প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: দেশের আলেম ওলামা নয়, ভিডিও ফুটেজ দেখে আগুন-সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে

দীপক চৌধুরী: অপশক্তিগুলোর উত্থান ও ষড়যন্ত্রের পর এটা প্রমাণ হয়ে গেছে, বাঁধাহীন হেফাজতি সন্ত্রাসীরা কী রকম ভয়ংকর হতে পারে। অবশ্যই সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরো কঠিন ও ইস্পাতের মতো ধারালো সুকৌশলী হতে হবে। বোঝা হয়ে গেছে যে, রাজধানীর মতিঝিল-দিলকুশায় ২০১৩ সালের ৫ই মে’র ঘটনার পর সরকারের গা-ছেড়ে দেওয়া অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা ঢিলেমি দেওয়া ঠিক হয়নি। সেই সময়গুলোয় কী রকম ভয়ংকর কাণ্ড ঘটিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের চক্রান্ত করেছিল ওরা। গণতান্ত্রিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ।

সেইদিন বিএনপি আল্টিমেটাম দিয়েছিল। জামায়াত-জাতীয় পার্টি-বিএনপির পরিকল্পনা ছিল শেখ হাসিনার সরকারকে শেষ করে দেওয়া। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে বিনাশ করা। এরপর পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে শাপলাচত্বর থেকে হেফাজতকে তুলে দিলেও কাজটির ঢিলেমি দেওয়ার অবিশ্বাস্য পরিণতি আমরা দেখছি। দীর্ঘ আটটি বছরে ওরা শক্তি অর্জন করেছে। সেই সন্ত্রাসী-দানবদের রুখে দিতে হবেই এখন।কারণ, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে–অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকেপাকিস্তানের পথে ধাবিত করা। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর এ দেশকে পুনরায় পাকিস্তানের পথে আনতেই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়, ঘাতকদের চাকরি দেওয়া হয়, পুনর্বাসিত করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যখনই দেখা যাচ্ছিলো জাতির পিতার খুনিদের শাস্তি হয়ে যাচ্ছে, ফাঁসি হয়ে যাচ্ছে তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সেই ষড়যন্ত্র ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের ও বাঙালি জাতীয়তার বিরুদ্ধে।

যাঁর আঙুলের নির্দেশে বিশে^র মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি দেশ আমরা পেয়েছি, যাঁর ডাকে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে, সেই জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে দেওয়ার হুঙ্কার দেয় হেফাজত। ওদের সাহস কত? কত বড় দুঃসাহস! এদেশের মানুষ আর হেফাজতের মনগড়া কথায় বিশ্বাস করে না। তাই সারাদেশে প্রতিবাদ।

এটা অবশ্যই পরিষ্কার যে, আলেম ওলামা নয়, যারা তাণ্ডব-ত্রাস ও আগুন-সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিডিও দেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। এখানে আর কোনো কল্পকাহিনী তৈরির কোনো সুযোগ নেই। আপসোস, যে হেফাজতি নেতা মামুনুল হকের জন্য ত্রাস-তাণ্ডব সৃষ্টি হলো সেই মামনুল এখন পুলিশ রিমান্ডে এবং তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা এখন মামলা করেছেন তারই বিরুদ্ধে, তারই অপকর্মের। ঢাকা, হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা এখন দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, সেই তাণ্ডব-অগ্নিসন্ত্রাস আড়াল করে সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে মনগড়া কল্পকাহিনী তৈরি করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা করছেন। তবে সবরকম চক্রান্তই মানুষ বুঝতে পারে। এটা তো সত্য, হেফাজতে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। তারা সরল বিশ্বাসে এ সংগঠনে গেছেন। সেইসব ধর্মপ্রাণ মানুষকে তারা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে ফায়দা লুটেছে। হেফাজত যে কীরকম ভয়ংকর জঙ্গি তা দেখা গেছে বহু জায়গায়। তারা দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি-আসামীর মুক্তি চায়।
অবশ্যই এখন বুক ফুলিয়ে বলবো, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, তথাকথিত ৭ নভেম্বর এবং ২১ আগস্ট ঘটিয়ে চক্রান্তের পথে ক্ষমতায় যাওয়ার দিন শেষ। তবে হাঁ চোখ-কানও খোলা রাখতেই হবে।

রাতে বিভিন্ন টকশো শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। শুধু হাহাকার আর নাই-নাই শব্দ। আমাদের ধৈর্য নেই কেন? বুঝেও না বোঝার ভান করি কেন? ওরা কেউ কেউ যে জেগে ঘুমুচ্ছে তা কিন্তু বুঝা যায়। কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য, করোনার ভ্যাকসিন সংগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। গুজব ছড়িয়ে প্রথম দফা লাভ হয়নি। তাঁর দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্বে প্রথম ডোজের মত দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিনও বাংলাদেশ সময়মতো সংগ্রহ করবে। ভ্যাকসিন সংগ্রহে তাঁর দূরদর্শীতা, সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কী কোনো ঘাটতি আছে! দেশের মানুষ নিয়ে শেখ হাসিনার ভাবেন, তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা এমনি এমনি হয়নি। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিন্ম আয়ের পরিবারকে আগামী ২ মে থেকে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফার ফান্ড (ইএফটি)’র মাধ্যমে সরাসরি অর্থ সহায়তা প্রেরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে পরিবার প্রতি ২৫০০ টাকা করে মোট ৮৮০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ইএফটির মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংক একাউন্টে বা ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রেরণ করা হবে।প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। মন্দা দেখা দিয়েছে অর্থনীতির। কিন্তু এই মহামারিকালেও বাংলাদেশের রিজার্ভ একের পর একের রেকর্ড গড়ে চলেছে, যা অবিস্মরণীয়। আর এটিও সম্ভব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে।

বিশ্বব্যাপী তাঁর গ্রহণযোগ্যতার কারণে। বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে। সুতরাং এখন অপশক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রেরবিরুদ্ধে আমাদের সবারই সতর্ক থাকা দরকার। আজ যদিহেফাজত ইসলামের সেসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ‘বাঁধাহীন’ থাকতো তাহলে শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যানমুখী কাজগুলো করতে পারতেন না।এদেশের ধর্মপ্রাণ ও ধর্মভীরু কোমলমতির মাদ্রাসা ছাত্রদের কীভাবে ব্যবহার করেছে ওরা– এটা ভাবতেই গা শিহরণ দিয়ে ওঠে। নিজেদের নেতা কর্মীদের নিয়ে সারা দেশে ‘রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন’ নামক একটি সংগঠন তৈরি করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংগঠনটি সারা দেশে ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণ করছে বলে দাবি পুলিশের।গ্রেপ্তারও অব্যাহত আছে- এটা বললেই শুধু হবে না। তৃণমূলেও গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে। আমাদের তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িতরা যে নাশকতা করেছে সেগুলোর ভিডিও ফুটেজ, অডিও কথোপকথন এবং জিজ্ঞাসাবাদে চমকে ওঠার মতো তথ্যগুলো এসেছে। হেফাজত নেতা মামুনুল হকের গোপন বিয়ের বিষয়েও স্বীকার করেছেন, তার দুটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। সেখানে কোনো কাবিননামা নেই। পরের বিয়ের চুক্তিগুলো হচ্ছে- স্ত্রী থাকবে কিন্তু স্ত্রীর কোনো মর্যাদা পাবে না। স্ত্রী মেলামেশা করতে পারবে কিন্তু সম্পর্কের কোনো অধিকার পাবে না। একই সঙ্গে কোনো দাবিদাওয়া বা সন্তান ধারণ করতেও পারবে না।হেফাজত ইসলামের নেতাদের গ্রেপ্তার করা ও রিমান্ডে নেওয়ার পর এখন বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুকে পুরনো ‘ভিডিও লাইভ’ প্রচার করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেনো তাহলে? ওরা একের পর এক মিথ্যাচার করে চলেছে।

বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে পুরনো ভিডিও লাইভ প্রচার করা হচ্ছে। পুরনো ভিডিও প্রচার করে গুজব সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভুয়া আইডির মাধ্যমে এটা করা হচ্ছে। হেফাজতের কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই যা শুরু করা হয়েছিলো।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত