প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বীথি সপ্তর্ষি: সাংবাদিকতায় দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

বীথি সপ্তর্ষি: ‘সরকারি অফিস থেকে তথ্য চুরির অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহাবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালতে এ রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ড শুনানি পরে অনুষ্ঠিত হবে।’ এটা বাংলা ট্রিবিউনের একটা রিপোর্ট। বাংলা ট্রিবিউনের আরেকটা রিপোর্টে দেখলাম, রোজিনা আপা পরিবারের সদস্যরা বলছেন তার গায়ে নির্যাতনের চিহ্ন। ভিটামিন ডি’র ঘাটতি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডসহ বিভিন্ন অসুস্থতায় সাতটা ওষুধ খেতে হয় প্রতিদিন। করোনা হলে তাকে বাঁচানো যাবে না।

আরেকটা রিপোর্টে দেখলাম নিয়োগ দুর্নীতির খবরে যাদের নাম এসেছিল তারা আপাকে ফোন করে দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেন। এই যে রোজিনা ইসলামকে ফাঁদে ফেলে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে অসুস্থ অবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হলো, তারপর সকাল-সকাল আদালতে নিয়ে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে ফেলল। এডিটরস গিল্ডস ছাড়া সেই ভাবে কোনো সাংবাদিক সংগঠনের চাপ প্রয়োগ করার মতো খবর চোখে পড়ল না। আমরা কি ভুলে গেছি মাত্র কয়েকদিন আগে মুশতাক অসুস্থ হয়ে কারাগারে দেহত্যাগ করেছেন? আমরা কি আবারও কারাগারে আমাদের বন্ধু-সহকর্মীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবো? মৃদু তালে-লয়ে উপসচিবের কালো হাত ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও স্লোগান দিয়ে কিছুক্ষণ আন্দোলন-প্রতিবাদ করে ঘরে ফিরে আসবো?

এইবার অন্তত আল্লাহর ওয়াস্তে চাকরি বাঁচানোর ধান্দা কইরেন না, আগামীকালকে আপনার জন্য কী অপেক্ষা করছে আপনি জানেন না। নিজে বাঁচতে চাইলে সহকর্মীর এই অসম্মান, তার প্রতি এই নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নিয়ে কথা বলেন। রুখে দাঁড়ান। পথে থাকেন। আর বিচার চাওয়ার সময় মিনমিন করে রোজিনা ইসলাম আন্তর্জাতিকমানের রিপোর্টার, পুরস্কারপ্রাপ্ত রিপোর্টার তার সঙ্গে এমন আচরণ কাম্য নয় বলা বন্ধ করেন। এমনকি রোজিনা ইসলাম যদি একমাস আগেও সাংবাদিকতা শুরু করে থাকেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে মারধর করে আটকে রেখে থানায় নিয়ে এসে মামলা দেয়া হয় তাও এটা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন। হেফাজতে নির্যাতন। প্রতিবাদ করার জন্য প্রতিবাদের ভাষা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। মিনমিন করে প্রতিবাদ হয় না বলেই সাংবাদিকরা নিজেরা নিজেদের ওপর ঘটে যাওয়া কোন অন্যায়ের বিচার আজ পর্যন্ত পাননি।

স্পষ্ট গলায় বলেন সাংবাদিকতার মুক্তি চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই। অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। জন-সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় সকল নঁথি সাংবাদিকদের জন্য অধিগম্য করতে হবে। সাংবাদিকতার ক্ষতি করে এমন সকল আইন শিথিল করতে হবে। সাংবাদিকতায় দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত