প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতেও জামায়াত ও হেফাজত কর্মী

স্বপন দেব: [২] মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে জামায়াত, হেফাজত ও নৌকার বিরোধী কর্মীদের স্থান দেয়ার অভিযোগ ও তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

[৩] এ ছাড়া কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের মেয়ে, ভাই ও স্বজনরা।

[৪]এই কমিটিতে পরিবারতন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ত্যাগী নেতার স্থান পাননি উপজেলা কমিটিতে। জেলায় দাখিলকৃত কমিটির বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের ত্যাগী এবং পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। উপজেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ বানিজ্য করার গুঞ্জন উঠেছে।

[৫] উল্লেখ্য যে, সম্মেলনের প্রায় দেড় বছর পর কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চুড়ান্ত করে ১২ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলা কমিটিতে দাখিল করা হয়েছে।

[৬] জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর। সে সময় সংগঠনের জেলা কমিটির নেতারা সভাপতি পদে আসলাম ইকবাল মিলনও সাধারণ সম্পাদক পদে আজাদুর রহমান ও সহসভাপতি এবং যুগ্মসম্পাদক পদসহ ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। এর প্রায় দেড় বছর পর ১২ এপ্রিল ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চুড়ান্ত করে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের কাছে জমা দিয়েছেন উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

[৭] এদিকে জানা যায় দাখিলকৃত কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।

[৮] উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, সম্পাদকের মেয়ে, ভাইসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয় স্বজন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। শুধু তাই নয় স্থানীয় এমপি আবদুস শহীদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই, ভাগ্নেরা বড় বড় পদে আসীন হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে এমন মানুষ রয়েছেন যারা কোন দিন আওয়ামীলীগের কোন কর্মসুচীতে দেখা যায়নি।

[৯] স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, বর্তমান কমিটির বিগত এমপি নির্বাচন,উপজেলা নির্বাচন ও সবর্শেষ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছেন এমন কয়েকজন হলেন যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত আনোয়ার হোসেন তার ভাই সানোয়ার হোসেন, রাসেল মতলিব তরফদার, আব্দুল মুমিন তরফদার, বিএনপিতে যোগদানকারী শমসেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ, মুজিবুর রহমান, আব্দুল বাছিতসহ নৌকা বিরোধী অনেকেই গুরুত্বপুর্ন পদ পেয়েছেন।

[১০] আরো অভিযোগ রয়েছে ২০১৫ সালে মেয়র পদে খেলাফত মজলিশের সমর্থনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করেছিলেন নজরুল ইসলাম যিনি স্কুল জীবনে শিবিরের সাথে সম্পর্ক তিনি এবারের কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন । রয়েছেন জামাত সমর্থিত একজন। প্রবাসে বসবাস করেন হেফাজত নেতা শফিকুল ইসলাম সাছি মোল্লাও স্থান পেয়েছেন দলে। বাদ পড়েছেন দলের প্রবীণ ও ত্যাগী কর্মীরা।

[১১] তাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে প্রবীণদের কমিটিতে রাখলেও তারা অভিযোগ করছেন সম্মানজনক পদ পাননি। কোনোদিন রাজনীতি না করেও বড় পদে স্থান পেয়েছেন বিতর্কিতরা।

[১২] স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ৭১ সদস্যের কমিটিতে সরাসরি হেফাজত, বিএনপি রাজনীতিতে জড়িত এমন রয়েছেন তিনজন। কমিটিতে আত্মীয় করন ও পরিবারতন্ত্র রুপ নিয়েছে। বর্তমান কমিটির সভাপতি আসলম ইকবাল মিলনের মেয়ে রোকশানা আক্তার, ভাই আব্দুল জব্বার, আরেক আত্মীয় বদরুল আলমও ফারুক আহমদ স্থান পেয়েছেন কমিটিতে।

[১৩] সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমানের ভাতিজা, চাচাতো ভাইও কমিটিতে রয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেও আছেন পাশাপাশি ভাগ্নে সাহিদ মিয়া, চাচাতো ভাই মোশাহিদ আলী, যুবলীগনেতা আব্দুল বাছিতকেও কমিটিতে এনেছেন। এছাড়াও এমপি আব্দুস শহীদসহ তাঁর আরো ৩ ভাই গুরুত্বপুর্ণ পদ পেয়েছেন।

[১৪] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের এক নেতা জানান, এখন আর দলের কাজ করা লাগে না। আত্মীয় নেতা হলেই পদ পাওয়া যায়। তার প্রমান কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের দাখিলকৃত কমিটি। বড় বড় নেতারা তাদের আত্মীয় স্বজনদের কমিটিতে ঠুকিয়েছেন। তাহলে বাকীরা কি করবেন।

[১৫] তিনি বলেন, পুরো কমিটি সিন্ডিকেট। এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সভাপতি,সম্পাদকের পছন্দ ও আত্মীয় স্বজনসহ প্রায় ২০জনই কমিটিতে রয়েছেন।

[১৬] মৌলভীবাজার জেলা কমিটিতে দাখিলকৃত উপজেলা কমিটির কথা জানাজানি হওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

[১৭] এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আজাদুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত