শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত ◈ তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সার্জিও গর: একসঙ্গে কাজ করলে মিলবে বাস্তব ফল ◈ সৌদি আর‌বের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অর্থ কী? ◈ গালিগালাজ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, যারা আমাকে গালি দিয়েছে, তাদের ক্ষমা করে দিলাম: ভিডিও বার্তায় মোদি ◈ উড়ন্ত বিমানের ডানায় জ্যান্ত সাপ! ভিডিও ভাইরাল ◈ বিশ্বকাপে বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে এলো ফিফা সভাপ‌তি ◈ অ‌নেক সি‌নিয়র খে‌লোয়াড় বাদ দি‌য়ে নতুনদের নিয়ে ব্রা‌জিল দল গড়‌ছেন কোচ আনচেলত্তি ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে নানা সমীকরণ ◈ চলতি আগস্ট মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের দুই দফায় ৮ দিন ছুটির সুযোগ ◈ আগামী বিশ্বকাপে নির্বাসিত হতে পারেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, ফকল্যান্ড-কাণ্ডে  শাস্তি দিতে পারে ফিফা

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২১, ০২:২১ রাত
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০২১, ০২:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আরিফ জেবতিক: ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ উদ্যাপন করার মতো একটি সুন্দর অর্জন

আরিফ জেবতিক: ৯০ সালের ডানা কাপ, গোথিয়া কাপ দেখার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা সহজে কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নিউজ বিশ্বাস করে না। আমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবিশ্বাসী। প্রতিবছর অমুকে পেট্রোল ছাড়া গাড়ি আবিষ্কার করেছে কিংবা তমুকের নাম নোবেল কমিটির কাছে গেছে, সমুককে নোবেল কমিটি বলেছে ফোনের কাছে বসে থাকতে- এসব গাঁজাখুরি খবর দেখি এবং বঙ্গসাংবাদিক সমাজের মূর্খতা নিয়ে আরেকবার মুচকি হাসি দেওয়া ছাড়া কোনো অনুভূতি আমার জন্মায় না।সুতরাং রেহানা মরিয়ম নূর কান ফেস্টিভ্যালে গেছে, এটা নিয়ে আমার কোনো চ্যাতভ্যাত ছিলো না শুরুতে। আমার ধারণা ছিলো রেহানা মরিয়ম নূর কোনো নায়িকার নাম, উনি কান ফেস্টিভ্যালের কোনো থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে দুয়েকটা ছবি তুলবে আর আমাদের বিনোদন সাংবাদিকরা সেই ছবি নিয়ে হাল্লাগোল্লা করবে, ঘটনা এতটুকুই। কিন্তু হাল্লাগোল্লাটা বেশি হওয়ার পরে একটু ঘাটাঘাটি করলাম। ঘাটাঘাটি করে যেটা দেখলাম, তাতে তব্দা হওয়ার মতোই ব্যাপার।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ মুভিটি কান ফেস্টিভ্যালে Un Certain Regard  সেকশনের ২০টি মুভির একটি হিসেবে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয়েছে। এই ২০টি মুভি গোল্ডেন পাম বা মূল প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত নয়, কিন্তু ‘ভিন্ন দৃষ্টি’ Un Certain Regard সেকশনে ভিন্নধর্মী গল্প, ভিন্নধর্মী নির্মাণ এসবকে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মুভিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়। এই প্রথম বাংলাদেশি নির্মাতাদের কোনো ছবি সরাসরি কান ফেস্টিভ্যালের মূল আয়োজনে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি বেশ বড়সড় ব্যাপার। বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে সৃজনশীলতা, মননশীলতা এসব এখনও পরিপক্কতা পায়নি; জনমানসের মাঝে শিল্পবোধের প্রকট অভাব এবং শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করার কোনো সুস্থ উপায় বিরাজমান নেই, সেই দেশের একজন নির্মাতার মুভি কান ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হওয়াটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

এটা ঠিক যে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই এর গুরুত্ব বুঝবেন না। শুধু এটুকু জেনে রাখা ভালো যে এটি একটি সুন্দর অর্জন, সেলিব্রেট করার মতো, সাবাশি দেওয়ার মতো অর্জন। ভালো লেখা, ভালো মুভি, ভালো সঙ্গীত আমরা অনেকেই হয়তো উপভোগ করতে পারি না, পছন্দ হয় না। তবু আসুন আমরা এগুলোকে সাবাশি দেই, হাততালি দেই। জাতিগত শিল্পরুচি তৈরি হতে হয়তো কয়েক প্রজন্ম লেগে যাবে, তবে এই প্রজন্মে আমরা অন্তত কিছুটা এপ্রিশিয়েট করার কালচার যদি তৈরি না করি, তাহলে পরের প্রজন্মও আমাদের মতো ভাদাইম্যা প্রজন্মই রয়ে যাবে, কিছু অর্জন করতে পারবে না। লেখক : অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়