প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুড়িগ্রামে ২০ বছর আগের সংঘাতে ১৬ জন ভারতীয় রক্ষী যেভাবে নিহত হয়

মিনহাজুল আবেদীন: [২] উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামের একটি গ্রাম বড়াইবাড়ি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লাগোয়া এই গ্রামটি অবস্থিত। ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল এই গ্রামে ঘটে যায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিবিসি বাংলা

[৩] এই সংঘর্ষে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ’র ১৬ জন সৈন্য নিহত হয়। বিডিআরের (বিজিবি) ২ জন সৈন্য নিহত হয়।

[৪] গ্রামের সীমান্তের অপর পাশে ভারতের আসাম রাজ্যের অবস্থিত। ১৮ই এপ্রিল ভোর রাতে বড়াইগ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা তাদের কৃষিজমিতে সেচ কাজ দেখতে যান। এই সময় তারা দেখতে পান ধানক্ষেতে বহু সৈন্য অস্ত্র নিয়ে হাঁটছে। এই সৈন্যদের মধ্যে কয়েকজন এসে গ্রামবাসীর কাছে হিন্দি ভাষায় জানতে চায়, বিডিআরের ক্যাম্প কোথায়? তখন গ্রামবাসী বুঝতে পারেন এরা ভারতের বিএসএফের সদস্য।

[৫] রোববার বিবিসি বাংলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য সাইফুল ইসলাম লাল বলেন, বিএসএফ ঢুকে পড়ার খবরটি বিডিআর ক্যাম্পে আমি পৌঁছে দেয়। তখন সেই ক্যাম্পে মাত্র আটজন বিডিআর সদস্য ছিলো। তাদের বলা মাত্র বিডিআর সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। কিছুক্ষণ পরে আমি প্র¯্রাব করার জন্য বাইরে আসলে পুকুরের অপর পাড়ে বিএসফদের দেখতে পাই। দৌড়ে ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে খবরটি জানাতেই সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ফায়ার, চারিদিক থেকে শত শত গুলি।

[৬] তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে নিজেও অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। ভোর পাঁচটা থেকে তীব্র গোলাগুলির আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরা গ্রাম। নিজেদের সাহস ও মনোবল নিয়ে প্রথম চারঘণ্টা লড়াই করেছিলাম। এরই মধ্যে আশপাশের আরো দুটি বিডিআর ক্যাম্প থেকে ২০জন সদস্য আসেন।

[৭] ২০১৪ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রহুল আমিন বলেন, বিএসএফকে প্রতিরোধ করতে বিডিআরের সহায়তায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১২জন সদস্যকে একত্রিত করা হয়।

[৮] রুহুল আমিন বলেন, বিএসএফ বাংলাদেশের ঢুকলে অনেক গ্রামবাসী পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তারা আবার ফিরে আসেন। এরপর তারা বিডিআরের সঙ্গে মিলে বিএসএফের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ভোর পাঁচটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে প্রচন্ড গোলাগুলি হয়। তখন প্রায় কয়েকশ বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেছিলো।
[৯] তিনি বলেন, বিজিবির সদরদপ্তরের নির্দেশনায় জামালপুর এবং ময়মনসিংহ থেকে আরও বিডিআর সদস্য পাঠানো হয়। ১৮ই এপ্রিল ভোর পাঁচটা থেকে সকাল এগারোটা পর্যন্ত একটানা গোলাগুলি হয়। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ১৯ শে এপ্রিল রাত পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি চলে।

[১০] বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান ২০১২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো সিলেটের পদুয়াতে। বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে ভারতের বিএসএফ একটি ক্যাম্প করে দীর্ঘদিন জায়গা দখল করে ছিলো। আবার ২০০১ সালে ভারতের বিএসএফ তাদের পাশের আরেকটি ক্যাম্পের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করে, তাতে বিজিপি বাধা দিলেও তারা তাদের কাজ অব্যাহত রাখে। সম্পাদনা: রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত