প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: হেফাজত, বিএনপি-জাপা, জামায়াতের অতীতের দিনগুলোর কথা এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি!

দীপক চৌধুরী: মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিয়ে হেফাজত দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপপ্রচার, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র, গুজব, অপকর্ম ও তাণ্ডব করে আসছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের ত্রাস-তাণ্ডব ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৫ই মের তাণ্ডবকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ও নানান সূত্রে পাওয়া তথ্যে বোঝা যাচ্ছে যে, বর্তমান পর্যায়ে হেফাজত দানবে পরিণত হয়েছে। নানারকম চক্রান্ত করছে স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে। বিদেশ থেকে টাকার পাহাড় নিয়ে এসেছে। সর্বত্র নাকি এখন টাকা-পয়সা ঢেলে রক্ষা পাবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটু পেছনে গেলে দেখতে পাই, জনগণ কোনোরকম ভুল করেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপারে দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতেই ক্ষমতা দেওয়া নিরাপদ। তাঁর শক্তিই দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে জনগণের ইচ্ছা পূরণ হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। ২০০৮ সালের অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিপুলভোটে দুই তৃতীয়াংশ আসনের চেয়ে বেশি নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতির হিসেব কষেছে। শতভাগ নিশ্চিত হয়েছিল যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহস, সততা, মেধা ও দূরর্শীতার কারণে রাষ্ট্রক্ষমতা তাঁর হাতে তুলে দেওয়া উচিৎ। হয়েছেও তাই। এটা যে সঠিক তা আমরা আস্তে আস্তে টের পাচ্ছি। জনগণের আস্থা ও ভরসায় এক যুগ চলছে তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী। আজ যদি ধরি রেমিটেন্সের কথাই। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। মন্দা দেখা দিয়েছে অর্থনীতির। কিন্তু এই মহামারিকালেও বাংলাদেশের রিজার্ভ একের পর একের রেকর্ড গড়ে চলেছে, যা অবিস্মরণীয়। আর এটি সম্ভব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণে। বিশ্বব্যাপী তাঁর গ্রহণযোগ্যতার কারণে। বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে।

সবকিছুই আমরা ঠিকভাবে করি। কিন্তু আমরা কখনো কখনো গা-ভাসিয়ে দিই। আমরা অনেকেই শত্রুদের কথা ভুলে গেলাম। ক্ষমতায় বসতেই কিছুদিনের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহ। বাস-ট্রেনে হামলা, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, গুলশানে হোলিআটির্জান সৃষ্টি, জঙ্গিদের তাণ্ডব। সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জাতীয় পার্টির অরাজকতা সৃষ্টি। অতীতের দিনগুলোর কথা এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতা বা তাণ্ডবে সরকারী- বেসরকারী সম্পদ বিনাশের হেফাজতি ত্রাস আমরা দেখেছি। সেইসময় পুলিশের অসহায়ত্বও আমরা দেখেছি। গত কয়েক দিনে চলছে পুলিশের হেফাজতি সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার অভিযান। যদিও সেই হেফাজতি ত্রাসের হিসেবে গ্রেপ্তার আশানুরুপ নয়। এদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ড নিয়ে ভয়ংকর তথ্য মিলছে। পুলিশ-র‌্যাব ও গণমাধ্যম ছিল এদের অন্যতম শত্রু। জনগণের সরকার উল্টিয়ে দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল এদের। সুতরাং হেফাজতিদের তাণ্ডবের ব্যাপারে তৃণমূলে অভিযান জোরদার করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-মাঠে ওরা ঘাপটি মেরে আছে এবং গ্রেপ্তার করার গতিও এখন কমে যাচ্ছে। স্বাধীন দেশকে নিরাপদ ও দেশের জনগণকে আতঙ্কমুক্ত রাখতে গ্রেপ্তার অভিযান আরো জোরদার করা জরুরি। তাহলেই এদের টাকার উৎস-ক্ষমতার উৎস, অপশক্তির উৎস আরো জানা সহজ হবে। আমরা দেখেছি যে, বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের দলের সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ভাষ্যমতে, তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভয়ে রাতে ঘরে ঘুমাতে পারছেন না।

হেফাজতি সন্ত্রাসীদের মুক্তি দাবি করে ও তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। খুব ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, বিএনপি ছাড়া হেফাজতবিরোধী অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। কারণ, এদেশের শান্তিপ্রিয় দেশবাসী বুঝে গেছে ওরা কী ভয়ংকর জিনিস। এটা আজ প্রমাণিত যে, হেফাজতে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। তারা সরল বিশ্বাসে এ সংগঠনে গেছেন। তারা কল্পনাই করতে পারতেন না যে, ধর্মপ্রাণ মানুষকে নিয়ে আর ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে হেফাজত বাণিজ্য করবে। ধর্মপ্রাণ মানুষকে তারা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থে ফায়দা লুটেছে। হেফাজত যে কীরকম ভয়ংকর জঙ্গি তা দেখা গেছে বহু জায়গায়। তারা দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি-আসামীর মুক্তি চায়। তারা আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাণ্ডব করেছে। এখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা র‌্যাব-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের একমাত্র কাজ হচ্ছে এদের অর্থাৎ জঙ্গি- হেফাজতি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। ওরা এখন ঘাপটি মেরে আছে। লুকিয়ে আছে বিভিন্ন লেবাসে। যেকোনো সময় গোখরা সাপের মতো ফণা ধরবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হিসাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৭৭, যেগুলোতে আসামির সংখ্যা ৪৯ হাজার। যদিও এদের গ্রেপ্তারকৃত দের সংখ্যা খুবই কম। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সহিংসতা সৃষ্টির গা-শিহরণ দিয়ে ওঠা তথ্য মিলছে, তার অনিয়মিত ধারাবিবরণীও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এসব তথ্যের মধ্যে এমনকি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিশদ বিবরণও আছে। অবশ্য এখন গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, হেফাজতিদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামি গোষ্ঠীগুলো মনে মনে হাসছে। এসব গোষ্ঠী যে হেফাজত থেকে খুব একটা আলাদা, তা মোটেও নয়। এরাও আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার জন্য মিছিল করেছে, নারী নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, পাঠ্যসূচির ইসলামীকরণের কথা বলেছে। এরা আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে গেছে বলেই বিপদের ঝুঁকি আছে। তারা সময়-সুযোগেই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব ছড়াবে। অতীতের ইতিহাস তাই বলে।

দেশের স্বার্থে আট বছর আগের মামলাগুলোর পুনরুজ্জীবন জরুরি। ২০১৩ সালের ৫ মের হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর তদন্ত বা বিচারের প্রশ্নে এত দিন একট ঢিলেমি ছিলো। এখানে স্মরণ করা যায়, রাজধানীর মতিঝিল-দিলকুশায় তাণ্ডব সৃষ্টি ও অবস্থান। অগণতান্ত্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সারাদেশব্যাপী আগুন- পেট্রেলবোমা দিয়ে আক্রমণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিরুদ্ধে তাণ্ডব, বিচার ও অপরাধীদের ফাঁসি ঠেকাতে ত্রাস সৃষ্টি। গুলশানে হোলি আর্টিজান সৃষ্টি। যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। কিন্তু কোনো শক্তির আপত্তি আর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঠেকাতে পারেনি। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সহিংসতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির ও বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। সুতরাং এখন এখানে এসেই দমে গেলে চলবে না। ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের খুঁটি উপড়ে ফেলতে হবে। ২০১৩-এর কথা মনে থাকতে হবে। সেদিন গণমাধ্যমের আমাদের নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করেছিল ওরা তা কী মনে নেই আমাদের!

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত