তি করেছে। রাশিয়ার সভরেইন ওয়েলথ ফান্ডের সঙ্গে ভারতের অন্তত ৬টি কোম্পানি রুশ টিকা আমদানির চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এগুলো হচ্ছে হেটেরো বায়োফার্মা, গ্লান্ড ফার্মা, স্ট্রাইডেস ফার্মা সাইন্স, প্যানাসিয়া বায়োটেক, বীরচৌ ল্যাবরোটিস ও মোরিপেন ল্যাবরোটোরিস। গত জুনে ভারতের সিপলা মডার্নার টিকা আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারমূল্যে ব্যাপক স্ফীতি ঘটে।

সর্বাধিক পঠিত