প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে অবকাঠামো খাতে

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি স্মরণকালের ভয়াবহ সংকট পার করছে। গত এক বছরে দেশে কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বিদেশে কর্মরত ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। যাদের বেশির ভাগই আর কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। এরপরও সরকারের নেওয়া ২ শতাংশ প্রণোদনার কার্যকর উদ্যোগের কারণে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে সৃষ্টি হয়েছে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। যার ফলে এই সংকটের অর্থনীতিতেও এক ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে রেমিট্যান্সের উচ্চ হারের প্রবৃদ্ধি।

বলা যায়, প্রতি মাসেই নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে থাকা স্বজনদের ভালো রাখতে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। গত ৯ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ করোনা মহামারীর শুরুর দিকে আশঙ্কা করা হয়েছিল রেমিট্যান্সে ধস নামবে। কিন্তু তা হয়নি। তবে জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এদিকে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ দেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এ জন্য পায়রা বন্দর নির্মাণে ব্যয় করা হচ্ছে রিজার্ভের কিছু অর্থ।

অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে সরকার ঘোষণা করেছিল ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে নগদ ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে এবং তা দ্রুত কার্যকরও করা হয়। যার ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বাড়িয়ে দেন প্রবাসীরা। এতে কমেছে হুন্ডি। এই প্রণোদনার জন্যই মূলত প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ফলে প্রতি মাসেই রেমিট্যান্সে নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করে সরকার।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ঘোষণাটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন হুন্ডি কমেছে, তেমনি বেড়েছে ব্যাংকিং চ্যানেল বা বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা।

এতে অর্থনীতির মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে প্রবাসী আয়। যা হুন্ডির মাধ্যমে এলে হতো না। ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতেও এক ধরনের স্বস্তি এসেছে বলে তিনি মনে করেন। সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি আয় ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সবগুলো সূচকই রয়েছে অস্বস্তিতে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না। ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়লেও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ নেমে গেছে তলানিতে। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বিরাজ করছে স্থবিরতা। তবে অর্থনীতির এই বিপর্যস্ত অবস্থাকে অনেকটাই সামাল দিচ্ছে প্রবাসী আয়। করোনার সংকট মোকাবিলায় বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা। দেশে আত্মীয়-স্বজনদের জন্য বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-মে) ১১ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্রবাসীরা গত মাসে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০২০ সালের মে মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত