প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যশোরে দেবাশীষ হত্যাকাণ্ড ও তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

সুজন কৈরী : যশোরের অভয়নগরে চিলিশিয়া (পালপাড়া) গ্রামের দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয় হত্যাকাণ্ড এবং তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুল খাঁ এবং নান্টু শেখ। শুক্রবার তারা যশোরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার পিবিআই সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনায় জড়িত দুজনকে ২০ মে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৬ ভরি সাত আনা ০ রতি ৮ পয়েন্ট (৭৫.১৮ গ্রাম) স্বর্ণ উদ্ধার করেছে যশোর পিবিআই।

পিবিআই জানায়, গত ২৬ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজন লোক দেবাশীষ সরকারের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা দেবাশীষ, তার স্ত্রী রিপা সরকার, মেয়ে দেবীকা সরকার এবং মা মিনতী সরকারকে মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বাড়িতে ডাকতি করে পালিয়ে যায়। ওই সময় ডাকাতরা দেবাশীষের ঘরে থাকা নগদ চার লাখ টাকা এবং ২০ ভরি আট আনা বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার, যার দাম ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে দেবাশীষ ও রিপাকে চিকিৎসার জন্য অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেবাশীষকে মৃত ঘোষণা করেন। রিপার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেবাশীষের মেয়ে ও মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই (ভগ্নিপতি) অ্যাডভোকেট তপন কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেয়া হয়। পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের সঠিক তত্ত্বাবধন ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই যশোর ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পুলিশ সুপার) রেশমা শারমিনের সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) দেবাশীষ মন্ডল মামলাটি তদন্ত করেন।

পিবিআইয়ের যশোর জেলার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, গ্রেপ্তার সেলিম খাঁ তার দলবল নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল রাতে দেবাশীষের বাড়িতে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার নান্টু শেখ স্বর্ণের কাজ জানে। তার মাধ্যমে লুণ্ঠিত ওই স্বর্ণালঙ্কার গলিয়ে খুলনার হেলাতলার রিংকু স্টোর নামক একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করে। ঘটনার পর আমরা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখি। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। গত ২০ মে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই স্ব-উদ্যোগে নেয়। আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা যশোরের মাজেস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত