প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমতিয়াজ মাহমুদ: একজন নারী ব্যক্তিগত জীবনে কী করবেন না করবেন সেটা তার ইচ্ছা

ইমতিয়াজ মাহমুদ: কেউ কেউ দেখি দলিল দস্তাবেজ নিয়ে বসেছেন, আর কেউ কেউ সাক্ষী প্রমাণ। কী? কিসের জন্যে? না, অকর্তনীয় যুক্তি ও অখণ্ডনীয় সাক্ষ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেই ছাড়বেন যে পরীমনি মেয়েটা খারাপ। দুইটা নাকি তিনটা বিবাহ করেছে সে। বিবাহের কাবিননামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। রাত বারোটার পর ক্লাবে যায়। কিসব পোশাক পরে ফটো তুলেছে! সেই ফটো আবার ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার বানিয়েছে। এইরকম ফটোওয়ালা ফেসবুক পেইজ থেকে কেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান করা হলো? এইরকম নানা কিছু। এইগুলি হচ্ছে ভদ্রগোছের যারা তাদের কথা। অভদ্রগুলি যে কিসব বলে সেকথা তো উচ্চারণ করতে পারবো না আরকি।

বিষয়টা তো সেরকম কঠিন কিছু না। একজন নারী অভিযোগ করেছেন যে তাকে মারধর করা হয়েছে, ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে, হত্যার চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত হবে, বিচার হবে। ঘটনা সত্যি হলে অভিযুক্তদের সাজা হবে, না হলে নেই। কেউ যদি ইচ্ছা করে জেনেশুনে মিথ্যা মোকদ্দমা করেন সেটার জন্যে তো শাস্তির বিধান আছেই। নারীটি তিনটা বিবাহ করেছে নাকি তিরিশটা বিবাহ করেছে তাতে আপনার কী? তিনটার বেশি বিবাহ করলে সেই নারীকে ধরে চড় মারা জায়েজ আছে? কাবিননামায় তিনি তথ্য ঠিক দিয়েছেন না ভুল তাতে কী আসে যায়? কাবিননামায় তথ্য ভুল হলে তাকে মেরে ফ্লোরে ফলে দেওয়া জায়জ আছে? রাত বারোটায় বা তারপর ক্লাবে গলে কী হয়? তাকে ধর্ষণ করা জায়েজ হয়? আচ্ছা সবচেয়ে খারাপটাই ধরেন একজন নারী যদি একাধিক পুরুষের সঙ্গে প্রেম করেন বা একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন বা তিনি যদি মদ্যপান করেন তাইলে তিনি সকলের ভোগ্য হয়ে যান? তাকে আপনি দুশ্চরিত্রা মনে করতে পারেন, আপনার ইচ্ছা আপনার মতামত। কিন্তু তাকে মারধর করা বা ধর্ষণ করা জায়েজ? হুমায়ুন স্যারের কথা মনে পড়ছে। একদিন শাহবাগের ঐখানে, পিজির নিচে যেখানে তিনি আড্ডা দিতেন, সন্ধ্যার সময় স্যার বসে আছেন। তাকে ঘিরে বেশ কিছু তরুণ। সেখানে একজন সাবেক ছাত্র নেতাও ছিলো, সে খুব রসিয়ে রসিয়ে একজন নারী নেত্রী সম্পর্কে বলছিলো যে তিনি নাকি অমুকের সঙ্গে শুয়েছেন, তমুকের কাছে গেছেন ইত্যাদি। হুমায়ুন আজাদ স্যার আলোচনাটা এড়াতে চাইলেন, কিন্তু ছাত্রনেতা নাছোড়বান্দা। বিরক্ত হয়ে স্যার বললেন, তিনি যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবেন তাতে তোমার কী অসুবিধা? তিনি কী তোমার কোনো প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করতে চেয়েছেন? এইটা হচ্ছে কথা। একজন নারী ব্যক্তিগত জীবনে কী করবেন না করবেন সেটা তার ইচ্ছা। আপনার কী? তিনি কী আপনার কোনো প্রত্যঙ্গ আহ্বান করেছেন? তাইলে আপনারা নারীটিকে নিয়ে এইসব কথা কেন বলছেন? কেন প্রশ্ন করছেন যে তিনি রাত বারোটার পর ক্লাবে কেন গেছেন ইত্যাদি? কেন প্রমাণ করতে চাইছেন যে নারীটি দুশ্চরিত্রা ইত্যাদি? আপনার যে কারণে এইসব কথা বলেন আর এইসব কাজ করেন সেটার একটা নাম আছে ইংরেজিতে এটাকে বলে মিসোজিনি বাঙলা করলে হবে নারীবিদ্বেষ বা নারীর প্রতি হিংসা।

এখন তো ফেসবুক একটা সমাজ হয়েছে। এখানে আমি যখন কাউকে দেখি মিসোজিনি প্রকাশ করছেন তার সঙ্গে ফেসবুকিয় সমাজে আমি একসঙ্গে থাকতে চাই না। আপনাদেরকে চিনে রাখি আর আপনারা কেউ যদি আমাকে ফেসবুকে যুক্ত করে থাকেন আপনাদের লিস্টি থেকে নিজের নামটা কেটে নেই। খুবই সহজ সমীকরণ। আপনি নারী পুরুষ যাই হন, আপনার রাজনৈতিক মতামত যাই হোক, আপনি যে দলেরই সদস্য হন না কেন কিংবা আপনি বাঙালি বা আদিবাসী যাই হোক আপনার জাতিগত পরিচয় মিসোজিনি দেখতে চাই না, মিসোজিনি সহ্য করবো না। এই নিয়ে আপনাদের সঙ্গে তর্কও করতে চাই না। আর এইটা যদি আপনি বুঝে থাকেন, তাইলে তো আপনার কাছে থেকে দূরে থাকাটা আরও জরুরি হয়ে যায়। কেননা তাতে কেবল প্রতিভাত হয়ে যা আপনার মাথা এতোটাই লিঙ্গপ্রভাবিত যে আপনি বুঝতেও পারছেন না যে আপনি যেটা করছেন সেটা অন্যায়। না, আমি আপনার বন্ধুতালিকায় না থাকলে আপনার নরক গমন নিশ্চিত হবে না। আপনি বেশ ভালোই থাকবেন। আমার ফেসবুক পোস্টগুলি যেহেতু সকলের জন্যে উম্মুক্ত, চাইলে সেগুলি দেখতেও পারবেন। সুতরাং আপনার বিশেষ ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। কেবল আমার একটু ইয়ে হবে যে না, নারীবিদ্বেষী একজনের তালিকা থেকে বের হয়ে এসেছি। আপনাদের দুই একজনকে দেখলাম আবার কটু কথা বলে কিঞ্চিৎ নিন্দাও করেছেন। করুন, সেটা আপনার ইচ্ছা, সে নিয়ে আমি কোনো উচ্চবাচ্য করবো না। আর অধিক কিছু বললাম না। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত