প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: শিক্ষা ও গবেষণা খাতে যে দেশ যতো বেশি বরাদ্দ দেয় সে দেশ ততো বেশি উন্নত

কামরুল হাসান মামুন: বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের বাজেটে ‘গবেষণা ও উন্নয়ন’ নামে একটি খাত রাখা হয় এবং সেই খাতে যে দেশ যতো বেশি বরাদ্দ দেয় সে দেশ ততো বেশি উন্নত। এইটা একটা গোল্ডেন রুল যার কোন ব্যতিক্রম নেই। টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা অত্যাবশ্যক। বিশ্বের বিভিন্ন টেক জায়ান্ট যেমন Apple, Samsung, Google, Microsoft  তারা যদি গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ শূন্য করে দেয় তারা টিকে থাকতে পারবে না। টিকে থাকার প্রধান রসদ হলো নতুন নতুন মডেল বের করা যা করতে হলে গবেষণা লাগবে। দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবারকার বাজেটে মৌলিক গবেষণা খাতে বরাদ্দের জন্য কংগ্রেসের কাছে আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি অর্থ চেয়েছেন। অর্থাৎ  গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে  আগামী অর্থবছরে, ১৭১ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন এবং সংবাদ Nature এর মতো জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বুঝতে পারছেন আমেরিকা কেন আমেরিকা? গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে  চীন ব্যয় করে প্রায় চারশ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ব্যয় করে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার এবং একই পরিমান গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ দেয় ইউরোপের দেশগুলো, জাপান, ঈসরাইল। কারণ তারা জানে এটাই টেকসই উন্নয়নের মূল সূত্র। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ডাটা অনুসারে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে নেপাল দেয় তার জিডিপির ০.৩০ শতাংশ পাকিস্তান দেয় তার জিডিপির ০.২৪ শতাংশ ভারত দেয় তার জিডিপির ০.৬৫ শতাংশ চীন দেয় তার জিডিপির ২.১৯ শতাংশ জাপান দেয় তার জিডিপির ৩.২৬ শতাংশ কোরিয়া দেয় তার জিডিপির ৪.৮১ ঈসরাইল দেয় তার জিডিপির ৪.৯৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। এই ডাটাটা দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে যতো বেশি দেয় সেই দেশ ততো বেশি উন্নত। ইউনেস্কোর এই লিস্টে বাংলাদেশ এবং আফগানিস্থানের জায়গাটা খালি কারণ এই দুই দেশে এই দুই খাত নামে কোনো খাতই নেই তাই বরাদ্দও নেই। মানে মাথা নেই তাই মাথা ব্যথাও নেই, সিম্পল হিসাব। লজ্জা লাগে না? আমারতো মনে হয় এইসব দেখে লজ্জাও লজ্জায় লাল হয়ে যায়। দুই বছর আগে একটি চার্ট এইখানে শেয়ার করেছিলাম। সেখানে বিশ্বের ১২৫টি দেশ পাওয়া গেছে যারা এই খাতে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে। সেই ক্লাবে নেপাল ছিলো কিন্তু বাংলাদেশ সেই ক্লাবে নেই (কমেন্ট থ্রেডের লেখচিত্রটি দয়া করে দেখুন)। তারপরও নাকি আমরা তরতর করে উন্নত হয়ে যাচ্ছি। গবেষণা ও উন্নয়ন বাজেট খাতে ব্যয় না করেও যে তরতর করে উন্নয়ন সম্ভব এই তত্ত্বটি বাংলাদেশের কোন অর্থনীতিবিদ দিয়েছেন? তারেতো নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত? শিক্ষায় জিডিপির ৪ শতাংশ এর নিচে বরাদ্দ দিয়ে কোনো দেশ তৃতীয় বিশ্ব থেকে উন্নত বিশ্বে রূপান্তরের পথে হেঁটেছে এইরকম উদাহরণ পৃথিবীতে নেই। অথচ জিডিপির ২ শতাংশ এর মতো বরাদ্দ দিয়েও নাকি আমরা তরতর করে উন্নত হয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যেই গুণধর অর্থনীতিবিদের তত্ব কাজ করেছে তাকে দ্রুত নোবেল পুরস্কার দেওয়া হউক। বাংলাদেশ এমন নেতা পয়দা করছে যে বিশ্বের সকল সফল অর্থনীতির নিয়মকে ভুল প্রমাণ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ তুমি সত্যিই সারা বিশ্বের বিস্ময়।

কেবলই কী গবেষণা ও উন্নয়ন খাত না থাকা? নেই উচ্চ শিক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দ। এইসবের পর আবার আছে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বাটপারি খেলা। বলা হয় মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ। অথচ এই হিসাবটা করা হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক সঙ্গে মিলিয়ে। শিক্ষায় বরাদ্দে যদি ধোঁকাবাজি থাকে তাহলে সৎ শিক্ষিত মানুষ আমরা কীভাবে আশা করি? আর আমাদের সংবাদ মাধ্যমও সেই। শিক্ষায় বরাদ্দের সংখ্যাটা দেখে এবং সেটা দেখেই সরকার বাহবা দেয় যে শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়েছে। এইদিকে মুদ্রাস্ফীতি যে ঘটেছে তার খবর নেই, এইদিকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে অবকাঠামো বরাদ্দ ব্যয় বেড়েছে সেইদিকে খেয়াল নেই। তাছাড়া দুর্নীতিতো আছেই। যেইটুকু বরাদ্দ দেয় তার সিংহ ভাগই চলে যায় সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি আর তাদের অদক্ষতার পেছনে। শিক্ষা আর গবেষণায় জিডিপির ন্যূনতম ৪.৫ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ না দিয়ে পৃথিবীর কোনো একটি দেশ উন্নত হয়েছে তার একটি উদাহরণ দেনতো দেখি। আমাদের সকল সমস্যার মুলে হলো সঠিক শিক্ষা ও গবেষণার অভাব। আজ তিন বছর যাবৎ অনবরত বলে যাচ্ছি শিক্ষায় যেন জিডিপির ন্যূনতম ৫.৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। সরকারও শুনেনা আর জনগণও চাপ দেয় না। বলদ শ্রেণির জনগণ হলে যা হয় আর কি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত