শিরোনাম
◈ বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়, ঈদের আগে দুই জেলায় মিলবে ফ্যামিলি কার্ড ◈ জাতীয় পার্টি দাবি করেছে, দলটিকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে ◈ টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকাপ, ইংল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে ৫১ রা‌নে হার‌লো শ্রীলঙ্কা ◈ রাজধানীর কলাবাগানে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ ◈ হাসিনার ট্র্যাডিশন ভেঙে দলীয় প্রতীক বা কারও ছবি ছাড়াই ভাষণ দিলেন তারেক রহমান ◈ কারাগারে থেকেই আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের প্রার্থী ব্যারিস্টার সুমন ◈ জাপানমুখী কর্মসংস্থানে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার, আসছে ৭ দিনের কর্মপরিকল্পনা ◈ পে-স্কেলের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি, সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার দাবি ◈ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত ◈ আরও ৭১৩ জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ

প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২১, ০৩:৪৪ রাত
আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০২১, ০৩:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম: বিশ্বাস করতে চাই, দেশের কোভিড পরিস্থিতি কিছুদিন পর কিছুটা সহনীয় হবে

ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম: সহজ করে একটা হিসাব আপনাদের জানাতে চাই। গত বছরের এপ্রিল থেকে আজ পর্যন্ত মোট ষোল মাসে আমাদের আইসিইউতে রোগি ভর্তি হয়েছেন ৬৩৯ জন। আমরা স্টেপডাউন করতে পেরেছি ২২৭ জনকে। মারা গেছেন ৩৭২ জন। ৩০ জন অভিভাবকের ইচ্ছায় প্রাইভেট আইসিইউতে শিফট হয়েছেন, ১০ জন ইন সিটু আছেন। এই পুরো ষোলো মাসে গড় মৃত্যুহার ৫৮ শতাংশ। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও এর চেয়ে কমাতে পারিনি। সরকারি জায়গাগুলোতে হয়তো কেউ কেউ আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকতে পারেন। তার কিছু ব্যাখ্যা আছে।

কাজেই আপনারা আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট এবং হতাশ হতে পারেন। তবে আমরা যখন রোগী পাই তাঁর অবস্থা আসলেই খুব খারাপ থাকে। আমরা হারা যুদ্ধ শুরু করি। আমাদের প্রতিপক্ষ সাধারন কোভিড নয়, এই কোভিডের চেহারা ভয়ংকর। তার শক্তি এখন পর্যন্ত আমরা মাপতে পারিনি। এই কাজটায় অনেক সাহস লাগে, ডেডিকেশান লাগে। প্রবল প্রতিপক্ষের সাথে নামমাত্র অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে নামা, হারতে থাকা এবং তারপরও মনোবল ধরে রেখে সমান সতর্কতায় যুদ্ধটা করে যাওয়া বড় সহজ কাজ নয়। আমরা তো কোনো বীর যোদ্ধা নই, ছাপোষা চিকিৎসক, নার্স।

আমাদের কাজে আমরা খুব নিঃসঙ্গ। একটা হাসপাতালে ননকোভিড সময়েই আইসিইউ’র চিকিৎসক, স্টাফরা নানা কারণে অপ্রিয় থাকেন। এখন তার মাত্রা অনেক বেশি। আমার খুব ক্লান্ত লাগে। যাদের রোগি মারা যান তাঁরা তো আমাদের বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ থাকেন, যাদের রোগি আমরা স্টেপডাউন করে ওয়ার্ডে পাঠাতে পারি তাঁরাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের ওপর বিরক্ত থাকেন। আর যাঁদের রোগি আমরা বেড খালি না থাকার কারণে নিতে পারি না তারা মনে করেনÑ আমরা দানব, আমরা টাকার বিনিময়ে রোগি নিই, শুধু সমাজের উঁচুতলার অনুরোধে রোগি নিই। তাঁরা সারাক্ষণ আমাদের অভিশাপ দেন।

সত্যটা শুধু আমরা জানি, আমরা কী পারছি না এবং কী পারছি। তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই, দেশের কোভিড পরিস্থিতি কিছুদিন পর কিছুটা সহনীয় হবে। কোনো কারণ নেই। আশা। আমি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি। এই দেশের মানুষকে তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া রক্ষা করা যাবে না। তারা কথা শুনবে না। তাদের কুযুক্তির শেষ নেই। নিয়ম মেনে চলুন। তবুও বলে যাবো। মাস্ক পরুন, সামাজিক সমাবেশ বন্ধ রাখুন, পরিচিত সবাইকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করুন। লেখক: চিকিৎসক, ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়