প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপূর্ব চৌধুরী: গ্রহ তারকারা গোল হয় কেন ?

অপূর্ব চৌধুরী: পৃথিবী এবং চাঁদ; একটি গ্রহ, আরেকটি উপগ্রহ । দুটোই দেখতে গোলাকার । কিন্তু কেন? সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা আর সব প্ল্যানেট বা গ্রহ গুলাও গোলাকৃতি । কিন্তু কেনো? সূর্য একটি তারা, সেটাও দেখতে গোল । সূর্যের মতো আরো বিলিয়ন বিলিয়ন তারা আছে, তারাও নব্বইভাগই দেখতে গোলাকৃতি। অল্প কিছু চ্যাপটা, অল্প কিছু টানেল আকৃতির তারা আছে । মোটকথা গ্রহ, উপগ্রহ, তারা, সবকিছুই গোল কেনো? ব্যতিক্রম Asteroid । এগুলো বিভিন্ন আকৃতির হয় । কিন্তু কেনো !

ইউনিভার্স যা দিয়ে তৈরি, তাকে সহজ করে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় । একটি ডার্ক মেটার বা অন্ধকার বস্তু, আরেকটি হলো শুধু মেটার বা বস্তু । তৃতীয়টি হলো ডার্ক এনার্জি বা শক্তি । শুধু মেটারকে অনেকে শুধু মেটার না বলে লাইট মেটার বলে । যে সব বস্তু দেখা যায়, এবং দেখা যাওয়ার কারণ তার মধ্য থেকে আলো বের হয়, অথবা আলো শোষণ করে অথবা আলোর রিফ্লেকশন হয়, তাদের একসাথে মেটার বা বস্তু বা লাইট মেটার বলে । ডার্ক মেটার ঠিক একই কারণে বলে যার উপর আলোর কোনো প্রভাব পড়ে না । আর তাই আমরা দেখতে পাই না অন্ধকারকে । ইউনিভার্সের ২৬% এই ডার্ক মেটার দিয়ে তৈরি, ৪% লাইট মেটার এবং বিশাল ৭০% ডার্ক এনার্জি দিয়ে তৈরি । ডার্ক মেটার এবং ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা তেমন কিছু এখনো জানে না, যা কিছু জানে তার সিংহভাগ এই লাইট মেটার বা মেটার সম্পর্কে জানে ।

ইউনিভার্সের এই মেটারগুলো শুরুতে মাত্র দুটো উপাদানে বিভক্ত ছিল । অধিকাংশ ছিল গ্যাস আর সাথে ধূলিকণা । গ্যাসের বেশিরভাগ হলো হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম । হাইড্রোজেন কিংবা হিলিয়াম তৈরি হয়েছে কিছু এটম দিয়ে । সেই এটম গুলো তৈরি হয়েছে কিছু পার্টিকেল দিয়ে । আবার পার্টিকেল গুলো কিছু সাব পার্টিকেল দিয়ে তৈরি । তাদের বলে কোয়ার্ক । ইউনিভার্সের শুরুতে ইউনিভার্স ছিল এই কোয়ার্ক এর গরম সুপ । সেই কোয়ার্ক সুপ বিস্ফোরিত হলে প্রথমে তৈরি পজিট্রন এবং নিউট্রন । তার চারপাশে জন্ম নিল ইলেকট্রন । তিনে মিলে তৈরি করলো এটম ।

তো এই গ্যাসগুলোর মেঘ একে অপরের সাথে জটলা বেঁধে তৈরি করলো স্টার বা তারা । আবার কিছু গ্যাস আর কিছু ধূলিকণার মেঘ একসাথে মিশে তৈরি করলো গ্রহ ।

গ্যাসগুলো যখন একটি আরেকটির সাথে মিশে একটি ঘন জায়গা তৈরি করলো, গ্যাসগুলো একে অপরকে টেনে ধরে রাখতে চাইতে গিয়ে কেন্দ্রে একটি ফোর্স বা শক্তির জন্ম দিলো । সেই শক্তি কেন্দ্রে তৈরি করলো একটি ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ফোর্স । এই শক্তিটিকেই বলে গ্র্যাভিটি । গ্র্যাভিটির কাজ কেন্দ্রের চারপাশে যা আছে তাকে নিজের দিকে টেনে ধরে রাখা । এতে কেন্দ্রে থেকে তার চারপাশে জমা হওয়া উপাদানগুলোকে গ্র্যাভিটি সমান শক্তিতে টেনে ধরে রাখে । ফলে চারপাশের বস্তুগুলো গোলাকৃতি হয়ে ওঠে ।

ঠিক একইভাবে গ্যাস আর ধূলিকণার সমন্বয়ে তৈরি গ্রহগুলো শুরুতে গ্যাসের কুল্ডলি ছিল যার কেন্দ্রে তৈরি হওয়া গ্র্যাভিটি তার চারপাশে জমা হওয়া গ্যাস এবং ধুলিকনাগুলোকে সমান শক্তিতে টেনে ধরে রাখত । ধীরে ধীরে গরম গ্যাস এবং ধূলিকণার পিণ্ড ঠান্ডা হতে থাকলো । একদিকে ঠাণ্ডা সলিড গ্রহের উপাদানগুলো কেন্দ্রের গ্র্যাভিটির কারণে ভিতর দিকে টেনে থাকে । আবার গ্রহগুলোর জন্ম হয়েছে যে গ্যাসের কুণ্ডলী থেকে সেই গ্যাসগুলো শুরুতে ছিল কোনো একটি তারার আসে পাশে জমা হওয়া থেকে । ফলে সেই তারার গ্রাভিটিও গ্রহের উপাদানগুলোকে তার দিকে টানতে থাকে ।

যেমন পৃথিবী গ্রহটির কেন্দ্রে থাকা গ্র্যাভিটি তার প্রতিটি বস্তুকে নিজের দিকে টেনে ধরে রাখে । আবার পৃথিবীর উৎপত্তি সূর্য তারা থেকে বলে সূর্যের গ্রাভিটিও পৃথিবীর উপাদানকে টানতে চেষ্টা করে । দুই টানে র কারণে পৃথিবী বা গ্রহগুলো এমন করে গোল আকৃতিতে থাকে । ঠিক একইভাবে চাঁদ পৃথিবীর কাছে থাকে বলে চাঁদকে পৃথিবী টানে, আবার চাঁদের গ্র্যাভিটি চাঁদের উপাদানকে নিজের দিকে টেনে । ফলে চাঁদও গোলাকৃতি আকার হয়ে ঘুরতে থাকে ।

এমন করে একদিকে পরস্পর বিপরীতমুখী গ্র্যাভিটি র টান, আরেকদিকে নিজের চারপাশে নিজের অক্ষপথ এবং তারকাকে ঘিরে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে বলে গ্রহগুলো গোল থাকে । একইভাবে তারাগুলো গ্যালাক্সির গ্রাভিটিটির টান এবং নিজের টানের পাশাপাশি অক্ষ এবং কক্ষপথে ঘুরতে থাকে বলে তারাগুলাও গোলাকৃতি হয়ে থাকে ।

চিকিৎসক এবং লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত