প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাপক রোবট সেনা উৎপাদনে যাচ্ছে রাশিয়া

রাশিদ রিয়াজ : যুদ্ধক্ষেত্রে এসব রোবট সেনা স্বাধীনভাবেই লড়বে। যুদ্ধপরিস্থিতি বুঝে পাল্টা আঘাত হানবে শত্রুর ওপর। এধরনের সেনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ব্যাপকভিত্তিক অস্ত্র উৎপাদন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোয়েগু বলেছেন তার দেশ উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক যান উৎপাদন করবে যা পরিচালিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। এধরনের উদ্যোগ ও পণ্যকে সের্গেই উল্লেখযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন ভবিষ্যত যুদ্ধে এধরনের অস্ত্র ও রোবট সেনাই যুদ্ধ করবে। রাশিয়া ইতিমধ্যে উরান-৯ সহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক যন্ত্র তৈরি করেছে। এধরনের অস্ত্র দেখতে ছোট আকারের ট্যাঙ্কের মত যাতে ৩০ মিমি বন্দুক, বিভিন্ন ধরনের অগ্নিগোলা নিক্ষেপক ও নিয়ন্ত্রিত ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। এধরনের অস্ত্র যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেনাদের হতাহতের পরিমান হ্রাস করতে যথেষ্ট সহায়তা করবে। বিশেষ করে টি-৭২ ও টি-১৪ আর্মাতা ট্যাঙ্কে এধরনের অস্ত্র প্রযুক্তি সংযোজনের জন্যে কাজ করছেন রুশ প্রকৌশলীরা।

এছাড়া পোসেইডন নামে জলড্রোন তৈরি করেছে রাশিয়া যা সাগরের তলদেশ দিয়ে চলবে। এধরনের ড্রোনকে পারমানবিক অস্ত্র দক্ষতাসম্পন্ন মিনি সাবমেরিনে পরিণত করা হচ্ছে। ধীরগতিতে হলেও শত্রু জলসীমায় এধরনের মিনি সাবমেরিন বেশ কার্যকর বলে মনে করছেন রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু শত্রুপক্ষ চিহ্নিত করা মাত্রই মিনি সাবমেরিনটি স্টিলথ মোডে তীব্র গতিতে নিজ জলসীমায় ফিরে আসতে পারবে। ২০১৯ সালে প্রথম মিনি সাবমেরিনটির পরীক্ষার বিষয় প্রকাশ করে রাশিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগে জানায় যে তারা আশঙ্কা করছে বিশাল পারমাণবিক শক্তিযুক্ত পোসেইডন যুক্তরাষ্ট্রের তীরে তেজস্ক্রিয় সুনামি সৃষ্টি করতে সক্ষম হতে পারে। এমনকি তা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে দুই মেগাটন ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ারহেডে আঘাত হানতে পারে। প্রেসটিভি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন রুশ সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিনষ্ট করতে চক্রান্ত করছে এমন সব বিদেশি শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন হুমকি দেয়ে কোনো লাভ হবে না এবং এধরনের হুমকির যথাযথ জবাব সময়মত মস্কো দেবে। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো জানান তার দেশ লেজার অস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে যা গত ২০ বছর আগেও ফিকশন হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত ছিল এবং এখন তা বাস্তব। ইতিমধ্যে যেসব লেজার অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে তা আরো উন্নত করতে কাজ করছেন রুশ সমর বিশেষজ্ঞরা। এধরনের অস্ত্র শত্রুর জঙ্গি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে।

এদিকে টাইম সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এধরনের রোবট সেনা উৎপাদনের বিরোধিতা করেছে ২৮টি দেশ। পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞ পিটার সিঙ্গার বলেছেন রাশিয়ার এ রোবট সেনা উৎপাদনে চীনও সহায়তা করছে। জার্মানিতে ২০১৯ সালে এধরনের রোবট সেনা উৎপাদনের বিরুদ্ধে বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল ও দক্ষিণ কোরিয়াও এধরনের রোবট সেনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অস্ত্র উৎপাদনে গোপন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইতিমধ্যে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সামরিক শক্তি অর্জনে উদ্ভাবনী শক্তিতে শীর্ষ স্থান অধিকারের জন্যে তার দেশের সমরবিদদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত