প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিডিবি’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সেজে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি!

সুজন কৈরী: পিডিবি’র ভুয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে অর্ধকোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের দায়ে নাইমুর রহমান জোয়ার্দার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিমের একটি টিম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি নিজেকে নারায়ণগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিতেন। ওই পরিচয়ে তিনি ভুয়া কার্যাদেশ দিয়ে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় তার ভাই ও স্ত্রী জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) জিসানুল হক জিসান বলেন, প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী হেলালুল মোজাদ্দেদ সোমবার রাতে মিরপুর মডেল থানায় নাইমুর রহমান জোয়ার্দার ও তার স্ত্রী এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর নাইমুর রহমান জোয়ার্দার ভুক্তভোগী বন্ধু মামুনের মিরপুরের পাইকপাড়া অফিসে গিয়ে নিজেকে নারায়ণগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া করে চুয়াডাঙ্গা যান। সেখান থেকে ঢাকায় এসে গাড়ি ভাড়ার ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

গ্রেপ্তার নাইমুর রহমান ভুক্তভোগীকে জানান, তিনি পিডিবির নারায়ণগঞ্জ প্রজেক্টের বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তখন কিছু কাজ দেওয়ার ব্যাপারে তাকে অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী। তখন নাইমুর পিডিবির বিভিন্ন মালামাল সরবরাহের কাজ দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। ভুক্তভোগী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েল এন্টারপ্রাইজের নাম প্রতারক নাইমুরকে দেন। সেই সুবাদে নাইমুর ভুক্তভোগীর দেয়া লাইসেন্সের নামে পিডিবির একাধিক মালামাল সাপ্লাইয়ের একাধিক কার্যাদেশ দেন। কার্যাদেশে উল্লেখ থাকে প্রকল্পের প্রাইভেটকার, হাইয়েস গাড়ি ভাড়া, এসি, কম্পিউটার, থাই, ফ্যান, ওয়াল ফ্যান, গেট ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে। পরে নাইমুর রহমান ও তার স্ত্রী জান্নাতুল নুর (২৬) এবং তার ভাই মশিউর রহমানকে (২০) পিডিবির কার্যাদেশের চাহিদা মোতাবেক মালামাল ক্রয় এবং সরবরাহের টেন্ডারের জন্য ২০১৯ সালের ১ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে সর্বমোট ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেন ভুক্তভোগী হেলালুল মোজাদ্দেদ।

টাকা নেওয়ার পর নাইমুর রহমান এবং তার স্ত্রী ও ভাই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পিডিবিতে মালামাল সরবরাহ না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। তখন ভুক্তভোগী কার্যাদেশে দেয়া ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে নাইমুর রহমানের খোঁজ নেন। অফিসের লোকজন জানান, এ নামে কোনো কর্মকর্তা নেই।

নাইমুর রহমানসহ বাকি দুজন আসামি মামলার বাদি হেলালুল মোজাদ্দেদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য ইউসিবি ব্যাংকে তার নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি চেক দিয়েছিল। তখন ভুক্তভোগী কাজের কার্যাদেশগুলো এবং চেক দেখালে পিডিবির অফিসের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের কার্যাদেশ তাদের অফিস থেকে ইস্যু করা হয়নি। এটি ভুয়া।

ভুয়া কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়ে নাইমুর রহমানের সঙ্গে ভুক্তভোগী হেলালুল মোজাদ্দেদ আলোচনা করেন। ওই সময় নাইমুর রহমান বলেন, তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নন এবং কার্যাদেশটিও সঠিক নয়। ভাইয়ের সঙ্গে মিলে তিনি কার্যাদেশগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরি করে নিজেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে মালামাল সরবরাহ করার কথা বলে হেলালুল মোজাদ্দেদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

হেলালুল মোজাদ্দেদের টাকা দিয়ে পিডিবিতে পে-অর্ডার পাঠিয়ে পরবর্তীতে পিডিবির ভুয়া সিল তৈরি করে পে-অর্ডার ব্যবহার করে নিজে পিডিবির কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করে সব টাকা উত্তোলন করেন নাইমুর রহমান। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে বিশ্বাস জন্মানোর জন্য তিনি তার স্ত্রীকে ব্যবহার করেন। সব টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য হেলালুলের কাছে একটি স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হন নাইমুর। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নাইমুর টাকা ফেরত দেননি। বরং টাকা ফেরত চাইলে নাইমুরের স্ত্রী ও ভাই হেলালুলকে জীবননাশের হুমকি দেন।

 

সর্বাধিক পঠিত