শিরোনাম
◈ এমবাপের জোড়া গোলে ক্লাসিকোয় বা‌র্সেলোনার বিরু‌দ্ধে রিয়াল মা‌দ্রিদের জয় ◈ একটু খ্যাতি পেলেই পরিশ্রমে ভাটা, ক্রিকেটারদের ধু‌য়ে দি‌লেন পি‌সি‌বি সভাপ‌তি   ◈ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা: এবার কোন পথ বেছে নেবে বিএনপি? ◈ চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু ◈ ৩৪ দিন পর শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ◈ বিশ্বে প্রথম ভাসমান হাইড্রোজেন উৎপাদন প্ল্যাটফর্ম নামালো চীন ◈ চার বছরের রেকর্ড ভেঙে জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩৪ কোটি ডলার ◈ হুমায়ুন কবিরকে পূর্ণ মন্ত্রীর ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি ◈ সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবা, ওয়ারফেয়ারের জন্য কোটি টাকা ব্যয়েও প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল, ২০২১, ০২:৩৯ রাত
আপডেট : ৩০ এপ্রিল, ২০২১, ০২:৩৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে প্রকৃতি। শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই কক্সবাজারের সর্বত্র সুপেয় পানির সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। জেলা শহরসহ ৮ উপজেলার ৭২ ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকাতেই দ্রুত নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর।

জেলার সরকারি প্রায় ৩০ হাজার নলকূপের এক হাজার ১৫৯টি অকেজো হয়ে পড়েছে। পানি উঠছে না আরো প্রায় হাজার খানেক নলকূপে। দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াতে এ সংকট তীব্র। ভোগান্তি বেড়েছে বিশ্বের বৃহৎ মানবিক আশ্রয়ণ এলাকা টেকনাফ-উখিয়াতেও। অনাবৃষ্টি ও অতি তাপমাত্রার ফলে এ ভোগান্তি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ঋত্বিক চৌধুরী। কক্সবাজার শহর ও টেকনাফে গাড়িতে করে কিছু এলাকায় সন্ধ্যায় খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সার্ফেস ওয়াটারের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে আগামীতে এ ভয়াবহতা আরো বাড়তে পারে বলে অভিমত তার।

 

 

 

কক্সবাজার পৌরসভার জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগের মতে, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে সুপেয় পানির স্তর প্রতিবছর ১০ থেকে ১১ ফুট হারে নীচে নামছে। গত ১০ বছর আগেও শহরের টেকপাড়ায় ১২০ থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে ভূ-গর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর পাওয়া যেত। অথচ এখন পানির জন্য যেতে হয় ৩শ ফুটের বেশি গভীরে। গত কয়েক বছরে কক্সবাজার সাগরপাড়ের কলাতলী এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর ১০ থেকে ১৫ ফুট নীচে নেমেছে। ফলে অকেজো হয়েছে সাগরপাড়ের ৩ শতাধিক আবাসিক হোটেলের অসংখ্য পানির পাম্প। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এমন অবস্থা বলে মনে করছে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর।

 

 

 

 

কুতুবদিয়ার সমাজকর্মী হাছান মাহমুদ সুজন জানান, উপজেলার উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং, লেমশীখালী, কৈয়ারবিলসহ বড়ঘোপ ইউনিয়নের প্রায় এলাকার হস্তচালিত টিউবওয়েল থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ধূরুং ও লেমশীখালীর বিভিন্ন এলাকায় এ সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। বিগত বর্ষায় বেড়িবাঁধ ডিঙ্গিয়ে প্লাবিত হয়েছিল পুরো উত্তর ধূরুং ইউনিয়ন। ফলে সেখানকার প্রতিটা বসত ভিটার পুকুর লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। কিছু পুকুরে সামান্য মিঠা পানি থাকলেও শুকিয়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

একই অবস্থা উপকূলীয় পেকুয়া, মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, চকরিয়া, কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় পোকখালী, বৃহত্তর গোমাতলী, খুরুশকুল, রামু, জোয়ারিয়ানালা, উখিয়ার উপকূল, টেকনাফের সিংহভাগ এলাকায়।

কক্সবাজার পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ জানান, গত জানুয়ারি থেকে বাঁকখালী তীরের অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক’শ নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প পরিমাণ নলকূপে পানি মিললেও তা লবণাক্ত, খাওয়ার অনুপযোগী। ফলে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দিয়ে বোতলজাত পানি কিনে সংকট মেটাতে হচ্ছে।

 

 

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে খোলা জায়গা ও জলাধার কমে যাওয়া এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরে অতিরিক্ত চাপের কারণে এই সংকট। যা আমাদের জন্য অশনি সংকেত। এখনি প্রস্তুতি না নিলে আগামীতে সমস্যাটা মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ঋত্বিক চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে পানির মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ মিঠাপানি। এ মিঠাপানির ৩০ দশমিক ১ শতাংশ পানি থাকে ভূ-গর্ভে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি মাঠ-ঘাট, রাস্তা, জলাশয় ভেদ করে মাটির নিচে জমা হয় ও সারাবছর আমাদের পানির চাহিদা মেটায়। সূক্ষ্ম বালিকণা ভেদ করে মাটির নিচে জমা হয় বলে এ পানি হয় বিশুদ্ধ। বর্তমানে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, দেশে ক্রমাগত ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে অধিকাংশ এলাকা এখন কংক্রিটের শহর। ফলে মাটি ভেদ করে পানি নীচে পৌঁছাতে পারছে না। বৃষ্টির পানি খাল বা নদী-নালায় চলে যাচ্ছে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই বন্যা দেখা দেয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের এক জরিপে বলা হয়েছে, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা না হলে প্রতিবছর ১০ মিটার করে পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। অথচ সত্তরের দশকে যেখানে ভূ-গর্ভস্থ পানিতল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এক মিটারেরও কম গভীরতায় ছিল, বর্তমানে তা সর্বোচ্চ ৭০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী দেশে মোট নদীর সংখ্যা ৩১০টি। অনেকের মতে, বাংলাদেশে ছোট-বড় প্রায় ৬০০টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি নদী আন্তর্জাতিক। যার ৫৪টিই এসেছে ভারত থেকে নেমে। বাকী ৩টি এসেছে মিয়ানমার থেকে। সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথ নাব্যতা হারিয়েছে।

-ইত্তেফাক

  • সর্বশেষ