প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরাইলে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই খুনের ঘটনায় তৎপর পুলিশ

আরিফুল ইসলাম:[২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন ও আবুল কাশেম নামে দুইজনের খুনের পৃথক ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চালিয়েছে পুলিশ। ১৫ দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এ দুটি খুন ছুরিকাঘাতে হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ দুটি খুনের প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন সহ গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

[৩] আর এটি সম্ভব হয়েছে সরাইল সার্কেল-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের যথাযথ দিকনির্দেশনার কারণেই। এমনটি জানিয়েছন মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধ, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ২২ এপ্রিল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তেলিকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষ লোকদের ছুরিকাঘাতে খুন হন আবুল কাশেম (৪৮)।

[৪] তিনি গ্রামের মৃত মন্নাফ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আলছু বেগম বাদী হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে এ মামলার প্রধান আসামি সহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

[৫] এদিকে এর আগে ইউনিয়নের পাকশিমুল গ্রামে কোটি টাকা মূল্যের একটি জায়গার দখল নিয়ে গোষ্ঠীর নেতাদের দ্বন্দ্বের জেরে গত ৭ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন (২০) নামে এক যুবক প্রতিপক্ষের লোকদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি পাকশিমুল গ্রামের হান্নান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ ৩৮জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

[৬] এ বিষয়ে দেলোয়ার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, এ খুনের প্রকৃত রহস্য ও কারা এ খুনের সাথে সম্পৃক্ত তা তদন্তে মোটামুটি বেরিয়ে এসেছে। ঘটনার পর পরই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় এলাকা থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে জোরালো ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।

[৭] তেলিকান্দি গ্রামের কাশেম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গৌতম চন্দ্র দে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ খুনের রহস্য উন্মোচন সহ ঘটনার মুল হোতাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা সক্ষম হয়েছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে জোরালো অভিযান চলমান আছে।

[৮] সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আহমেদ বলেন, এই পৃথক দুটি খুনের ঘটনায় পুলিশ জোরালো ভূমিকায় আছে। মামলাগুলোর তদন্তকারী অফিসাররা এ ব্যাপারে খুবই সক্রিয় ভূমিকায়। ঘটনার পর সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

[৯] সরাইল সার্কেল-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বলেন, এ দুটি খুনের ঘটনা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযুক্তদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে এই দুটি মামলায় সাতজন গ্রেফতার হয়েছে। কাশেম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুজনের মধ্যে একজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার পর এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ কাজ করছে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত