প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩০ এপ্রিলের পর বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি চাল আমদানি

নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর চালের আমদানি শুল্কে বড় ধরনের ছাড়ের ঘোষণা দেয় সরকার। বেসরকারিভাবে চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। প্রায় চার মাসে শুল্ক সুবিধায় সাড়ে ছয় লাখ টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। এখনো কিছু চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সব ধরনের আমদানি কার্যক্রম ৩০ এপ্রিলের পর বন্ধ হচ্ছে।

খাদ্যশস্যের বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি কমায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বৈধ আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। কয়েক হাজার আবেদনের মধ্য থেকে বাছাইয়ের পর অনুমতি পান বেশকিছু ব্যবসায়ী। চাল আমদানি ও দেশের বাজারে সরবরাহ করতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। সরকারের এ সুবিধায় গত চার মাসে (২৫ এপ্রিল পর্যন্ত) প্রায় ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ টন চাল আমদানি করেছে বেসরকারি খাত।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাতদিনের মধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে এলসি খুলে এ-সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়। এছাড়া পাঁচ হাজার টন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ, মোট ২০ দিনের মধ্যে সমুদয় চাল এবং ১০-১৫ হাজার টন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং মোট ৩০ দিনের মধ্যে সমুদয় চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।

পরবর্তী সময়ে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এলসি খোলার সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ৩১ জানুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অফিস আদেশে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এলসি খোলার সময়সীমা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পেয়েছেন এবং যারা গত ২৫ মার্চের মধ্যে এবং গত ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এলসি চালু করেছেন কিন্তু এখনো চাল বাজারজাত করতে পারেননি, তাদের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চাল বাজারজাত করতে হবে। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না বিধায় ৩০ এপ্রিলেই শেষ হচ্ছে চলতি অর্থবছরের চাল আমদানি।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, প্রাথমিকভাবে বেসরকারি চাল আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। কিছু চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন থাকায় সেগুলো সম্পন্ন করতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপর আর কোনো এলসি চালু কিংবা চাল আমদানি করতে পারবে না বেসরকারি খাত। তবে সরকারিভাবে চাল আমদানি চলমান থাকবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট চাল আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ১০০ টন। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট চাল আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ হাজার ১৮০ টন। ওই সময়ে সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি ছিল না। বেসরকারিভাবে আমদানি হলেও শুল্কহার বেশি থাকায় আমদানির পরিমাণ ছিল খুবই কম। – বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত