প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগর থেকে হতাশা নিয়ে ফিরছেন জেলেরা

নিউজ ডেস্ক: দুই মাসেরও বেশি সময় পরে সাগরে জাল ফেলে হতাশ হয়ে ফিরছেন জেলেরা। ভরা মৌসুমে সামান্য পরিমাণ ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেসহ আড়তদারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৩ জুলাই রাতেই উন্মুক্ত সাগরে মাছ শিকারে যান জেলেরা। কিন্তু সাগর থেকে রবিবার ও গতকাল সোমবার সামান্য মাছ নিয়ে ফিরেছেন তারা।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া জেলেরা জানান, ছোট আকারের ইলিশ সামান্য পরিমাণে যা পাওয়া যাচ্ছে, তাতে লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। জেলেরা মাছ শিকার বন্ধ রাখার সময় নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। একই মন্তব্য করেন বরিশাল পোর্ট রোডের মত্স্য অবতরণকেন্দ্রের আড়তদারেরা। পোর্ট রোডের মত্স্য আড়তদার সমিতির প্রচার সম্পাদক ইলিশ ব্যবসায়ী ইয়ার উদ্দিন সিকদার বলেন, ভরা মৌসুমের এই সময়ে পাইকারি বাজারে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মণ করে ইলিশ আসার কথা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষে মাত্র ১০০ মণ করে যে ইলিশ আসছে, তা আকারে ছোট, যা দিয়ে জেলে কিংবা ব্যবসায়ী কারোরই খরচ উঠছে না। তিনি বলেন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ আসায় হতাশ সবাই। এসব ছোট সাইজের ইলিশ পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

জেলে ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা জানান, ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দেওয়ায় আয়-রোজগার হারিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন তারা। গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলো শূন্য হাতে উপকূলে ফিরে আসায় বাজারে ইলিশের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদারেরা। পোর্ট রোডের ইলিশবিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকার করতে গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলো খালি হাতে ফিরে এসেছে লঘুচাপের কারণে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বাজারে ইলিশের সরবরাহ একেবারে কম। আড়তে মাছ না থাকায় মাছের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকেরা আয়-রোজগার হারিয়ে বেকাদায় পড়েছেন।

বরগুনার মহিপুরের একাধিক জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার, দাদনদার ও বরফকলের মালিকেরা জানান, প্রতি মৌসুমে তারা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন লাভের আশায়। কিন্তু করোনাসহ মৌসুমের শেষ ভাগে বিপুল টাকা ঝুঁকি নিয়েই অনেকে বিনিয়োগ করেছেন। কেননা, মাত্র দুই মাস পর অক্টোবরে ফের মা ইলিশের ২২ দিনের জন্য সাগর ও নদীতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে ৬৫ দিন বন্ধ থাকার পর যখন মাছ শিকারে উন্মুক্ত সাগরে নামছেন, তখন সাগর উত্তাল। আরো অন্তত দেড় মাস সাগর উত্তাল থাকবে। তাই মৌসুমে অনেক ঝুঁকি নিয়েই এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবন যাপন করতে হয়। জেলেরা জানান, মাঝারি কিংবা বড় সাইজের ট্রলার নিয়ে সাগরে নামতে খরচ হয়ে থাকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। এবার ৬৫ দিন বেকার থাকায় পুঁজি শেষ করে ধারদেনায় জর্জরিত তারা। পাশাপাশি আড়তদার কিংবা দাদনদারেরাও খুব একটা ঝুঁকি নিতে রাজি নন বলে জানান। বরফকল মালিকেরও জানিয়েছেন, বছরের পুরোটাই তাদের টেকনিশিয়ানসহ শ্রমিকদের বেকার বসিয়ে টাকা গুনতে হয়। মৌসুমের চার মাসে তারা আয় করে তা পুষিয়ে নিয়ে থাকেন। কিন্তু ভরা মৌসুমে দুই মাসেরও বেশি সময় নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকেই বরফকল চালু করে হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে ভরা মৌসুমেও ইলিশের চড়া দাম হওয়ায় হতাশ ক্রেতারা। আগামী দিনগুলোতে ইলিশের দাম কমার আশায় রয়েছেন তারা। ইলিশ ক্রেতা মোনাব্বর হোসাইন খান বলেন, এখন ইলিশের যে দাম থাকা উচিত ছিল, তার চেয়ে দাম অনেক বেশি। এই মুহূর্তে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তা-ও আবার সাইজে অনেক ছোট।

বরিশাল জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র দাস জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো আবার গভীর সমুদ্রে যেতে শুরু করেছে। সাগর থেকে ট্রলারগুলো ফিরে এলে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামও কমবে বলে আশা করেন তিনি। সূত্র: ইত্তেফাক

সর্বাধিক পঠিত