প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর গৃহবধূকে হত্যাসহ আরেক ঘটনায় ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা, আটক-৪

ফজলুল হক: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাশাকৈর এলাকায় ধর্ষণের পর এক গৃহবধুকে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ভাড়া বাসার সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপর দিকে স্বামীকে তালাক দেয়ায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ পৃথক দুটি ঘটনায় ঘাতক ধর্ষক ভাগনে, স্বামী, মামাতো ভাগনির স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধু হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার বাশাকৈর এলাকার রাসেল হোসেনের স্ত্রী সেতু আক্তার (১৯) ও আহত হলেন, নওগাঁর সদর উপজেলার মুকরামপুর এলাকার রতন আলীর স্ত্রী আর্জিনা আক্তার (৩০)।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক আগে কালিয়াকৈর উপজেলার কম্বলপাড়া এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সিলিমনগর এলাকার আজাহার সিকদার মেয়ে সেতু আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই তাদের স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের মধ্যে পারিবারিক কলোহের সৃষ্টি হয়। পরে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনে পাশে বাশাকৈর এলাকার লিয়াকত হোসেনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তাদের স্বামী-স্ত্রীর কলোহ থামেনি। এ সুযোগে তাদের ভাড়া বাসার পাশের বাড়ির রহুল আমিনের বোনের ছেলে রাফির সঙ্গে সেতু আক্তারের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে।ফলে রাফি ও সেতুর মধ্যে কয়েক দফা অসামাজিক কার্যক্রলাপও চলে। ওই কিশোর রাফি ও গৃহবধু সেতু তারা সম্পর্কে ভাগনে ও খালা। এসব বিষয় নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। সর্বশেষ গত পাঁচ দিন আগে ঝগড়া করে স্বামী রাসেল ভাড়া বাসা থেকে বাবার বাড়ি কম্বলপাড়া চলে যায়। আর ওই বাড়িতে গৃহবধু সেতু একা থাকার খবর পেয়ে রাফি গত সোমবার দুপুরে তার মামা রহুল আমিনের বাড়িতে আসে। প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধু ও মামার বাড়ির লোকজন খাবার-দাবার শেষে নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু ওই কিশোর ও গৃহবধু ঘুমায়নি। তারা দুজনে গভীর রাতে রহুল আমিনের পূর্বপাশের কাঠের ঘরে ঢুকেন। এ সময় রাফি ওই গৃহবধু সেতুকে ধর্ষণ করে। কিন্তু রাত আড়াইটা বা তিনটার দিকে হঠাৎ করেই গৃহবধু সেতু বলে উঠেন ঘটনাটি সকালে সবাইকে জানিয়ে দিবেন। এ কথি শুনে কিশোর রাফি ক্ষেপে যান ও এক খন্ড কাঠের টুকরো দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে ওই গৃহবধু মাটি লুটিয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কোন দিশকুল না পেয়ে ওই গৃহবধুর গলায় গেঞ্জি পেছিয়ে তাকে টেনে-হেচড়ে নিয়ে ওই ভাড়া বাসার সেফটি ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয় ভাগনে রাফি। পরে মামা বাড়ির ওই কাঠের ঘরেই শুয়ে পড়েন ঘাতক কিশোর রাফি। কিন্তু পরের দিন বুধবার সকালে ওই গৃহবধুকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা-খুজি করতে থাকে। এক পর্যায় বাড়ির দক্ষিণপাশের জঙ্গলে ওই গৃহবধুর ওড়না পেলে সন্দেহ হয় রহুল আমিনের। পরে তিনি তার কাঠের ঘরে গিয়ে রক্ত এবং টেনে নেওয়া দাগ দেখতে পান। ওই টেনে নেওয়ার দাগ ধরেই রহুল আমিন গৃহবধুর ভাড়া বাসার সেফটি ট্যাংকের ভেতরে উকি দেন। এ সময় ট্যাংকের ভেতরে ওই গৃহবধুর লাশ দেখে এলাকাবাসীর মাধ্যমে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলেও ঘাতক ভাগনে রাফি তার মামা বাড়িতেই ছিল। এসময় কারো পরার্মশে ঘাতক রাফি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী রাসেল, মামাতো ভাগনির স্বামী আরিফকে আটক করে। পরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার চানপুর এলাকায় আত্নীয়ের বাড়ি থেকে ঘাতক ভাগনে রাফিকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আজাহার সিকদার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে গত চার মাস আগে নওগার সদর থানার মুকরামপুর এলাকার মুনসুর আলীর ছেলে রতন আলীর সঙ্গে একই জেলার পত্নিতলা থানার গোটিল এলাকার আকবর আলীর মেয়ে আর্জিনা আক্তারের বিয়ে হয়। পরে তারা জীবিকার খোঁজে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আসেন। এরপর উপজেলার কলাবাধা রহমত গেইট এলাকার মেহের আলীর বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছেন। স্বামী রতন স্থানীয় এলাকায় রাজমিস্ত্রি এবং স্ত্রী আর্জিনা স্থানীয় কারখানায় কাজ করেন। কিন্তু কিছু দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলোহ চলে আসছিল। এর জেরে বুধবার সকালে তার স্ত্রী আর্জিনা তার স্বামী রতন আলীকে তালাক দেন। এ বিষয়টি কাজী তার স্বামীকে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হন। পরে তিনি ছুরি নিয়ে মৌচাক এলাকায় গিয়ে তার স্ত্রী আর্জিনাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় স্থানীয় লোকজন স্বামী রতন আলীকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে তারা আহত অবস্থায় স্ত্রী আর্জিনাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- টাঙ্গাইলের দেলদোয়ার থানার দুল্লাহ এলাকার মাসুদ রানার ছেলে রাফি (১৬), একই জেলার মির্জাপুর থানার চানপুর এলাকার আব্দুল হকের ছেলে আরিফ হোসেন (২৫), কালিয়াকৈর উপজেলার কম্বলপাড়া এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে রাসেল (২৪) ও নওগার সদর থানার মুকরামপুর এলাকার মুনসুর আলীর ছেলে রতন আলী (৩৩)।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ওই গৃহবধুকে ধর্ষণের পর ভাড়া বাড়ির পাশের সেপটি ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া তালাকের কথা শুনে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত মেরেছে তার স্বামী। তবে এ পৃথক দুটি ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত