প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অশ্রুজলে গণতন্ত্রপন্থী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাপল ডেইলি’কে আবেগঘন বিদায় জানালো হংকংবাসী

লিহান লিমা: [২] চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী পত্রিকা ‘অ্যাপল ডেইলি’ সরকারী দমনপীড়নের মুখে প্রকাশনা শুরুর ২৬ বছর পর বন্ধ হয়ে গেলো। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ পত্রিকার মালিক ও সম্পাদকসহ শীর্ষ ৫কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ও কোম্পানির আর্থিক সম্পদ জব্দ করে। কারাগারে থাকা পত্রিকার মালিক জিমি লাইয়ের উপদেষ্টা মার্ক সিমন সতর্ক করে বলেছিলেন, জব্দ করা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে না দিলে এটি বন্ধ হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। গার্ডিয়ান

[৩] বুধবার রাতে পত্রিকার অফিসের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ‘হাল ছেড়ো না, চালিয়ে যাও’ স্লোগান দেন। পত্রিকার কর্মীরা ভবনের ছাদ থেকে ফোনের আলো জ্বালিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান। বৃহস্পতিবার পত্রিকাটির শেষ সংস্করণের কপি কিনতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিলেন পাঠকরা। যারা পত্রিকা কিনতে এসেছিলেন তাদের অনেকে ছিলেন বিমর্ষ। কেউ কেউ স্লোগান দেন, ‘ তোমার সঙ্গে আবারো দেখা হবে অ্যাপল ডেইলি।’ বিবিসি

[৪] শেষ দিন ১০ লাখ কপি ছাপা হয়েছিলো অ্যাপল ডেইলি। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই সবগুলো কপি বিক্রি হয়ে যায়। অনেকেই খালি হাতে ফিরেছেন। শেষ সংস্করণে হেড লাইন করা হয়েছে, ‘বিদায় হংকংবাসী’। গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া পত্রিকার উপ প্রধান সম্পাদক চান পুই ম্যান বলেন, ‘অ্যাপল ডেইলি এখন মৃত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বৈরশাসনের শিকার হয়েছে।’ পত্রিকা কিনতে আসা স্যান স্যাং রয়টার্সকে বলেন, একটি যুগ শেষ হয়ে গেলো বলে আমি মনে করি। জানিনা, হংকং কেন একটি সংবাদপত্রকেও সহ্য করতে পারে না। রয়টার্স

[৫] ২০২০ সালে জুনে চীনের পার্লামেন্টে পাসকৃত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে চীনবিরোধী কার্যকলাপ, গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ, বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আঁতাত ও ছাত্র-রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে হংকংবাসী। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই আইনের মাধ্যমে হংকংয়ের স্বাধীনতায় শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে হংকংকে বুঝে নেয়ার সময় চীন এই অঞ্চলটির ৫০বছরের যে আধা-স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অ্যাপল ডেইলি আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে চীন ও হংকং প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে ৩০টিও বেশি ‘বিতর্কিত’ নিবন্ধ ছাপিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত