প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনাকালেও দানে কমতি নেই পাগলা মসজিদে

মনোয়ার হোসাইন : [২] করোনায় শুধু মুসলমান নয় সনাতন ধর্মালম্বিরা ও টাকা সোনা রুপার অলংকার দান করছেন পাগলা মসজিদে।

[৩] পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া এলাকার নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। এর সঠিক ইতিহাস না পাওয়া গেলেও জনশ্রুতি অনুসারে, ঈশা খার আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক একজন ব্যক্তি নদীর তীরে বসে নামাজ পড়াতেন। পরবর্তীতে স্থানটিতে মসজিদটি নির্মত হয়।

[৪] জিল কদর পাগলার নামানুসারে মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। অপর জনশ্রুতি অনুসারে, তৎকালীন কিশোরগঞ্জের হয়বতনগর জমিদার পরিবারের ‘পাগলা বিবি’র নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়।

[৫] পাগলা মসজিদ বা পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ যা তিনিতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে একটি সউচ্চু মিনার রয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত।

[৬] ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ স্টেট মসজিদটি পরিচালনা করছে।

[৭] শোলাকিয়া ঈদগাহর ঐতিহ্যে গর্বিত শহর কিশোরগঞ্জের অনন্য অহংকার, দুই শতাব্দী প্রাচীন পাগলা মসজিদ। করোনায় মানুষ আরো দান বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা জমা পড়ে।

[৮] দানবাক্স খুললেই পাওয়া যায় স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। মুসলিম-অমুসলিম সবাই এ মসজিদে দুই হাত খুলে দান করে। কারণ মানুষের বিশ্বাস, একনিষ্ঠ মনে এখানে মানত বা দান করলে রোগ-শোক, বালা-মসিবত দূর হয়।

[৯] ‘পাগলা মসজিদ’ কিশোরগঞ্জের জীবন্ত। আরেক জনশ্রুতি হলো, হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতাদের পরিবারের এক নিঃসন্তান বেগমকে জনগণ ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকত। দেওয়ানবাড়ির এ বেগম নরসুন্দার তীরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে ‘পাগলা বিবি’র নামে পরিচিতি পায়। মাকসুদ হাসিলের নানা কিংবদন্তি রয়েছে পাগলা মসজিদ সম্পর্কে।

[১০] হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ির ১০ শতাংশ ওয়াক্ফ সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা পাগলা মসজিদের বর্তমান জমির পরিমাণ তিন একর ৮৮ শতাংশ। মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে এতিমখানা ও মাদরাসা। এখানে ছেলে-মেয়েদের থাকা-খাওয়া, পোশাকসহ লেখাপড়ার খরচ বহন করা হয়।

[১১] জেলা প্রশাসক পদাধিকারবলে পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তাঁর তদারকিতে মসজিদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত স্বচ্ছ। পাগলা মসজিদের অর্থায়নে এলাকার অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। এলাকায় দরিদ্র অসহায় অসুস্থ অসচ্ছল পরিবারের জন্য পাগলা মসজিদ থেকে অনুদান দেওয়া হয়।

[১২] লেখাপড়া, চিকিৎসা, অভাবী নারীর বিয়ের সময় সাহায্য করা এ মসজিদের গণমুখী কার্যক্রমের অংশ। মসজিদের এলাকায় আরো চার পাশ নয়ানাভিরাম সুন্দর করার জন্য অনুরোধ জানান সবসময় এলাকাবাসীরা।

[১৩] মসজিদ টি এখন রাতে লাইটিং করায় আরো উজ্জ্বল সুন্দর দেখায় চার পাশ।
সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান, জান্নাতি পরিতৃপ্তির স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে এই মসজিদ টিকে থাকবে অনন্তকাল।

[১৪] এ ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের বিজয়কেতন উড়িয়ে তাওহিদের বার্তা শোনায় দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য ও ভাটি বাংলার কিংবদন্তিতুল্য ঐতিহ্য কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত