প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আফগান অর্থনীতির মার্কিন শূণ্যস্থান পূরণ করতে চায় এশিয়ান শক্তিগুলো

আসিফুজ্জামান পৃথিল: [২] শুক্রবার বাগরাম ঘাঁটি ছেড়েছে মার্কিন বাহিনী। ন্যাটো বাহিনীর একজন সেনাও আর এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে নেই। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গেই দেশটিতে সূচনা হতে যাচ্ছে নতুন যুগের। গত দুই দশক সম্পদে পূর্ণ দেশটির অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে মার্কিন কোম্পানিগুলো। এবার সে লাভের বখরা চায় এশিয়ার উদিয়মান শক্তিগুলো। ইতোমধ্যেই দেশটিতে শক্ত অবস্থান আছে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর। এবার সেখানে প্রবেশ করতে চায় সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন ও জাপানের মতো দেশ। নিক্কি এশিয়ান রিভিউ

[৩] জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া মাত্রই দেশটিতে শুরু হয়েছে অভ্যন্তরিন অস্থিতিশলিতা। তালেবানরাপ যেনো ছাইভষ্ম থেকে জেগে উঠেছে। চুক্তির তোয়াক্কা না করে তারা বলছে, আফগানিস্তানে শেষ মার্কিন চিহ্নটিকেও বিতারিত করতে তারা বদ্ধ পরিকর। এতোদিন পশ্চিমা সেনাবাহিনীগুলোর ছায়ায় ব্যবসা করেছে অনেক মার্কিন ও ইউরোপীয়ান কোম্পানি। এবার তাদের অনেকেই পাততাড়ি গোটাতে চায়। মার্কিনিরা দেশটিতে যে ব্যবসার ক্ষেত্র গড়ে তুলেছে এবার হয়তো তা কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটবে অন্য দেশের কোম্পানি।

[৪] আফগানিস্তানকে বলা যায় রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল বা দুষ্প্রাপ্য খণিজের এক অফুরন্ত ভান্ডার। ইলেক্ট্রনিক্স সুনামির এই যুগে এই ধরণের দ্রব্যের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। এমনিতেই এই ক্সেত্রে চীনের কাছে মার খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ চীনও এই ধরণের খনিজ উৎপাদনের বড় ক্ষেত্র। এবার কাবুলের দিকে গভীর নজর দিয়েছে বেইজিং। কারণ পরিস্থিতি যদি তাদের অনুক’লে আসে বিশে^র রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়ালের বাজারে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে চীনা আধিপত্য।

[৫] তবে শুধু চীন নয়, তালেবান পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে ভারতও। কারণ আফগানিস্তানের মার্কিন সমর্তনপুষ্ট সরকাপর ক্ষমতায় আসার পর যদি কেউ লাভবান হয়ে থাকে প্রতিবেশিদের মধ্যে তা ভারতই। দেশটির পূর্ণগঠনের অধিকাংশ কাজ করেছেন ভারতের প্রকৌশলী আর ফার্মগুলো। তালেবানরা ক্ষমতায় এলে দুটো ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথমত তারা ক্ষমতা দখল নিয়ে ভারতীয় ফার্মগুলোকে বহিস্কার করতে পারে। অথবা দেশটিতে বেঁধে যেতে পারে গৃহযুদ্ধ। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর পরাস্ত হতে পারে তালেবানরা। ফলে কোম্পানিগুলোর ভাগ্যে জুটবে আরও কাজ।

[৬] ইরান ও পাকিস্তানের জন্য অবশ্য আছে অন্য সংশয়। তাদের ভয় শরণার্থী নিয়ে। পাকিস্তান ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে আর কোনও আফগান শরণার্থীকে স্বাগত জানানোর অবস্থায় নেই তারা। তালেবানরা ক্ষমতায় এলে বন্ধ করে দেওয়া হবে ইরান সীমান্ত। অবশ্য এই একই সমস্যায় পড়তে পারে ইরান, তাজিকিস্তানও উজবেকিস্তান। আবার শুরু হতে পারে উজবেক-আফগান দ্বন্দ্ব।

সর্বাধিক পঠিত