শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২১, ০৯:৫৭ সকাল
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০২১, ০৯:৫৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২৫ মেগাসিটি বিশ্বের ৫২ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে

রাশিদ রিয়াজ : ২৫টির ২৩টি শহরই চীনে। সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি ১৬৭ শহরের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পরীক্ষা করে রেকর্ডের পর এতথ্য পাওয়া গেছে। এশিয়ার মেগাসিটি সাংহাই সর্বোচ্চ পরিমান কার্বন নিঃসরণ করে। উন্নয়নশীল দেশের শহরগুলোর চেয়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো আরো বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৪২টি শহরের ৩০টি শহরে কার্বন নির্গমণ হ্রাস পেয়েছে। তবে বিশ্বেরআবহাওয়া পরিবর্তন ও দূষণ প্রতিরোধে যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা থেকে আমরা এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছি বরং বলা চলে দেশগুলো সঠিক অবস্থানে নেই। ডেইলি মেইল

চীনের হানদান,সুঝোউ, দালিয়ান, বেইজিং, তিয়ানজিন ছাড়াও জাপানের টোকিও ও রাশিয়ার মস্কো শহর সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণ করে। ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০৩০ সালের মধ্যে তার দেশে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও ২০৬০ সালের মধ্যে পুরোপুরি কার্বনমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। প্যারিস চুক্তিতে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেন ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৬৮ শতাংশ হ্রাস ও ২০৫০ সালের মধ্যে তা পুরোপুরে শূন্য শতাংশ হারে নামিয়ে আনার কথা বলেছে। প্যারিসে এই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইইউ সহ ১৯৪ দেশ। প্যারিস সম্মেলনে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এ লক্ষ্যে কঠিন কোনো ব্যবস্থা না নিলে ২১০০ সালে বিশে^র গড় তাপমাত্রা ৫.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে চীনে জালানির উৎস হিসেবে কয়লার পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জালানিতে স্থানান্তরের বিষয়টি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। চীনে বর্তমানে ১ হাজার ৫৮টি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে। যা বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্ধেকের সমান।

সমীক্ষা বলছে যে ১৬৭টি শহরের কার্বন নিঃসরণ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে যা বিশ্বের মাত্র ২ শতাংশ এলাকার সমান। অথচ এসব শহর কার্বন নিঃসরণে প্রধান ভূমিকা রাখছে। সমীক্ষায় ড. চেন বলছেন এই ১৬৭টি শহর ৫৩টি দেশে অবস্থিত। বিশ্বের অর্ধেকেরই বেশি মানুষ এসব শহরে বাস করছে। আর এসব শহরই ৭০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্যে দায়ী। কার্বনমুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব শহর সবচেয়ে বড় বাঁধা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর শহরের চেয়ে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলো অনেক বেশি কার্বণ নিঃসরণ করে। আবার অসলো, হিউস্টন, সিয়াটল ও বোগোটা শহরে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে। মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পেয়েছে রিও ডি জেনারিও, কিউরিটিবা, জোহানেসবার্গ ও ভেনিস শহরে।

আশার কথা যে ১৬৭টি শহরের মধ্যে ১১৩টি শহরে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং ৪০টি শহরের কার্বনমুক্ত শহরে পরিণত হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বা প্রাপ্ত ফলাফল দেখা গেছে তা প্যারিস চুক্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত বা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো অনেক পিছনে। ভবন, যানবাহন ও শিল্পকারখানা কার্বন নিঃসরণের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এ তিনটি স্থান থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণ ঘটে। সড়কে যানবাহনগুলো থেকে কার্বন নিঃসরণের পরিমান ৩০ শতাংশ হলেও রেল, জলপথ ও আকাশপথে এর পরিমান ১৫ শতাংশের কম। কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে শহরগুলির জন্য স্থিতিশীল শক্তি ব্যবহার, পরিবহন, গৃহস্থালীর শক্তি ব্যবহার এবং বর্জ্য ট্রিটমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষকে গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস নীতিমালা পদ্ধতিগতভাবে ও ধারাবাহিকভাবে নির্গমন তালিকা দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ