প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়া

আল-হেলাল: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিজ গ্রামের কবরস্থানে শায়িত হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ফেনীবিল নিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামের সূর্য সন্তান ও লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফুর রহমান জজ মিয়া। সোমবার বিকাল ৩টায় নিজগ্রামের মাদ্রাসা ময়দানে নামাজে যানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত করা হয়। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ফেনিবিল নিবাসী মৃত আলহাজ্ব মোঃ রমজান আলী শিকদার এর ৪ পুত্রের মধ্যে লুৎফুর রহমান জজ মিয়া ছিলেন পরিবারের জেষ্ট পুত্র। জীবদ্ধশায় ভৈরবের হাজী আছমত আলী পাবলিক ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া করেন তিনি। সেখানে ১৯৬৯ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনিত জসীম উদ্দিন-ফখরুল আলম আক্কাছ প্যানেলের কমনরুম সেক্রেটারী পদে পূর্ণ প্যানেল নিয়ে নির্বাচিত হন। একজন ভাল ছাত্রলীগ নেতা ও জাদরেল বক্তা হিসেবে সারা কলেজ ক্যাম্পাসে তার একটি আলাদা পরিচয় গড়ে উঠে।

১৯৭০ সালে এমএনএ ও এমপিএ নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে লঞ্চযোগে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আসলে তৎকালীন ছাত্রনেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানসহ ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে লুৎফুর রহমান জজ মিয়াও বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হন এবং হাওরাঞ্চল ঘুরে বেড়ান। ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ৫নং সেক্টরের অধীনস্থ বালাট সাবসেক্টরের বিভিন্ন রণাঙ্গনে কৃতিত্বের সাথে লড়াই করেন। দেশ স্বাধীনের পরপরই তিনি মহকুমা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ৭০ থেকে ১৯৭৩ এর নির্বাচনে নৌকার পক্ষে বৃহত্তর রঙ্গারচর ইউনিয়নে প্রচারাভিযানে বলিষ্ট নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৫ এ জাতির জনক কে স্বপরিবারে হত্যার পর তিনি রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেন। ১৯৭৬ সালে যোগ দেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এফপিআই (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক) পদে। চাকুরীতে থাকাবস্থায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট ও সদর উপজেলা কমান্ড গঠন ও পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন। সর্বশেষ ২০১০ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে হাজী কেবি রশীদ ও এস.এন.এম মাহমুদুর রসুল প্যানেলের ডেপুটি কমান্ডার-২ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

চাকুরীতে কর্মরত থাকলেও সুনামগঞ্জ সদর আসনে ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মেজর অব: ইকবাল হোসেন চৌধুরীর অঘোষিত রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চাকুরী ছেড়ে অবসর গ্রহনের পরপরই আবার তিনি সক্রিয় হন তার প্রিয়দল আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। বৃহত্তর রঙ্গারচর ইউনিয়নে পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীরা সবসময় নির্বাচিত হতেন। তিনি বিচারপ্রার্থী জনসাধারনের ভরসাস্থল ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ২ কন্যা ও স্ত্রীগনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়ার ছোট ভাই বৃহত্তর রঙ্গারচর ইউনিয়নের ২ বারের নির্বাচিত সাবেক মেম্বার ও সদর থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান মধূ মিয়া জানান,সোমবার বিকেল ৩টায় জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ফেনিবিল মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের নামাজে যানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে যানাজা পরিচালনা করেন জেলা ইমাম মুয়াযযিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন।

এতে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামীলীগ নেতা করুনাসিন্দু চৌধুরী বাবুল, জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দ তারিক হাসান দাউদ,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা নোমান বখত পলিন,মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু সুফিয়ান,বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর,বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান,বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ মনোয়ার,সুনামগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন,রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম,সাংবাদিক হোসাইন মাহমুদ শাহীন,যুবলীগ নেতা নুর মোহাম্মদ স্বজন ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জুয়েল আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিবেদিত আওয়ামীলীগ নেতা জজ মিয়ার মৃত্যু সংবাদ শুনামাত্র তাৎক্ষনিকভাবে সুগভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল হুদা মুকুট, সাবেক সংসদ সদস্য ও পিপি এডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী,আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আফতাব উদ্দিন আহমদ,নিউইয়র্ক আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও মহকুমা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী,আমেরিকা আওয়ামীলীগ নেতা মারুফ চৌধুরী,জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও যুক্তরাজ্যস্থ সুপ্রবাস সভাপতি ইমানুজ্জামান চৌধুরী মহী,জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সাবেক পিপি এডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন,সুনামগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম,সাধারন সম্পাদক মোঃ মোবারক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ড এর সাবেক কমান্ডার হাজী নুরুল মোমেন,দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক আহমদুজ্জামান হাসান,জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জাহান,রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকশেদ আলী,সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার ডিলার,রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদর উপজেলা কমান্ড এর সাবেক কমান্ডার আব্দুল মজিদ ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আল-হেলালসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

তারা পৃথক পৃথক বিবৃতিতে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও পারিবারিক আত্মীয় স্বজনদেরকে পাটিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়ার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান সুনামগঞ্জ সদর আসনের এমপি এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত