প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদরাসা শিক্ষাকে অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় চালু: ডয়সে ভেলের টকশোতে ড. সলিমুল্লাহ খান

অনলাইন ডেস্ক: অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান একজন প্রথিতযশা চিন্তাবিদ, দার্শনিক ও লেখক। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই পণ্ডিত দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গণবুদ্ধিজীবী হিসেবে সর্বাধিত পরিচিত। তার রচনা ও বক্তৃতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজ, ডান-বাম-ইসলামী ধারার রাজনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিশ্লেষণ মানুষকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি যেন একজন জীবন্ত ডিকশনারী। বর্তমানের বুদ্ধিজীবী সমাজের মতো দলবাজী নয় বরং কোদালকে কোদাল বলতে অভ্যস্ত ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করেই পৃথিবীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। বিশ্বের সেরা ইউরোপ, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আরবদের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার অনুসরণ করে গড়ে উঠেছে। গত ১২ জুন ডয়সে ভেলেতে এক টকশোতে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে শুধু অনুসরণ নয়; পশ্চাত্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসা শিক্ষার পদ্ধতি নকল করে শিক্ষা ক্যারিকুলাম প্রণয়ন করছে।

ডয়সে ভেলের ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’ টকশো ড. সলিমুল্লাহ বলেন, এখন যে পশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিগ্রি দেয়া হয়, রীতিনীতি সবগুলো আরবদের কাছ থেকে ধার করা। ইউরোপের কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কারিকুলামে মাদরাসা শিক্ষা অনুসরণ করেনি? বলা যায়, মাদরাসার শিক্ষা পদ্ধতিকে তারা নকল করেছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ডিগ্রি দেয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গ্রাজুয়েটদের মাথায় কালো ক্যাপ ও গাউন পড়েন সবগুলো মাদরাসার অনুকরণ। অনেকে মাদরাসার শিক্ষার দোষ দেন, তুচ্ছজ্ঞান করেন, মাদরাসা শিক্ষা অধঃপতনের কথা বলেন। কিন্তু মাদরাসা মানে তো কলেজ। তাদের দোষ ধরার আগে নিজের দিকে তাকান না কেন? ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠা হয়, তখন প্রথমে অ্যারাবিক, ফার্সিসহ তিনটি বিভাগ চালু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেগুলোর কিছু কিছু নাম বদল করে সম্প্রসারণ হয়েছে।

দেশে এখন মাদরাসাগুলোতে বাংলা ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয় না বলে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে। কিন্তু মাদরাসার চেয়ে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান আরো নিচে নেমে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক শিক্ষার অর্জন কি? আমি মাদরাসা শিক্ষার সাফাই গাচ্ছি না, বাস্তবতা বলছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে একশ’ বছর আগে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একশটি ভালো বই বের করতে পারেনি, গবেষণার কথা নাই বললাম। আমার বন্ধুরা বিদেশে লেখাপড়া করে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে বই লেখেন ইংরেজিতে। তারা বাংলায় ভালো বই লিখতে পারেন না কেন? তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএসের চাকরি পাওয়া যায়। সে জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে মাদরাসা শিক্ষার মান উন্নত।

ড. সলিমুল্লাহ বলেন, কেউ বলেন পৃথিবীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা ৮শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফ্রান্সের প্যারিসে। কেউ বলেন, তারও দুশ’ বছর আগে ইতালিতে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা কি হঠাৎ করে শুরু হয়েছে? বাস্তবতা হলো তারও আগে মাদরাসা শিক্ষা চালু হয়েছে। তারই হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগওয়ারী শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে মাদরাসায়।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাবিদ ড. সলিমুল্লাহ খান প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমান সরকার এখন মডেল মসজিদ করছে, কিন্তু দেশে স্কুল করার প্রয়োজন কি ফুরিয়ে গেছে? সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ স্থাপনের চলমান প্রক্রিয়ার বিষয়ে ড. সলিমুল্লাহ খান আরো বলেন, আমি এটা বললে আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করবে। আপনি কি মসজিদ করার বিরোধিতা করছেন? তা আমি করছি না। প্রধানমন্ত্রী ৫০টি মসজিদের উদ্বোধন করলেন। খুব ভালো করলেন। আমি ধরে নিলাম। কিন্তু আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশু এখনো কত আছে?

দেশে একমুখী শিক্ষা চালু করার বিষয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, এখন আমাদের দেশে ২৫ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে। একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হলে সব ধরনের বিদেশি শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। কিন্ডারগার্টেনগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হচ্ছে, আবার তিন বছরের বাচ্চাদের জন্য ব্রিটিশ শিক্ষা পদ্ধতিও চালু রাখা হয়েছে। বাংলার বদলে চার লাখ শিশু শিক্ষার্থীকে শুরুতেই ইংরেজি শেখানো হচ্ছে। এতে তারা না শিখছেন বাংলা না শিখছেন ইংরেজি। আমি ইংরেজি শিক্ষার বিরুদ্ধে নই; তবে আগে বাংলা ভাষা ভালো করে শিখতে হবে।

করোনাকালে ১৫ মাস ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকারি সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন কি না জানতে চাইলে ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহামারি’ ও ‘দেশের রাজনৈতিক মহামারির’ কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনাকে হালকাভাবে নিচ্ছে। কিন্তু ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আসার পর আবার লকডাউনে চলে গেল। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় চলমান অবস্থার পেছনের ‘একটি হলো আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া মহামারি আর একটি হলো আমাদের রাজনৈতিক মহামারি’।

স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের বিষয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, যে বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই, সে বিষয়ে আমি বলতে চাই না। (সংক্ষিপ্ত)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত