শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২১, ০৩:৩৯ দুপুর
আপডেট : ১৪ জুলাই, ২০২১, ০৩:৩৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীপক চৌধুরী : চিন্তার অক্ষমতা আর মূর্খের অস্থিরতা আমাদের এখানে বেশি

দীপক চৌধুরী: চিন্তার অক্ষমতা আর মূর্খের অস্থিরতা আমাদের এখানে বেশি। এ কারণেই মিথ্যার বিস্তার করতে পারি, একশ্রেণির মানুষ সুকৌশলে গুজব ছড়াতে পারে, নিরপরাধ মানুষকে ছিনতাইকারী বানিয়ে হত্যা করতে পারে, সুস্থ-শিক্ষিত নারীকে ছেলে ধরা বানিয়ে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে, পদ্মায় মানুষের মাথা দরকার গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করতে পারে সহজেই।

আমরা নানা কারণেই নিজেদের দোষ অপরের ওপর দিয়ে এক ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগি। এর সঙ্গে গত দেড় বছর ধরে যোগ হয়েছে, আমরা মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে শেখার চেষ্টা করছি। করোনা আরম্ভ হওয়ার পর সারা দুনিয়ায় আতঙ্ক শুরু হলেও আমরা আতঙ্কের চেয়ে ফাঁকি দেয়ার কৌশল খুঁজে চলেছি।

নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস না থাকলে কোথাও ঠাঁই মেলে না। বুক পানিতে সাঁতার দেয়ার মতো। ওদের অর্থাৎ এ শ্রেণিটির কিন্তু গভীর জলে পড়লেই বিপদ। কিন্তু এ শ্রেণিটিই এদেশে বেশি যেনো। কাজের প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের কারণেই আজ আমরা কিশোয়ারকে নিয়ে গর্ব করছি। অতো সাধারণ মেন্যু কীভাবে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে তা-ই দেখিয়েছেন কিশোয়ার। তাকে দেখেও যেনো আমরা শিখি।

আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখছি, ‘লকডাউন’ মানানোর জন্য রাস্তায় পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছে। তবুও নানা উছিলায় মাস্ক না পরলে যে ফেরেস্তা এসেও বাঁচাতে পারবে না- এ কথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। এটা অনেকে বুঝতেই চান না। তাঁরা মুখস্থ বলে ফেলেন, ‘আল্লায় বাঁচাইবে।’ তাতো শতভাগ সত্য কিন্তু এই বলে আমরা সাবধানে থাকবো না। সৃষ্টিকর্তাই বলেছেন, সতর্ক থাকো, সাবধান থাকো। প্রাইভেট কার, হাইয়েস, মিনিট্রাক চলছেই। মাস্ক ফ্রি দিয়েও পরানো যায় না। অনুরোধ করে বুঝিয়ে বলেও মাস্ক পরানো যায় না। দোকান খুলে ‘চোর-পুলিশ’ খেলা হয়। পুলিশ দেখলেই ‘শাটার’ নামিয়ে দোকান বন্ধ। অথচ দোকানের ভিতর কাস্টমার। আর আজ থেকে ‘লকডাউন’ শিথিল হচ্ছে। ঢাকাকে পুরান চেহারায় দেখবো।

চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে, ভয়ংকর করোনা দোরগোড়ায়। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এদেশে শুধু মাস্ক পরলেই আমরা ভয়ংকরতা অনেকটাই লাঘব করতে পারি। চলমান বিধিনিষেধে নতুন করে বহু মানুষের আয় কমেছে। আমরা কী বুঝি না, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই দেশের দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। অনেকের আয়ের পথও বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কিন্তু উল্টোটা দেখছি।

আমাদের সময় ডটকমে আইইডিসিআর-এর অন্যতম উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ‘সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, একটু অসাবধান হলেই সংক্রমণের হার বেড়ে যাবে। লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। মানুষকে বুঝতে হবে- সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিথিল করা হয়নি।’

আমরা জানলেও অসহায়। আমাদের অসহায়ত্বই প্রকাশ হচ্ছে। লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্তটি বিজ্ঞানসম্মত না হলেও কিছু করার নেই। এই ঈদ উৎসবকে ঘিরে আমাদের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত। আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত বাধ্যবাধকতা তো আছেই। সুতরাং একমাত্র কাজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরা।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অথনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়