প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উম্মে সালমা কলি: মা বাবারা কি মেয়ে সন্তানের চেয়ে ছেলে সন্তানকে বেশী ভালোবাসে ?

উম্মে সালমা কলি: যদি তা নাই হবে তবে কেন সবসময় ছেলের মায়েদের হাহাকার শোনা যায় ? ছেলে আলাদা হয়ে গেছে, বিয়ের পর পর হয়ে গেছে, বউয়ের কথা শোনে ব্লা ব্লা ব্লা। কই মেয়ের মায়েরা তো এমন বিলাপ করেনা যে, মেয়ে স্বামী নিয়ে আলাদা থাকে, বিয়ের পর স্বামীর কথা শোনে!
এমনকি এখনকার মায়েরা, যাদের বাচ্চা কথা বলতেও শেখেনি, তারাও উপদেশ দিতে আসে, “আজ যদি আপনি স্বামীকে বাবা মায়ের কাছ হতে আলাদা করেন, কাল আপনার ছেলেও আলাদা হয়ে গেলে কেমন লাগবে?”

আরে ভাই, আমার মেয়ে আলাদা হয়ে গেলে যেমন লাগে ছেলে আলাদা হলেও তো তেমনই লাগবে, তাই না? নাকি মেয়েদের মা বাবাদের কোনোই কষ্ট নেই?
মেয়ের মায়েরা যদি এটা মেনে বুকে পাথরচাপা দেয় যে, বিয়ের পর মেয়ে স্বামীর সংসার করবে; ছেলের মায়েরা কেন এটা মানতে পারেনা যে, বিয়ের পর ছেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা সংসার করবে?

মেয়ের মায়েদের তো আরো কষ্ট, মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নিতে হবে – পারবে কিনা, অত্যাচার করবে কিনা, মেয়েকে পড়াশোনা বা চাকরীতে বাধা দেবে কিনা, মেয়ের কথার মূল্য দেবে কিনা। কিন্তু ছেলে বউকে নিয়ে আলাদা হলে তো ছেলের মায়ের সেসব চিন্তা নেই। তাহলে কি যুক্তিতে এতো কষ্ট পায় তারা?

বুড়ো বয়সে মেয়ের মা বাবাকে (যাদের ছেলে নেই) কে দেখবে তা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যাথা নেই, অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের নিজেরও নেই। অথচ ছেলের মা বাবাকে কে দেখবে ছেলে আলাদা হলে তা নিয়ে পুরো সমাজ ভাবতে বসে যায়।

ছেলে চাকরী করে মা বাবাকে টাকা দেবে খুব স্বাভাবিক। কিন্তু মেয়ে চাকরী করলে তার মা বাবাকে টাকা দিতে স্বামীর পারমিশন কেন নিতে হয়? অনেক ক্ষেত্রে স্বামী চাকরি করতে দেয় না বা মেয়েটা নিজেও করেনা, সেক্ষেত্রে মেয়েটার মা বাবার কি হবে যদি তাদের ইনকাম না থাকে? সেই চিন্তা কারোই নেই, কারন মেয়ের মা বাবা তারা, তাদের আবার কিসের খরচ?

সংসারে শান্তি বজায় রাখতে স্ত্রীকে যা কিনে দেওয়া হয়, মাকেও একই জিনিস কিনে দেয় ছেলেরা, এতে নাকি বোঝা যায় ছেলেটি পর হয়ে যায় নি। আর এ নিয়ে বউ কিছু বলতেও পারবে না বললে তার মন ছোট।

আচ্ছা, একটা মেয়ে যদি স্বামীর জন্য যা কেনে তা তার বাবাকেও কিনে দেয় তবে কেমন হতো ব্যাপারটা? মেনে নিবেতো স্বামীটি? অবশ্য মেয়েটাই কিনে দেবে কিনা সন্দেহ। বহু মেয়েকে দেখেছি, মা বাবার কাছ হতে নিতে যতটা আগ্রহী, দিতে নয়।

এমন এক সমাজ আর সমাজ ব্যবস্থা যেখানে মেয়েরা ভালো বউ হতে আগ্রহী, ভালো মেয়ে নয়। তাদের ধ্যানজ্ঞান স্বামী-সন্তান, মা বাবাকে তারা হিসেবের বাইরে রাখে।

আবার অনেক মেয়ের মা বাবাও মেয়ের সুখ বা সম্মানের চেয়ে সমাজের কে কি বলল তা নিয়ে বেশী চিন্তিত। তাই স্বামীর বাড়ি পড়ে পড়ে মার খাওয়া মেয়েটি মা বাবার আশ্রয় বা সাপোর্ট পায়না, শুধু একটাই কথা শোনে, “মানিয়ে নে”।

এসব অসংগতি দেখে শুনে ইদানীং আমার শুধুই মনে হয় – মা বাবারা তাদের ছেলে সন্তানকেই ভালোবাসে, মেয়ে সন্তানকে নয়।

টরেন্টো, কানাডা প্রবাসী লেখকের ফেইসবুক পোষ্ট থেকে সংগৃহিত

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত