প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যবসায়ীদের সংকট কাটানোর চেষ্টা থাকবে বাজেটে

অর্থনৈতিক ডেস্ক:

► উৎস কর ও অগ্রিম করে ছাড়
► বিনা শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ

করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অগ্রিম কর ও উৎস করে ছাড় দিতে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। সরকার এ দুই খাতেই ছাড় দিতে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবিতে চলতিবারের মতো আগামী অর্থবছরেও অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে ও পুঁজিবাজারে বিনা শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হবে। শিল্পের ১৯টি খাতে কর অবকাশ সুবিধাও ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুযায়ী বহাল থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

আগামী বাজেট প্রস্তুতি কমিটির অন্যতম সদস্য, এনবিআর করনীতি শাখার সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, করোনার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাবে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা মহাসংকটে আছেন। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশে আগামী বাজেটে রাজস্বসংক্রান্ত বিভিন্ন ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজস্ব ফাঁকিবাজদের কাছ থেকে হিসাব কষে অর্থ আদায় করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে আগামী অর্থবছরেও আইসিএবির সঙ্গে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনিয়ম করতে পারবেন না। ফলে করোনার কারণে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হলেও ফাঁকি বন্ধের কারণে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

এনবিআর সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরে শিল্পে অধিক ব্যবহৃত কাঁচামালের তালিকা জমা দিয়ে রাজস্ব মওকুফের আবেদন জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের তালিকা অনুযায়ী শিল্পে অধিক ব্যবহৃত কাঁচামালের শুল্কে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক মওকুফ করা হবে। বিশেষভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি ও মোবাইল খাতের কাঁচামালসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে বড় ধরনের ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, মোটরসাইকেল, মোবাইল, ওষুধ ও অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে এনবিআর।

স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও গত তিন অর্থবছরে এবং চলতি অর্থবছরে তিন হাজারের বেশি পণ্যের সম্পূরক শুল্কের হার কমিয়েছে এনবিআর। যেসব পণ্যে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, সেসব পণ্যের আমদানি খরচ কমেছে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সমজাতীয় পণ্যের চেয়ে আমদানি করা পণ্য কম দামে বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের জোরালো আবেদনে আসছে অর্থবছরে সীমিত কিছু পণ্যের সম্পূরক শুল্ক কমানো হলেও করোনাকালীন সংকট থেকে উদ্যোক্তাদের বের করে আনতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পরামর্শে বেশিসংখ্যক পণ্যে সম্পূরক শুল্ক কমানো হবে না।

বেচাকেনা বা যেকোনো অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরুর আগেই আনুমানিক হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব উৎস কর খাতে জমার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় হিসাবের চেয়ে বেশি পরিমাণে রাজস্ব জমা দিতে বাধ্য হন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা। পরবর্তী সময়ে জমা ও প্রকৃত পাওনা হিসাব করে কিছু অতিরিক্ত থাকলেও তা ফেরত না দিয়ে বেশির ভাগ সময়ে এনবিআর পরের কিস্তির উৎস করের সঙ্গে সমন্বয় করে। একইভাবে অগ্রিম করও আগেভাগে জমা দিতে হয়। এ করও প্রকৃত পাওনার সঙ্গে সমন্বয় করে পরের কিস্তির সঙ্গে যোগ করা হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বিক্রির আগেই একজন বিক্রেতাকে উৎস কর ও অগ্রিম কর এনবিআরের তহবিলে জমা দিতে হয়। এ অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ও উদ্যোক্তারা পান না। এতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বড় অঙ্কের পুঁজি সব সময় এনবিআরের কাছে জমা থাকছে। আসন্ন বাজেটে এই দুই করের হার কমানোর জোরালো দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা সারা বছর বা সারা মাস রমরমা আয় করেও হিসাবের চেয়ে কম রাজস্ব পরিশোধ করে সরকারকে বঞ্চিত করে থাকে। এনবিআর রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করতে উৎস কর ও অগ্রিম কর পরিশোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা এই ধরনের কর কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। করোনাকালীন সংকট থেকে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বের করে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে আসছে বাজেটে এই দুই খাতে ছাড় দিতে বলা হয়েছে। তবে এনবিআর ছাড় দিলেও মওকুফ করবে না।

প্রতি অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ধারা থেকে এবারে সরে এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৫০০ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এনবিআর এ লক্ষ্যমাত্রা কমানোর পক্ষে অবস্থান করছে। আগামীবারেও রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত ভ্যাট। – কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত