শিরোনাম
◈ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে চার ফ্রন্টে কঠিন পরীক্ষা সরকারের ◈ হেটমায়ারের ঝড়ে রেকর্ড, বড় জয় নিয়ে সুপার এইটে ক্যারিবীয়রা ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মাঠ প্রশাসনে বড় রদবদল, একযোগে ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি ◈ ন‌ভেম্ব‌রে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ  ◈ আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকার ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে ভাতা দেবে: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন? ◈ সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে প্রবেশের নির্দেশ, বিনা অনুমতিতে বাইরে নয়: আইন মন্ত্রণালয় ◈ ১২ মার্চ সকাল ১১ টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ◈ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ পাচ্ছেন যাঁরা

প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২১, ০৩:৪৪ রাত
আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০২১, ০৩:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম: বিশ্বাস করতে চাই, দেশের কোভিড পরিস্থিতি কিছুদিন পর কিছুটা সহনীয় হবে

ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম: সহজ করে একটা হিসাব আপনাদের জানাতে চাই। গত বছরের এপ্রিল থেকে আজ পর্যন্ত মোট ষোল মাসে আমাদের আইসিইউতে রোগি ভর্তি হয়েছেন ৬৩৯ জন। আমরা স্টেপডাউন করতে পেরেছি ২২৭ জনকে। মারা গেছেন ৩৭২ জন। ৩০ জন অভিভাবকের ইচ্ছায় প্রাইভেট আইসিইউতে শিফট হয়েছেন, ১০ জন ইন সিটু আছেন। এই পুরো ষোলো মাসে গড় মৃত্যুহার ৫৮ শতাংশ। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও এর চেয়ে কমাতে পারিনি। সরকারি জায়গাগুলোতে হয়তো কেউ কেউ আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন। তার কিছু ব্যাখ্যা আছে।

কাজেই আপনারা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট এবং হতাশ হতে পারেন। তবে আমরা যখন রোগী পাই তাঁর অবস্থা আসলেই খুব খারাপ থাকে। আমরা হারা যুদ্ধ শুরু করি। আমাদের প্রতিপক্ষ সাধারন কোভিড নয়, এই কোভিডের চেহারা ভয়ংকর। তার শক্তি এখন পর্যন্ত আমরা মাপতে পারিনি। এই কাজটায় অনেক সাহস লাগে, ডেডিকেশান লাগে। প্রবল প্রতিপক্ষের সাথে নামমাত্র অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নামা, হারতে থাকা এবং তারপরও মনোবল ধরে রেখে সমান সতর্কতায় যুদ্ধটা করে যাওয়া বড় সহজ কাজ নয়। আমরা তো কোনো বীর যোদ্ধা নই, ছাপোষা চিকিৎসক, নার্স।

আমাদের কাজে আমরা খুব নিঃসঙ্গ। একটা হাসপাতালে ননকোভিড সময়েই আইসিইউ’র চিকিৎসক, স্টাফরা নানা কারণে অপ্রিয় থাকেন। এখন তার মাত্রা অনেক বেশি। আমার খুব ক্লান্ত লাগে। যাদের রোগি মারা যান তাঁরা তো আমাদের বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ থাকেন, যাদের রোগি আমরা স্টেপডাউন করে ওয়ার্ডে পাঠাতে পারি তাঁরাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের ওপর বিরক্ত থাকেন। আর যাঁদের রোগি আমরা বেড খালি না থাকার কারণে নিতে পারি না তারা মনে করেনÑ আমরা দানব, আমরা টাকার বিনিময়ে রোগি নিই, শুধু সমাজের উঁচুতলার অনুরোধে রোগি নিই। তাঁরা সারাক্ষণ আমাদের অভিশাপ দেন।

সত্যটা শুধু আমরা জানি, আমরা কী পারছি না এবং কী পারছি। তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই, দেশের কোভিড পরিস্থিতি কিছুদিন পর কিছুটা সহনীয় হবে। কোনো কারণ নেই। আশা। আমি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি। এই দেশের মানুষকে তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া রক্ষা করা যাবে না। তারা কথা শুনবে না। তাদের কুযুক্তির শেষ নেই। নিয়ম মেনে চলুন। তবুও বলে যাবো। মাস্ক পরুন, সামাজিক সমাবেশ বন্ধ রাখুন, পরিচিত সবাইকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করুন। লেখক: চিকিৎসক, ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়