শিরোনাম
◈ কলার মোচার ‘লাল পতাকা’ দেখিয়ে সংকেত দেওয়া সেই দিনমজুরকে রেলওয়ের সংবর্ধনা ◈ ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করেছেন সৌদি যুবরাজ: নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ◈ ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি বিক্রি, প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়ে ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ করার অভিযোগ ◈ শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী যুক্তরাজ্য ◈ দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ আর কত দিন চলবে? ◈ ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ◈ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ◈ ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ বেনাপোল বন্দরে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য, পাসপোর্টধারীর ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই ◈ জুলাই আন্দোলনের শহীদ-আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২১, ০৬:৪২ সকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২১, ০৬:৪২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শালসা:দরবেশ বাবার কেরামতি!

শালসা: পাসপোর্ট অফিসে গেলাম একটা জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য। জিজ্ঞেস করলাম,  কতো দিন লাগবে? বললেন, সাধারণত ১২ দিনে পাওয়ার কথা। তবে এখন বই সংকট। ১ মাসও লাগতে পারে। মন খারাপ করে বাইরে চলে এলাম। অমনি এক দরবেশ বাবা ডাক দিলো, ‘হে বৎস, মন খারাপ করে কোথায় যাচ্ছিস? তোর কী লাগবে আমাকে বল।’ বললাম, বাবা আমার জরুরি পাসপোর্ট দরকার। কিন্তু তারা বলছে, ১ মাসও লাগতে পারে।

হক মাওলা, দেখি তোর কাগজপত্রগুলো। তারপর দরবেশ বাবা আমার কাগজগুলো নিয়ে ফচাৎ করে ছিঁড়ে ফেললেন। তারপর নতুন ফরম দিয়ে বললেন, এটা পূরণ কর। বললাম, বাবা আমি তো অরিজিন্যাল কুমিল্লার রসমালাইয়ের মতো খাটি ফার্স্টক্লাস গেজেটেড কর্মকর্তা দিয়ে সত্যায়িত করে এনেছিলাম। এখন আবার  গেজেটেড কর্মকর্তা পাবো কোথায়? বাবা বললেন, আমার চেয়ে বড় কর্মকর্তা আর কে আছেরে এই জগতে। তুই পূরণ কর। সত্যায়িত আমি করবো। ফরম পূরণ করে বাবার হাতে দিলাম। বাবা বললেন, হাদিয়া দিয়ে ছবি তুলে তুই যাগা।

ঠিক ৪ দিন পর তোকে স্বপ্নে কল দেবো। এসে বই নিয়ে যাবি। বলেন কী বাবা, মাত্র ৪ দিন, এ কী করে সম্ভব! সত্যি করে বলেন বাবা, আপনি মানুষ নাকি জীবন্ত অলি! পাসপোর্ট অফিসের লোকজন বলে ১ মাস লাগবে। আর সরকারি নিয়মে ১২ দিনের নিচে কোনোভাবেই বই পাওয়া যায় না, কিন্তু আপনি ৪ দিনে কীভাবে দেবেন? এসব তুই বুঝবি নারে, সব উপরওয়ালার লীলাখেলা। তাড়াতাড়ি টাকাটা দে, উপরওয়ালাকে দিয়ে আসি। ৬ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি ফি। আর বাবার হাদিয়া ৮ হাজার। মোট ১৪ হাজার ৫০০ টাকা দিলাম। বাবা কাগজগুলো নিয়ে উপরওয়ালার কাছে চলে গেলেন। এই টাকার ভাগ বাবা একা নেবেন না। ভাগ পাবেন বাবা, তার বাবা, তার বাবা পর্যন্ত।

বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, পুলিশ বাড়িতে যাবে না, ভেরিফিকেশন করতে? বাবা বললেন, তুই তো ভেরি বোকা লোকরে। পুলিশের দুই চোখে দুইটা কচকচে নোট নিয়ে চাপ দিয়ে একটা ফু দেবো, অমনি তোর বাড়ি ঘর সব স্বপ্নে ভেরিফিকেশন করে ফেলবে। সব উপরওয়ালার লীলা খেলারে। হক মাওলা। ঠিক চার ওয়ার্কিং ডে’র পর... বাবা কল দিলেন। আয় বৎস পাসপোর্ট নিয়ে যা। ১৫ মে, অথচ ডেলিভারী স্লিপে লেখা ডেলিভারী ডেট ১৯ মে ২০২১। সত্যি দরবেশ বাবার হেকমত বড় কড়া। আমি বাবার চরণ দুটিতে লুটিয়ে পড়লাম। বাবা আপনিই সেরা। আপনার পদধুলি দেন। হাসপাতাল, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস-সহ সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এমন অনেক দরবেশ বাবা দলে দলে বসে জিকির আসগারে মত্ত আছেন। উপরওয়ালার সঙ্গে তাদের ডাইরেক্ট কানেকশন। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়