প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমতিয়াজ মাহমুদ: চিকিৎসা বিজ্ঞানের যেকোনো শাখায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের সেবাটা যেন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এভেইলেবল থাকে, সেটা নিশ্চিত করা দরকার

ইমতিয়াজ মাহমুদ: বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমার রাজনৈতিক বিরাগ আছে। বিরাগ একটু কম বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত অনুভূতিটা বিরাগের চেয়েও একটু বেশি। সেগুলোর কারণও আছে। সেগুলো আলোচনা করার জন্যে এই পোস্ট নয়। এই পোস্টটা হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় আমার নিজের ব্যক্তিগত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা জানানো। তিনি হাসপাতালে আছেন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। এর আগে তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার জন্যে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। হাসপাতালে তিনি ঠিক কিরকম অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন সেটা আমরা জানি না। তিনি যখন হাসপাতালে এলেন, আমরা জেনেছি যে কয়েকটা টেস্ট করাবেন তিনি, সেইজন্যে এভারকেয়ার হাসপাতলের একটা কেবিনে আছেন। এক সপ্তাহ এর বেশি কোনো তথ্য আমরা জানি না, গত দুইদিন ধরে তিনি আছেন করোনারি কেয়ার ইউনিটে। খবরের জেনেছি যে তার একটু শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। করোনারি কেয়ার ইউনিটে আমিও ছিলাম কয়েকদিন। হৃদরোগ বিষয়ক জটিলতা হলে সেখানে রাখা হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্যে যে বোর্ড হয়েছে তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন যিনি, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের শীর্ষ হৃদরোগ চিকিৎসক (সার্জন সম্ভবত)। বেগম জিয়া সেখানে আছেন। ওই ইউনিটে দর্শনার্থীদেরকে প্রবেশাধিকার খুবই শক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত। চোট করে প্রেসের লোকজন তার স্বাস্থ্যের অবস্থার খবর নিতে পারবেন না, যদি না ডাক্তাররা প্রেসের কাছে তথ্য প্রকাশ করেন। একাত্তর টিভিতে দেখলাম, ডাক্তাররা নাকি বলেছেন যে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তারা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন না। এইটা আমাকে একটু অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা। আমি তাকে পছন্দ করি বা না করি তাতে কিছু যায় আসে না, তিনি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইজন রাজনৈতিক নেতার একজন। তার বয়েসও হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। সেই কারণে আমি মনে করি যে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমান হাল, তার কি হয়েছে, ডাক্তাররা কি চিকিৎসা দিচ্ছেন এইসব সব তথ্য জানার অধিকার আমাদের দেশের সকল নাগরিকেরই আছে। আমি দাবী করছি যে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যগুলো আমাদের সবাইকে যেন নিয়মিত বুলেটিন আকারে জানানো হয়।

আরেকটা বক্তব্য আছে। এভারকেয়ার হাসপাতাল একটি অতি উত্তম হাসপাতাল। তারা আমাকে অন্তত তিনবার গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বের করে এনেছে। হার্ট এটাক ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে বলতে পারি যে সেই দুইবার তো তারা আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। আমি মনে করি যে বেগম খালেদা জিয়া যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন সেটা দেশের সেরা সুবিধাটাই পাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি যে তার চিকিৎসার এই ব্যাপারটিতে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত। হস্তক্ষেপ- সাহায্য বা সহায়তা নয়। সরকারের নিশ্চিত করা উচিত যে দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা যেন তার চিকিৎসায় কোনো না কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট থাকেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের সেবাটা যেন বেগম খালেদা জিয়ার জন্যে এভেইলেবল থাকে সেটা নিশ্চিত করা দরকার।

আর সেরকম প্রয়োজন হলে তাকে যেন চট করে বিদেশের কোনো উন্নততর হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায় সেটার ব্যাবস্থা করাও সরকারের দায়িত্ব। সেইজন্যেই বলছি, সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, কেবল বিএনপির নেতাদের হাতে তার চিকিৎসার দায়িত্ব ছেড়ে না দিয়ে দায়িত্বটা দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেওয়া দরকার। সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কেনো না সরকারের যে সামর্থ্য আছে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের তো আর সেটা নেই। বেগম জিয়ার জন্যে শুভকামনা রইল। তিনি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে আসেন। বেগম খালেদা জিয়া, আমি আপনার বিরোধ করতে চাই, আপনার নিন্দা করতে চাই, আপনার বিরুদ্ধে লড়তে চাই- প্লিজ আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। আর দাবি করছি সরকার যেন তার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এমনিতেই দায়সারা দায়িত্ব গ্রহণ করা নয়- সিরিয়াস ও আন্তরিক দায়িত্ব গ্রহণ। আর ম্যাডামের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল তথ্য চাই- বিস্তারিত। ফেসবুক থেকে,মামুন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত