প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সামগ্রিক নিত্য পণ্যের দাম চরম উর্ধ্বমুখী হলেও সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে লবণের মূল্য

এম. আমান উল্লাহ :[২] এ কারণে চরম ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে কক্সবাজারের উপকূলীয় লবণ চাষি, মিল মালিক ও মধ্যসত্বভোগীরা। যার ফলে লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে লবণ উৎপাদন থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই।

[৩] তারা বলছেন, লবণ উৎপাদনকারী উপকূলীয় অঞ্চল চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ কক্সবাজারের ৭ উপজেলার লক্ষাধিক লবণচাষি চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত ১১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে ২২ লাখ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে চাষিরা মাঠে নেমেছিল। লবণ উৎপাদনের সর্বশেষ সময়সীমা রয়েছে আগামী মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। অথচ গেল মৌসুমে এ সময়ে লবণ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিকটন। লবণের অব্যাহত দর পতনের ফলে চলতি বছর মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা লবণ উৎপাদনে মাঠে নামেনি, যার খেসারত দিতে হয়েছে কম লবণ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে।

[৪] লবণ উৎপাদনকারী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের টার্গেট ধরা হয়েছে ২২ লাখ মেট্রিকটন। সময় রয়েছে আরো ১ মাস। এসময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণ উৎপাদন ২২ লাখ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

[৫] এদিকে, লবণের মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যাওয়ায় এক দিকে প্রান্তিক চাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, অনেক বর্গা চাষি লবণ মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক লবণচাষি সমিতির সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী।

[৬] মহেশখালী প্রান্তিক লবণচাষী আনোয়ার হোসেন জানান, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি অপরিশোধিত ধবধবে সাদা লবণের মূল্য ৪/৫ টাকা হলেও এক শ্রেণির লবণ মিল মালিকেরা আয়োডিন/ নন-আয়োডিন প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০/৪০ টাকা। তাই লবণচাষি ও মিল মালিকদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

[৭] লবণ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিসিক) এর দেয়া তথ্যে বলা হয়েছে, প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত লবণের ঘাটতি দেখিয়ে এক শ্রেণির মিল মালিক ও আমলারা মিলে শিল্প কারখানায় ব্যবহারের নাম দিয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং সোডিয়াম সালফেট লবণ আমদানি করছেন যা দেশীয় লবণ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ। যার ভয়াবহ পরিণয় ভোগ করতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের লবণচাষিদের। ফলে লবণ উৎপাদনের টার্গেট অতিক্রম হবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বিসিক এর কর্মকর্তারা।

[৮] কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয় (বিসিক) এর উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল জানান, কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফের লবণ চাষিরা বর্তমানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পলিথিন ব্যবহার করে ধবধবে সাদা লবণ উৎপাদন করছেন যা বিগত ৫ বছর আগেও মাঠে কাঁদা লবণ উৎপাদন করা হত।

[৯] আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ লবণ উৎপাদনে প্রতি একর জমিতে অতিরিক্ত খরচ পড়ে ২০ – ২৫ হাজার টাকা। তাই চাষিদের উৎপাদন খরচ অতীতের চেয়ে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে লবণের মাঠ পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য না থাকলে এ শিল্পে আগামীতে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেন তিনি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

সর্বাধিক পঠিত